সংবিধান সংস্কারের দাবিতে সরকারকে ১১-দলীয় ঐক্যের আলটিমেটাম
সংবিধান সংস্কার পরিষদের অধিবেশন ডাকার দাবিতে বিএনপি সরকারকে আগামীকাল রোববার (১৫ মার্চ) পর্যন্ত সময় বেঁধে দিয়েছে ১১-দলীয় নির্বাচনী ঐক্য। শনিবার জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত লিয়াজোঁ কমিটির জরুরি বৈঠক শেষে জোটের সমন্বয়ক ও জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ এই হুঁশিয়ারি দেন।
তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, যদি সরকার ‘জুলাই সনদ’ বাস্তবায়নে দ্রুত ব্যবস্থা না নেয়, তবে তারা জনগণকে সঙ্গে নিয়ে রাজপথে আন্দোলনে নামতে বাধ্য হবেন। জোটের অভিযোগ, বিএনপি সরকার গঠনের পর জুলাই সনদ ও সংবিধান সংস্কারের প্রশ্নে তাদের আগের অবস্থান থেকে ‘ইউটার্ন’ নিয়েছে। গণভোটে দেশের ৭০ শতাংশ মানুষ জুলাই সনদের পক্ষে রায় দিলেও সরকার কেবল জাতীয় সংসদের অধিবেশন ডেকেছে, কিন্তু সংস্কার পরিষদের শপথ বা অধিবেশনের কোনো উদ্যোগ নেয়নি। একে জাতির সঙ্গে এক ধরণের ‘বিশ্বাসঘাতকতা’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন জোটের নেতারা।
এছাড়া বৈঠকে ছয়টি সিটি করপোরেশনে প্রশাসক নিয়োগের তীব্র প্রতিবাদ জানানো হয়। জোটের মতে, এটি নির্বাচন বিলম্বিত করার একটি নতুন চক্রান্ত হতে পারে। একই সঙ্গে প্রশাসনে ঢালাও দলীয়করণ এবং পেশাদারত্ব নষ্ট করার অভিযোগও আনা হয়েছে সরকারের বিরুদ্ধে। আগামী ২৮ মার্চ জোটের শীর্ষ নেতাদের বৈঠকে পরবর্তী আন্দোলনের চূড়ান্ত রূপরেখা প্রণয়ন করা হবে। ব্রিফিংয়ে খেলাফত মজলিস, লেবার পার্টি, এলডিপিসহ জোটের শরিক দলের শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন। মূলত জুলাই সনদের পূর্ণ বাস্তবায়ন এবং সংবিধান সংস্কারের মাধ্যমেই রাষ্ট্রীয় সংকট নিরসন সম্ভব বলে মনে করছে এই ঐক্য।