সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন নিয়ে রাজপথে নামার হুঁশিয়ারি: আজই শেষ সময়
জুলাই জাতীয় সনদের আলোকে সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন ও এর প্রথম অধিবেশন আহ্বান নিয়ে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে চরম উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। আইন অনুযায়ী, জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ফলাফল গেজেট আকারে প্রকাশের ৩০ দিনের মধ্যে এই পরিষদের প্রথম অধিবেশন ডাকার বাধ্যবাধকতা রয়েছে, যার শেষ সময় আজ রোববার (১৫ মার্চ, ২০২৬)।
বর্তমান সংকটের মূল বিষয়গুলো নিচে তুলে ধরা হলো:
- অধিবেশন ও আন্দোলনের হুঁশিয়ারি: জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১-দলীয় নির্বাচনী ঐক্য আজ রোববারের মধ্যে সংবিধান সংস্কার পরিষদের অধিবেশন ডাকার দাবি জানিয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অধিবেশন ডাকা না হলে তারা রাজপথে কঠোর আন্দোলনে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে।
- শপথ নিয়ে রাজনৈতিক বিভক্তি: গত ১৭ ফেব্রুয়ারি নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ অনুষ্ঠানে জামায়াত ও এনসিপির সদস্যরা ‘সংসদ সদস্য’ এবং ‘সংস্কার পরিষদের সদস্য’ হিসেবে দুটি শপথই নিয়েছেন। তবে বিএনপি সদস্যরা দ্বিতীয় শপথটি বর্জন করেছেন। তাদের মতে, বর্তমানে সংবিধানে এই পরিষদের কোনো উল্লেখ নেই, তাই এটি এখন বাধ্যতামূলক নয়।
- আইনি ও সাংবিধানিক জটিলতা: জুলাই জাতীয় সনদ ও গণভোট অধ্যাদেশের বেশ কিছু ধারা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট হয়েছে। আদালত ইতিমধ্যে এই বিষয়ে রুল জারি করেছেন, যার ফলে সংস্কার প্রক্রিয়াটি অনেকটা ঝুলে গেছে।
- সংস্কারের সময়সীমা: নিয়ম অনুযায়ী, এই পরিষদকে প্রথম অধিবেশনের পর ১৮০ কার্যদিবসের মধ্যে জুলাই সনদের ৪৮টি প্রস্তাব অনুযায়ী সংবিধান সংস্কার সম্পন্ন করতে হবে। কিন্তু বড় দলগুলোর মধ্যে মতভেদ এবং সরকারের পক্ষ থেকে এখনও অধিবেশন না ডাকায় পুরো প্রক্রিয়াটি এখন অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।
আজকের সংসদ অধিবেশনেও বিষয়টি নিয়ে বিরোধী দলগুলোর পক্ষ থেকে কড়া প্রতিবাদের সম্ভাবনা রয়েছে। মূলত, জুলাই বিপ্লবের ফসল হিসেবে পরিচিত এই সংস্কার উদ্যোগ সফল হবে কি না, তা নিয়ে দেশজুড়ে প্রশ্ন উঠেছে।