সংবিধান সংস্কার পরিষদ নিয়ে সংসদে সরকারি ও বিরোধী দলের তুমুল বিতর্ক
জাতীয় সংসদে আজ জুলাই জাতীয় সনদ ও সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন নিয়ে বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের মধ্যে উত্তপ্ত বিতর্ক হয়েছে। বিরোধীদলীয় নেতা অভিযোগ করেন, ১৩ নভেম্বর ২০২৫-এর প্রেসিডেন্সিয়াল অর্ডার অনুযায়ী নির্বাচনের ৩০ দিনের মধ্যে সংস্কার পরিষদের অধিবেশন ডাকার কথা থাকলেও তা করা হয়নি। তিনি প্রশ্ন তোলেন, ৭০ শতাংশ মানুষ গণভোটে সংস্কারের পক্ষে রায় দিলেও কেন এই পরিষদ গঠন ও সদস্যদের শপথের বিষয়টি ঝুলে আছে।
জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, বিদ্যমান সংবিধানে ‘সংবিধান সংস্কার পরিষদ’ নামে কোনো কিছুর অস্তিত্ব নেই। ফলে প্রধানমন্ত্রী এ বিষয়ে রাষ্ট্রপতিকে কোনো পরামর্শ দিতে পারেন না এবং রাষ্ট্রপতিও অধিবেশন ডাকতে পারেন না। তিনি এই আদেশটিকে একটি ‘আরোপিত’ ও আইনিভাবে অস্পষ্ট বিষয় হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, রাষ্ট্র ইমোশন বা আবেগে চলে না, চলে আইন ও সংবিধান দিয়ে। গণভোটের রায়কে সম্মান দিলেও তা বাস্তবায়নের জন্য আগে সংবিধানে প্রয়োজনীয় সংশোধন আনতে হবে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও জানান, আদালত এই আদেশের বৈধতা নিয়ে রুল জারি করেছেন। তাই তড়িঘড়ি না করে বিষয়টি সংসদের কার্য উপদেষ্টা কমিটিতে আলোচনার প্রস্তাব দেন তিনি। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বিষয়টিকে অত্যন্ত জনগুরুত্বপূর্ণ অভিহিত করে বিরোধীদলীয় নেতাকে যথাযথ বিধি মেনে নোটিশ দেওয়ার পরামর্শ দেন।