আমানতকারীদের জয়! ৫ ব্যাংকের গ্রাহকদের মুনাফা দেওয়ার ঘোষণা বাংলাদেশ ব্যাংকের
আমানতকারীদের তীব্র ক্ষোভ ও প্রতিবাদের মুখে পিছু হটল বাংলাদেশ ব্যাংক। একীভূত হতে যাওয়া ৫টি ইসলামী ব্যাংকের গ্রাহকদের মুনাফা না দেওয়ার আগের সিদ্ধান্ত বাতিল করা হয়েছে। নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, এসব ব্যাংকের সাধারণ আমানতকারীরা এখন থেকে তাদের জমানো টাকার ওপর মুনাফা পাবেন।
বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি, ২০২৬) বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলোর কাছে পাঠানো এক চিঠিতে এই সংশোধিত সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়েছে। এর আগে কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানিয়েছিল, ২০২৪ ও ২০২৫ সালে আমানতের ওপর কোনো মুনাফা দেওয়া হবে না। এই খবরে গ্রাহকদের মধ্যে ব্যাপক অসন্তোষ তৈরি হয় এবং ব্যাংকগুলোতে অস্থিরতা দেখা দেয়।
মুনাফার হার ও সময়সীমা
বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক, ইউনিয়ন ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক এবং এক্সিম ব্যাংকের গ্রাহকরা মুনাফা পাবেন। মুদারাবা সেভিংস ও মেয়াদি আমানতকারীরা ২০২৪ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ২০২৫ সালের ২৮ ডিসেম্বর পর্যন্ত সময়ের জন্য মুনাফা পাবেন।
তবে এই মুনাফার হার নির্ধারিত হয়েছে ৪ শতাংশ (অস্থায়ী)। চিঠিতে স্পষ্ট করা হয়েছে, এই সুবিধা কেবল ব্যক্তিগত বা সাধারণ আমানতকারীদের জন্য প্রযোজ্য হবে। প্রাতিষ্ঠানিক আমানতকারীরা এই সুবিধার আওতায় পড়বেন না। মুনাফা বণ্টনে স্বচ্ছতা আনতেই এই হার নির্ধারণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা।
কেন আগের সিদ্ধান্ত পরিবর্তন হলো?
গত সপ্তাহে মুনাফা না দেওয়ার ঘোষণা আসার পরপরই আমানতকারীরা রাস্তায় নেমে আসেন। বেশ কিছু ব্যাংকের শাখায় গ্রাহকরা বিক্ষোভ করেন এবং ব্যাংকিং কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়ে। গ্রাহকদের জমানো টাকা এবং এর ওপর অর্জিত লভ্যাংশ নিয়ে এমন অনিশ্চয়তা তৈরি হওয়ায় কেন্দ্রীয় ব্যাংক তাদের অবস্থান পরিবর্তন করতে বাধ্য হয়।
উল্লেখ্য, এই পাঁচটি ব্যাংক একীভূত হয়ে ‘সাম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক পিএলসি’ নামে একটি নতুন রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংক গঠিত হতে যাচ্ছে। এই একীভূতকরণ প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবেই ব্যাংকের আর্থিক হিসাব সমন্বয় করা হচ্ছে। তবে ইতোমধ্যেই যারা ৪ শতাংশের বেশি মুনাফা তুলে নিয়েছেন, তাদের ক্ষেত্রে সেই টাকা পুনর্গণনা ও সমন্বয় করা হবে।
আরো পড়ুন:- প্রকাশ হলো প্রাথমিকের ফল: আপনার রোল নম্বরটি আছে তো?
বন্ডে বিনিয়োগকারীদের ঝুঁকি বাড়ছে
আমানতকারীরা স্বস্তি পেলেও দুশ্চিন্তায় আছেন বন্ডে বিনিয়োগকারীরা। তথ্যানুযায়ী, এই ব্যাংকগুলোর কাছে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের প্রায় ৩ হাজার ৯০০ কোটি টাকার বন্ড দেনা আছে। ব্যাংকিং খাতে এক ব্যাংক অন্য ব্যাংকের বন্ড কিনে মূলধন শক্তিশালী দেখানোর যে ‘ক্রস-বাইং’ পদ্ধতি অনুসরণ করেছিল, তার নেতিবাচক প্রভাব এখন দৃশ্যমান।
আরো জানতে ভিজিট করুন
যেহেতু বন্ডের টাকার কোনো বিমা সুরক্ষা নেই, তাই ব্যাংকগুলো একীভূত হওয়ার পর এই বিশাল অংকের পাওনা ফেরত পাওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, ঝুঁকি ব্যাংকিং খাতের ভেতরেই আবর্তিত হওয়ায় এখন মূলধনের মানে বড় ধরনের টান পড়েছে। তবে সাধারণ আমানতকারীদের স্বার্থ রক্ষায় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এই ইউ-টার্নকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন অনেকে।
আরো পড়ুন:- বেতন হচ্ছে দ্বিগুণ! কবে থেকে টাকা পাবেন সরকারি চাকুরেরা?