বেতন বন্ধ ও আদালত অবমাননা: ফেঁসে যাচ্ছেন আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার - Trend Bd

বেতন বন্ধ ও আদালত অবমাননা: ফেঁসে যাচ্ছেন আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার

আদালতের আদেশ অমান্য করা এবং প্রশাসনিক অনিয়মের অভিযোগে ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার মো. আয়ুব হোসেনকে তলব করেছেন হাইকোর্ট। আগামী ৩ ফেব্রুয়ারি তাকে সশরীরে আদালতে উপস্থিত হয়ে নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করতে বলা হয়েছে। বিচারপতি ফাহমিদা কাদের ও বিচারপতি জাহেদ মনসুরের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ এই আদেশ দেন।

ঘটনার সূত্রপাত ও আইনি জটিলতা

মূল ঘটনার শুরু হয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-রেজিস্ট্রার ড. মো. আবু হানিফার বেতন-ভাতা বন্ধ হওয়াকে কেন্দ্র করে। ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে তাকে চাকরি থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছিল। তবে ২০২৪ সালে হাইকোর্ট সেই আদেশকে অবৈধ ঘোষণা করেন। এরপর ২০২৫ সালের আগস্টে তাকে পুনর্বহাল করা হলেও তার বকেয়া বেতন-ভাতা পরিশোধ করেনি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

আদালতের নির্দেশ ছিল, যোগদানের দিন থেকেই তাকে সব সুযোগ-সুবিধা দিতে হবে। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ‘সিন্ডিকেটের সিদ্ধান্ত’র অজুহাতে সেই নির্দেশ পালনে গড়িমসি করে। এমনকি তার যোগদানপত্র বাতিলের মতো কঠোর পদক্ষেপও নেওয়া হয়, যা পরবর্তীতে আদালত পুনরায় স্থগিত করে দেন।

কেন এই তলব?

হাইকোর্টের দেওয়া সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা থাকা সত্ত্বেও তা বাস্তবায়ন না করায় গত ২০ জুলাই উপাচার্য ও রেজিস্ট্রারের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার রুল জারি করা হয়েছিল। গত ৬ জানুয়ারি আপিল বিভাগও এ বিষয়ে কোনো স্থগিতাদেশ না দিয়ে আবেদন খারিজ করে দেন।

আদালত লক্ষ্য করেছেন যে, রেজিস্ট্রারের গাফিলতির কারণেই বিচারপ্রার্থী তার ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। বারবার নির্দেশ দেওয়ার পরও তা কার্যকর না হওয়াকে আদালত অবমাননা হিসেবে গণ্য করা হয়েছে। এ কারণেই তাকে সরাসরি আদালতে হাজিরা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

আরো পড়ুন:-বন্ধ হচ্ছে ৬ আর্থিক প্রতিষ্ঠান: টাকা ফেরত পাবেন আমানতকারীরা

প্রশাসনিক বিশৃঙ্খলা ও নতুন বিতর্ক

আদালত অবমাননার পাশাপাশি বর্তমান উপাচার্য প্রফেসর ড. শামুল আলমের বিরুদ্ধেও বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। ইউজিসির নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও যথাযথ প্রক্রিয়া না মেনে বেশ কয়েকজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা নিয়োগ দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে। সিন্ডিকেটের অনুমোদন বা নিয়োগ কমিটির সুপারিশ ছাড়াই এসব নিয়োগের ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ে ব্যাপক প্রশাসনিক বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আদালতের নির্দেশ উপেক্ষা এবং নিয়মনীতি না মেনে নিয়োগ দেওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ের সামগ্রিক শিক্ষার পরিবেশ ও প্রশাসনিক স্বচ্ছতা হুমকির মুখে পড়েছে। ৩ ফেব্রুয়ারির শুনানিতে রেজিস্ট্রার কী ব্যাখ্যা দেন, এখন সেদিকেই সবার নজর। আরো জানতে ভিজিট করুন।

Leave a Comment