ব্যক্তিশ্রেণির করদাতাদের জন্য বড় সুখবর নিয়ে এলো জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। ২০২৪-২৫ করবর্ষের আয়কর রিটার্ন দাখিলের সময়সীমা তৃতীয় দফায় আরও এক মাস বাড়ানো হয়েছে। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, করদাতারা আগামী ২৮শে ফেব্রুয়ারি ২০২৬ পর্যন্ত কোনো জরিমানা ছাড়াই তাদের আয়কর রিটার্ন জমা দিতে পারবেন।
কেন বাড়ানো হলো রিটার্ন দাখিলের সময়?
এনবিআর সূত্রে জানা গেছে, মূলত ১২ই ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠেয় জাতীয় নির্বাচন এবং অনলাইনে রিটার্ন দাখিলের নতুন ব্যবস্থার সাথে করদাতাদের খাপ খাইয়ে নিতে এই সময় বাড়ানো হয়েছে। অনেক করদাতা নির্বাচনের ব্যস্ততা এবং যান্ত্রিক প্রস্তুতির অভাবে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করতে পারেননি।
এনবিআরের একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, এবারের আয়কর আইনে বড় ধরনের পরিবর্তন আনা হয়েছে। বিশেষ করে অনলাইনে ‘ই-রিটার্ন’ দাখিল বাধ্যতামূলক করায় অনেকের প্রস্তুতির প্রয়োজন ছিল। করদাতাদের ভোগান্তি কমাতে এবং ট্যাক্স নেট বাড়াতে সরকার এই নমনীয় সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
অনলাইনে রিটার্ন জমা এখন আরও সহজ
গত বছরের আয়কর আইন-২০২৩ অনুযায়ী, রিটার্ন জমা দেওয়ার শেষ সময় ছিল ৩০শে নভেম্বর। তবে দফায় দফায় সময় বাড়িয়ে এখন তা ফেব্রুয়ারির শেষ দিন পর্যন্ত করা হলো। এবারের বিশেষ বৈশিষ্ট্য হলো, অনলাইনে রিটার্ন জমা দিলে কোনো বাড়তি কাগজ বা নথিপত্র আপলোড করার প্রয়োজন পড়ছে না।
করদাতারা এখন শুধুমাত্র প্রয়োজনীয় নথির তথ্য ইনপুট দিয়েই সহজে রিটার্ন জমা দিতে পারছেন। এনবিআর আশা করছে, এই সহজ পদ্ধতির ফলে এ বছর রিটার্ন দাখিলের সংখ্যা গত বছরের তুলনায় উল্লেখযোগ্য হারে বাড়বে।
আরো পড়ুন:-বেতন বন্ধ ও আদালত অবমাননা: ফেঁসে যাচ্ছেন আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার
কাদের জন্য ই-রিটার্ন বাধ্যতামূলক?
এ বছর নির্দিষ্ট কিছু শ্রেণি বাদে সব ব্যক্তিশ্রেণির করদাতার জন্য ই-রিটার্ন দাখিল বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। তবে ৬৫ বছরের বেশি বয়সী প্রবীণ নাগরিক, বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ব্যক্তি, প্রবাসে থাকা বাংলাদেশি এবং বাংলাদেশে কর্মরত বিদেশি নাগরিকদের জন্য এই বাধ্যবাধকতা শিথিল রাখা হয়েছে। অবশ্য তারাও চাইলে অনলাইনে রিটার্ন জমা দিতে পারবেন।
আজ বৃহস্পতিবার এ বিষয়ে এনবিআর থেকে আনুষ্ঠানিক প্রজ্ঞাপন জারি করা হতে পারে। যারা এখনও রিটার্ন জমা দেননি, তাদের শেষ মুহূর্তের ভিড় এড়াতে দ্রুত এই বাড়তি সময়ের সুযোগ নেওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। আরো জানতে ভিজিট করুন।