সোনার বাজার নিয়ে এখন বিশ্বজুড়ে তোলপাড় চলছে। কয়েক দিনের ব্যবধানেই এর দাম যেমন আকাশ ছুঁয়েছে, তেমনি আবার হঠাৎ করে বড় পতনও দেখা গেছে। বাংলাদেশেও এর প্রভাব পড়েছে সরাসরি। দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ দামে পৌঁছানোর পর হঠাৎ করেই প্রতি ভরিতে ৩০ হাজার টাকা কমেছে সোনার দাম।
বিশ্বের রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং বড় বড় দেশের বাণিজ্য যুদ্ধের কারণে এই অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। মূলত বিনিয়োগকারীরা যখন অন্য কোথাও টাকা রাখা অনিরাপদ মনে করেন, তখনই সোনার দিকে ঝুঁকে পড়েন। চলুন জেনে নেওয়া যাক, সোনার দাম কেন এত বাড়ল আর কেনই বা এখন কমতে শুরু করেছে।
সোনার দামে কেন আগুন লেগেছিল?
গত কয়েক দিনে আন্তর্জাতিক বাজারে সোনার দাম আউন্সপ্রতি ৫ হাজার ডলারের রেকর্ড সীমা অতিক্রম করেছিল। এর সরাসরি প্রভাব পড়ে আমাদের দেশের বাজারেও। গত বৃহস্পতিবার এক ভরি সোনার দাম দাঁড়িয়েছিল ২ লাখ ৮৬ হাজার টাকা, যা দেশের ইতিহাসে এক অনন্য রেকর্ড।
এর পেছনে প্রধান কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কঠোর বাণিজ্য নীতিকে। বিভিন্ন দেশের পণ্যের ওপর মাত্রাতিরিক্ত শুল্ক আরোপের ঘোষণা বিনিয়োগকারীদের শঙ্কিত করে তুলেছে। ফলে তারা নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে স্বর্ণ বা সোনা কিনে রাখছেন। এছাড়া ইউক্রেন ও গাজার যুদ্ধ পরিস্থিতিও এই অস্থিরতাকে আরও উসকে দিয়েছে।
ট্রাম্পের নতুন নীতি ও বৈশ্বিক অস্থিরতা
সোনার দাম বাড়ার পেছনে ট্রাম্পের গ্রিনল্যান্ড সংক্রান্ত পরিকল্পনাও বড় ভূমিকা রেখেছে। তিনি আটটি ইউরোপীয় দেশের ওপর নতুন শুল্ক আরোপের হুমকি দিয়েছেন। যখনই শেয়ারবাজার বা ডলারের মান নিয়ে ঝুঁকি দেখা দেয়, তখনই সোনার দাম হু হু করে বাড়তে থাকে।
আরেকটি মজার বিষয় হলো, এখন কেবল সাধারণ মানুষই নয়, বরং বিভিন্ন দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোও প্রচুর সোনা কিনছে। ডলারের ওপর নির্ভরশীলতা কমাতে অনেক দেশ তাদের রিজার্ভে সোনার পরিমাণ বাড়াচ্ছে। এমনকি ‘টেথার’-এর মতো ডিজিটাল মুদ্রা কোম্পানিগুলোও এখন বড় আকারে সোনা মজুত করছে।
হঠাৎ দাম কমছে কেন?
সোনার দাম রেকর্ড পরিমাণ বাড়ার পর গত শুক্র ও শনিবার দুই দফায় বড় পতন হয়েছে। বাংলাদেশে প্রতি ভরিতে প্রায় ৩০ হাজার টাকা কমেছে। এর পেছনে মূল কারণ হলো যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভের নতুন চেয়ারম্যান নিয়োগের খবর।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প কেভিন ওয়ার্শকে ফেডারেল রিজার্ভের চেয়ারম্যান হিসেবে মনোনীত করেছেন। বিনিয়োগকারীরা তাকে একজন স্থিতিশীল ও আস্থাশীল ব্যক্তি হিসেবে মনে করেন। এই খবরের পর ডলারের মান আবার স্থিতিশীল হতে শুরু করেছে এবং সোনার বাজার কিছুটা ঠান্ডা হয়েছে। তবে দাম কমলেও তা গত বছরের তুলনায় এখনো অনেক বেশি।
আরো পড়ুন:-সোনার দামে বিশাল ধস: এক দিনেই কমলো ১৪,৬০০ টাকা!
সোনা কি এখনো নিরাপদ বিনিয়োগ?
বিশেষজ্ঞদের মতে, সোনা এমন একটি সম্পদ যা সরাসরি কারো ঋণের ওপর নির্ভর করে না। অর্থাৎ যুদ্ধের সময় বা বড় রাজনৈতিক রদবদলে এর মান খুব একটা কমে না। অতি অনিশ্চিত সময়ে সোনা সবসময়ই একটি কার্যকর মাধ্যম।
তবে বর্তমান বাজার বেশ অস্থির। আন্তর্জাতিক সংবাদ এবং বড় দেশগুলোর সিদ্ধান্তের ওপর ভিত্তি করে যে কোনো সময় সোনার দামে বড় রদবদল হতে পারে। তাই যারা দীর্ঘমেয়াদী বিনিয়োগের কথা ভাবছেন, তাদের জন্য বর্তমান বাজার পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা জরুরি। আরো জানতে ভিজিট করুন।