সড়ক ও জনপথ বিভাগে বিশাল নিয়োগ ২০২৬, আবেদন করবেন যেভাবে - Trend Bd

সড়ক ও জনপথ বিভাগে বিশাল নিয়োগ ২০২৬, আবেদন করবেন যেভাবে

সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরে (RHD) কাজ করার স্বপ্ন দেখেন অনেকেই। দেশের অবকাঠামো উন্নয়নে এই প্রতিষ্ঠানটির ভূমিকা অপরিসীম। সম্প্রতি ২০২৬ সালের জন্য ১৮৮টি শূন্যপদে নতুন নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে অধিদপ্তরটি।

আপনি যদি সরকারি চাকরির খোঁজ করে থাকেন, তবে এটি আপনার জন্য একটি চমৎকার সুযোগ হতে পারে। এই নিয়োগ প্রক্রিয়ায় পাঁচটি ভিন্ন ভিন্ন পদে লোকবল নেওয়া হচ্ছে। আবেদন প্রক্রিয়া ইতিমধ্যে শুরু হয়ে গেছে।

নিচে সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের এই নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির বিস্তারিত খুঁটিনাটি আলোচনা করা হলো। আবেদন করার আগে প্রতিটি তথ্য ভালো করে পড়ে নেওয়া জরুরি।

সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরে বড় নিয়োগ: ১৮৮টি শূন্যপদে আবেদনের সুবর্ণ সুযোগ

বাংলাদেশ সরকারের সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর এক বিশাল নিয়োগের ঘোষণা দিয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি তাদের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজের গতি বাড়াতে ১৮৮ জন নতুন কর্মী নিয়োগ দিচ্ছে।

এই নিয়োগে মূলত পাঁচটি ক্যাটাগরিতে ভাগ করে দক্ষ জনবল চাওয়া হয়েছে। আবেদনকারীকে অবশ্যই অনলাইনে আবেদন করতে হবে। সরাসরি বা অন্য কোনো উপায়ে আবেদন গ্রহণ করা হবে না।

আবেদন প্রক্রিয়াটি গত ২৯ জানুয়ারি ২০২৬ থেকে শুরু হয়েছে। আগ্রহী প্রার্থীদের আগামী ৫ মার্চ ২০২৬ তারিখের মধ্যে আবেদন সম্পন্ন করতে হবে। সময় থাকতে আবেদন করা বুদ্ধিমানের কাজ।

কোন পদে কতজন নিয়োগ পাবেন? (বিস্তারিত তালিকা)

সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের এবারের বিজ্ঞপ্তিতে পদের বৈচিত্র্য রয়েছে। এখানে সাধারণ কর্মী থেকে শুরু করে কারিগরি দক্ষতাসম্পন্ন ব্যক্তিদের জন্য সুযোগ রাখা হয়েছে। পদের নাম ও লোকসংখ্যা নিচে দেওয়া হলো:

১. সার্ভেয়ার: এই পদে মোট ৯ জনকে নিয়োগ দেওয়া হবে। যারা ভূমি জরিপ বা সংশ্লিষ্ট কাজে আগ্রহী, তাদের জন্য এটি দারুণ সুযোগ। এটি ১৪তম গ্রেডের একটি পদ।

২. সিকিউরিটি সুপারভাইজার: নিরাপত্তা ব্যবস্থা তদারকি করার জন্য ৪ জনকে নিয়োগ দেওয়া হবে। স্নাতক ডিগ্রিধারীরা এই পদের জন্য অগ্রাধিকার পাবেন। এটি ১৫তম গ্রেডের চাকরি।

৩. ইঞ্জিন চালক: ১৬ জন দক্ষ ইঞ্জিন চালক নিয়োগ দেবে অধিদপ্তর। যারা কারিগরি কাজে দক্ষ এবং নির্দিষ্ট অভিজ্ঞতা রাখেন, তারা এখানে আবেদন করতে পারেন। এটিও ১৫তম গ্রেডের পদ।

৪. ওয়ার্ক অ্যাসিস্ট্যান্ট: বিজ্ঞপ্তিতে ওয়ার্ক অ্যাসিস্ট্যান্ট পদে ৫২ জনকে নিয়োগের কথা বলা হয়েছে। এটি ১৬তম গ্রেডের পদ এবং বেশ জনপ্রিয় একটি পদমর্যাদা।

৫. নিরাপত্তা প্রহরী (সিকিউরিটি গার্ড): সবচেয়ে বেশি লোক নেওয়া হবে এই পদে। মোট ১০৭ জনকে নিয়োগ দেওয়া হবে এই ক্যাটাগরিতে। এটি ২০তম গ্রেডের একটি পদ।

আরো পড়ুন:-এপেক্সে ক্যারিয়ার গড়ার সুযোগ: নিয়োগ পাচ্ছেন ৫ জন ইঞ্জিনিয়ার!

শিক্ষাগত যোগ্যতা ও বেতন স্কেল

প্রতিটি পদের জন্য আলাদা আলাদা শিক্ষাগত যোগ্যতা এবং বেতন কাঠামো নির্ধারণ করা হয়েছে। সরকারি বেতন স্কেল ২০১৫ অনুযায়ী এই সুবিধাগুলো দেওয়া হবে। বিস্তারিত জেনে নিন:

সার্ভেয়ার পদের জন্য আপনাকে মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট বা এসএসসি পাস হতে হবে। তবে কারিগরি জ্ঞান থাকা আবশ্যক। এর বেতন স্কেল ১০,২০০ থেকে ২৪,৬৮০ টাকা।

সিকিউরিটি সুপারভাইজার পদের জন্য সাধারণত স্নাতক ডিগ্রি প্রয়োজন। তবে যারা ইতিমধ্যে বিভাগীয় প্রার্থী হিসেবে কাজ করছেন, তাদের ক্ষেত্রে এইচএসসি পাস হলেও চলবে। এর বেতন ৯,৭০০ থেকে ২৩,৪৯০ টাকা।

ইঞ্জিন চালক পদের জন্য এসএসসি বা সমমানের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হবে। কারিগরি কাজে দক্ষতা থাকলে নিয়োগের সম্ভাবনা বেড়ে যায়। এই পদের বেতন স্কেল ৯,৭০০ থেকে ২৩,৪৯০ টাকা।

ওয়ার্ক অ্যাসিস্ট্যান্ট পদে আবেদনের জন্য আপনাকে উচ্চমাধ্যমিক বা এইচএসসি পাস হতে হবে। এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ ফিল্ড লেভেল জব। এর বেতন স্কেল ৯,৩০০ থেকে ২২,৪৯০ টাকা।

নিরাপত্তা প্রহরী পদের জন্য ন্যূনতম এসএসসি পাস প্রার্থীরা আবেদন করতে পারবেন। শারীরিক গঠন ও উচ্চতার দিকেও নজর দেওয়া হতে পারে। এর বেতন স্কেল ৮,২৫০ থেকে ২০,০১০ টাকা।

আরো পড়ুন:-নগদে ম্যানেজার পদে নিয়োগ ২০২৬: সপ্তাহে ২ দিন ছুটি ও বোনাস

আবেদনের যোগ্যতা ও বয়সসীমা

সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরে আবেদনের জন্য নির্দিষ্ট কিছু শর্ত মেনে চলতে হবে। আবেদনকারীকে অবশ্যই বাংলাদেশের স্থায়ী নাগরিক হতে হবে। চাকরির বয়সসীমা সরকারি বিধি অনুযায়ী নির্ধারিত হবে।

সাধারণ প্রার্থীদের ক্ষেত্রে বয়সসীমা ১৮ থেকে ৩০ বছরের মধ্যে হতে হবে। তবে মুক্তিযোদ্ধা কোটা বা শারীরিক প্রতিবন্ধীদের ক্ষেত্রে বয়স ৩২ বছর পর্যন্ত শিথিলযোগ্য।

বয়স নির্ধারণের ক্ষেত্রে কোনো এফিডেভিট বা হলফনামা গ্রহণযোগ্য হবে না। জন্মনিবন্ধন বা জাতীয় পরিচয়পত্র অনুযায়ী আপনার বয়স যাচাই করা হবে। তাই আবেদনের সময় সঠিক তথ্য প্রদান করুন।

যেসব প্রার্থী ইতিমধ্যে অন্য কোনো সরকারি বা স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে কর্মরত আছেন, তাদের যথাযথ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে আবেদন করতে হবে। কোনো তথ্য গোপন করা হলে পরবর্তীতে সমস্যা হতে পারে।

আবেদন করার সঠিক নিয়ম (ধাপে ধাপে নির্দেশিকা)

সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের আবেদন প্রক্রিয়াটি সম্পূর্ণ অনলাইনভিত্তিক। নিচের ধাপগুলো অনুসরণ করে আপনি সহজেই আপনার আবেদন জমা দিতে পারেন:

প্রথমে অধিদপ্তরের অফিশিয়াল ওয়েবসাইট অথবা নির্ধারিত টেলিটক লিংকে প্রবেশ করুন। বিজ্ঞপ্তির লিংকটি সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের পোর্টালে পাওয়া যাবে।

সেখানে গিয়ে আপনার পছন্দের পদটি নির্বাচন করুন। এরপর একটি অনলাইন আবেদন ফরম ওপেন হবে। ফরমে আপনার নাম, বাবার নাম, মাতার নাম এবং ঠিকানা নির্ভুলভাবে লিখুন।

শিক্ষাগত যোগ্যতার ঘরগুলো পূরণের সময় রোল নম্বর ও পাসের সাল সতর্কতার সাথে লিখুন। আপনার একটি সচল মোবাইল নম্বর ও ইমেইল ঠিকানা দিন। পরবর্তী সব যোগাযোগ এই নম্বরেই করা হবে।

আবেদনের শেষ পর্যায়ে আপনার রঙিন ছবি এবং স্বাক্ষর আপলোড করতে হবে। ছবির সাইজ ৩০০x৩০০ পিক্সেল এবং স্বাক্ষরের সাইজ ৩০০x৮০ পিক্সেল হতে হবে। সব শেষে ফরমটি পুনরায় যাচাই করে সাবমিট করুন।

আরো পড়ুন:-স্বর্ণের দামে নতুন ইতিহাস: আউন্সপ্রতি ৫৬০০ ডলার ছুঁইছুঁই!

আবেদন ফি জমা দেওয়ার পদ্ধতি

অনলাইনে আবেদন ফরম পূরণ করলেই আপনার আবেদন সম্পন্ন হবে না। আপনাকে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আবেদন ফি জমা দিতে হবে। ফি জমা দিতে টেলিটক প্রিপেইড সিম ব্যবহার করতে হয়।

আবেদন সাবমিট করার পর আপনি একটি ‘ইউজার আইডি’ (User ID) পাবেন। এই আইডি ব্যবহার করে দুটি এসএমএস-এর মাধ্যমে ফি জমা দিতে হবে। প্রতিটি পদের জন্য ফি আলাদা হতে পারে।

প্রথম এসএমএস: RHD <Space> User ID লিখে ১৬২২২ নম্বরে পাঠান। ফিরতি এসএমএস-এ আপনাকে একটি পিন নম্বর দেওয়া হবে এবং কত টাকা কাটা হবে তা জানানো হবে।

দ্বিতীয় এসএমএস: RHD <Space> YES <Space> PIN লিখে পুনরায় ১৬২২২ নম্বরে পাঠান। আপনার সিম থেকে টাকা কেটে নেওয়া হবে এবং একটি কনফার্মেশন মেসেজ আসবে।

মনে রাখবেন, টাকা জমা না দিলে আপনার অনলাইন আবেদনটি কোনোভাবেই গৃহীত হবে না। তাই এসএমএস পাঠানোর পর সাকসেসফুল মেসেজটি সংরক্ষণ করে রাখুন।

পরীক্ষার প্রস্তুতি নেবেন কীভাবে?

সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের পরীক্ষা সাধারণত লিখিত এবং মৌখিক—এই দুই ধাপে হয়ে থাকে। কিছু পদের জন্য ব্যবহারিক পরীক্ষাও নেওয়া হতে পারে। তাই প্রস্তুতি নিতে হবে আগে থেকেই।

বাংলা, ইংরেজি, গণিত এবং সাধারণ জ্ঞান—এই চারটি বিষয়ের ওপর মূলত প্রশ্ন করা হয়। বিগত বছরের আরএইচডি (RHD) পরীক্ষার প্রশ্নগুলো সমাধান করলে ভালো ধারণা পাওয়া যাবে।

সাধারণ জ্ঞানের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের যোগাযোগ ব্যবস্থা, বড় বড় সেতু এবং পদ্মা সেতু সম্পর্কে তথ্য জেনে রাখুন। এছাড়া সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের বর্তমান কার্যক্রম নিয়েও প্রশ্ন আসতে পারে।

লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হলে আপনাকে মৌখিক পরীক্ষার জন্য ডাকা হবে। মৌখিক পরীক্ষায় প্রার্থীর আত্মবিশ্বাস এবং সংশ্লিষ্ট পদের কাজের ধরন সম্পর্কে জ্ঞান যাচাই করা হয়।

আরো পড়ুন:-আয়কর রিটার্নের সময় বাড়ল: শেষ সময় ২৮শে ফেব্রুয়ারি ২০২৬

কেন সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরে চাকরি করবেন?

সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরে চাকরি করা অনেকের কাছেই গৌরবের বিষয়। এটি সরকারের একটি সম্মানজনক এবং প্রভাবশালী বিভাগ। এখানে ক্যারিয়ার গড়ার অনেক সুযোগ রয়েছে।

সরকারি চাকরির নিশ্চয়তার পাশাপাশি এখানে রয়েছে নিয়মিত বেতন বৃদ্ধি ও পদোন্নতির ব্যবস্থা। এছাড়া সরকারি আবাসন, চিকিৎসা ভাতা এবং উৎসব ভাতার মতো সুবিধা তো থাকছেই।

যাতায়াত ব্যবস্থার আধুনিকায়নে আপনি সরাসরি ভূমিকা রাখতে পারবেন। দেশজুড়ে কাজ করার সুযোগ থাকায় আপনার অভিজ্ঞতা ও নেটওয়ার্ক বাড়বে। দীর্ঘমেয়াদী পেনশনের সুবিধা তো বোনাস হিসেবে থাকছেই।

যারা কাজ পাগল এবং মাঠপর্যায়ে সরাসরি কাজ করতে পছন্দ করেন, তাদের জন্য এই বিভাগটি সেরা। বিশেষ করে ওয়ার্ক অ্যাসিস্ট্যান্ট বা সার্ভেয়ার পদগুলো বেশ চ্যালেঞ্জিং এবং সম্মানজনক।

আবেদনের সময় যেসব ভুল করবেন না

অনেক সময় ছোটখাটো ভুলের কারণে অনেক যোগ্য প্রার্থীর আবেদন বাতিল হয়ে যায়। তাই কিছু বিষয়ে সতর্ক থাকা খুব জরুরি।

প্রথমত, আবেদন ফরমে কোনো বানান ভুল করবেন না। বিশেষ করে নিজের নাম এবং জন্ম তারিখ এনআইডি (NID) কার্ডের সাথে মিলিয়ে দিন।

দ্বিতীয়ত, ছবি এবং স্বাক্ষর ঝাপসা দেবেন না। পরিষ্কার এবং বর্তমান সময়ের ছবি ব্যবহার করুন। চশমা বা টুপি পরা ছবি এড়িয়ে চলাই ভালো।

তৃতীয়ত, আবেদনের শেষ তারিখের জন্য অপেক্ষা করবেন না। শেষ সময়ে সার্ভার জ্যাম থাকার সম্ভাবনা থাকে। এতে আপনার আবেদন জমা নাও হতে পারে।

চতুর্থত, কোটা থাকলে তা সঠিকভাবে উল্লেখ করুন। যদি আপনার মুক্তিযোদ্ধা বা অন্য কোনো কোটা থাকে, তবে প্রয়োজনীয় সার্টিফিকেট হাতের কাছে রাখুন। ভাইভার সময় এই ডকুমেন্টস লাগবে।

আরো পড়ুন:-বেতন বন্ধ ও আদালত অবমাননা: ফেঁসে যাচ্ছেন আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার

জরুরি তারিখ ও সময়সূচি একনজরে

নিচে গুরুত্বপূর্ণ তারিখগুলো আবার মনে করিয়ে দেওয়া হলো:

  • আবেদন শুরুর তারিখ: ২৯ জানুয়ারি ২০২৬ (সকাল ৯টা)।
  • আবেদনের শেষ তারিখ: ০৫ মার্চ ২০২৬ (বিকেল ৫টা)।
  • আবেদন ফি জমাদানের সময়: আবেদন করার পরবর্তী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে ফি জমা দিতে হবে।

সময় থাকতে অনলাইনে আবেদন করে প্রস্তুতি শুরু করে দিন। সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের মতো প্রতিষ্ঠানে নিজের ক্যারিয়ার গড়ার এটিই মোক্ষম সুযোগ।

যেকোনো প্রয়োজনে অধিদপ্তরের অফিশিয়াল ওয়েবসাইট নিয়মিত ভিজিট করুন। সেখানে পরীক্ষার তারিখ ও প্রবেশপত্র ডাউনলোডের আপডেট পাওয়া যাবে। আপনার জন্য শুভকামনা রইল। আরো জানতে ভিজিট করুন।

Leave a Comment