বিদেশের মাটিতে বাংলার জয়জয়কার! কুয়েতে পাকিস্তান-ভারতকে উড়িয়ে চ্যাম্পিয়ন বাংলাদেশ
মরুর দেশ কুয়েতে লাল-সবুজের বিজয় নিশান উড়ালো প্রবাসী বাংলাদেশিরা। তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ সামার লিগ ক্রিকেট টুর্নামেন্ট ২০২৫-এর ফাইনালে প্রতিপক্ষকে হারিয়ে শিরোপা জিতেছে বাংলাদেশ ফ্রেন্ডস স্পোর্টিং ক্লাব। এশিয়ার ক্রিকেট পরাশক্তি পাকিস্তান, ভারত, আফগানিস্তান ও শ্রীলঙ্কার দলগুলোকে পেছনে ফেলে এই গৌরব অর্জন করে তারা।
কুয়েত বাংলাদেশ ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশনের আয়োজনে দীর্ঘ তিন মাস ধরে চলে এই টুর্নামেন্ট। গত শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) আল রাই ক্রিকেট গ্রাউন্ডে জমকালো ফাইনাল ম্যাচের মধ্য দিয়ে পর্দা নামে এই আসরের। ফাইনালে জেলিব নাইট রাইডার্সকে হারিয়ে উল্লাসে মেতে ওঠে প্রবাসী বাংলাদেশি সমর্থকরা।
রুদ্ধশ্বাস ফাইনাল: সোহাগ জাসিমের ব্যাটিং তাণ্ডব
ফাইনাল ম্যাচে টসে জিতে প্রথমে ব্যাটিং করার সিদ্ধান্ত নেয় জেলিব নাইট রাইডার্স। নির্ধারিত ২০ ওভারে ৮ উইকেট হারিয়ে তারা ১৯৪ রানের একটি বিশাল সংগ্রহ দাঁড় করায়। জয়ের জন্য ১৯৫ রানের লক্ষ্যে খেলতে নেমে শুরুতেই কিছুটা চাপে পড়েছিল বাংলাদেশ ফ্রেন্ডস স্পোর্টিং ক্লাব।
তবে খেলার মোড় ঘুরিয়ে দেন তারকা ক্রিকেটার সোহাগ জাসিম। তার ব্যাটে শুরু হয় চার-ছক্কার বৃষ্টি। মাত্র ৩৬ বলে ৮০ রানের একটি বিধ্বংসী ও দর্শনীয় ইনিংস খেলেন তিনি। তার এই অতিমানবীয় পারফরম্যান্সের ওপর ভর করে ১৮.১ ওভারেই জয়ের বন্দরে পৌঁছে যায় বাংলাদেশ ফ্রেন্ডস স্পোর্টিং ক্লাব। অসাধারণ এই ইনিংসের জন্য সোহাগ জাসিমকে ‘ম্যান অব দ্য ম্যাচ’ নির্বাচিত করা হয়।
এশীয় শক্তির লড়াইয়ে শ্রেষ্ঠত্ব
এই টুর্নামেন্টে শুধু বাংলাদেশ নয়, অংশ নিয়েছিল পাকিস্তান, আফগানিস্তান, শ্রীলঙ্কা ও ভারতের মোট ১০টি শক্তিশালী ক্লাব। দলগুলোর মধ্যে ছিল গুজরাট ক্রিকেট ক্লাব, জে.কে. ওয়ারিয়র্স, আলফা ক্রিকেট ক্লাব এবং বেঙ্গল অ্যাভেঞ্জারসের মতো দল।
বিদেশি খেলোয়াড়রা এই টুর্নামেন্টের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন। তাদের মতে, প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটি অত্যন্ত পেশাদারত্বের সঙ্গে এত বড় একটি আসর সফলভাবে সম্পন্ন করেছে। এটি কেবল একটি টুর্নামেন্ট ছিল না, বরং এশিয়ার বিভিন্ন দেশের মানুষের মধ্যে সম্প্রীতির এক মিলনমেলায় পরিণত হয়েছিল।
আরো পড়ুন:-অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং এর জন্য ব্লগার সাইট তৈরির পূর্ণাঙ্গ গাইড
মরুর বুকে এক টুকরো বাংলাদেশ
আল রাই ক্রিকেট গ্রাউন্ডে ফাইনাল ম্যাচকে কেন্দ্র করে কুয়েত প্রবাসী বাংলাদেশিদের ঢল নেমেছিল। গ্যালারিতে ছিল দর্শকদের উপচে পড়া ভিড় এবং মুহুর্মুহু করতালি। লাল-সবুজের পতাকা হাতে দর্শকদের উল্লাস দেখে মনে হচ্ছিল এটি কুয়েত নয়, বরং ঢাকার মিরপুর স্টেডিয়াম।
বাংলাদেশ ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন কুয়েতের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মো. সোহরাওয়ার্দীর সভাপতিত্বে পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান পরিচালিত হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন টুর্নামেন্ট উপদেষ্টা মো. মাইন উদ্দিন। খেলা শেষে বিজয়ীদের হাতে ট্রফি ও প্রাইজমানি তুলে দেওয়া হয়।
দেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করছে প্রবাসীরা
প্রধান অতিথি মো. মাইন উদ্দিন তার বক্তব্যে বলেন, বিদেশের মাটিতে এই ধরনের আয়োজন প্রমাণ করে যে বাংলাদেশিরা খেলাধুলার মাধ্যমেও দেশের সম্মান বৃদ্ধি করতে পারে। প্রবাসী বাংলাদেশিদের এই ঐক্য এবং ক্রীড়া প্রেম অন্য দেশের মানুষের কাছে আমাদের ইতিবাচক ভাবমূর্তি তুলে ধরছে।
আয়োজকরা আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন যে, প্রবাসীদের এমন সহযোগিতা অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে আরও বড় পরিসরে টুর্নামেন্ট আয়োজন করা হবে। খেলাধুলা কেবল শরীরচর্চা নয়, বরং বিদেশের ব্যস্ত জীবনে প্রবাসীদের বিনোদন এবং একাত্মতার প্রধান মাধ্যম হয়ে দাঁড়িয়েছে।
আরো পড়ুন:-এনটিআরসিএ ৭ম বিশেষ নিয়োগের ফল প্রকাশ: সুপারিশ পেলেন ১১৭১৩ জন
আগামীর সম্ভাবনা ও চ্যালেঞ্জ
কুয়েতে ক্রিকেট দিন দিন জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। বিশেষ করে বাংলাদেশি তরুণদের মধ্যে ক্রিকেটের প্রতি এই গভীর ভালোবাসা দেখে অনেকেই আনন্দিত। তবে প্রবাসে উন্নত মাঠ এবং পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধার অভাব থাকা সত্ত্বেও বাংলাদেশ ফ্রেন্ডস স্পোর্টিং ক্লাবের এই শিরোপা জয় সত্যিই অভাবনীয়।
বিদেশের মাটিতে এমন অর্জন প্রবাসী নতুন প্রজন্মকে খেলাধুলায় আরও উৎসাহিত করবে। ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশনের কর্মকর্তারা জানান, তারা নিয়মিত এই ধরণের আসর আয়োজন করে প্রবাসীদের প্রতিভা বিকাশের সুযোগ করে দিতে চান। আরো জানতে ভিজিট করুন।