আসলাম চৌধুরী নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন: আপিল বিভাগের আদেশ - Trend Bd

আসলাম চৌধুরী নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন: আপিল বিভাগের আদেশ

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বড় ধরনের আইনি স্বস্তি পেলেন বিএনপির প্রভাবশালী নেতা আসলাম চৌধুরী। চট্টগ্রাম-৪ (সীতাকুণ্ড) আসনে তার প্রার্থিতা নিয়ে চলমান আইনি লড়াইয়ের পর আজ গুরুত্বপূর্ণ এক রায় দিয়েছেন দেশের সর্বোচ্চ আদালত। আপিল বিভাগের আদেশের ফলে আসলাম চৌধুরীর নির্বাচনে অংশগ্রহণ করার ক্ষেত্রে আর কোনো বাধা রইল না। মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগ এই সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেন।

সীতাকুণ্ডে লড়তে পারবেন আসলাম চৌধুরী: আপিল বিভাগের বড় সিদ্ধান্তে ভোটের সমীকরণে ব্যাপক রদবদল!

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড আসন তথা চট্টগ্রাম-৪ আসনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে আসলাম চৌধুরীর মনোনয়ন নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে অনিশ্চয়তা চলছিল। নানা আইনি জটিলতা এবং মামলার কারণে তার প্রার্থিতা আটকে থাকার উপক্রম হয়েছিল। তবে আজ আপিল বিভাগের আদেশের পর নির্বাচনী এলাকায় নতুন করে প্রাণচাঞ্চল্য ফিরে এসেছে। আদালত স্পষ্ট জানিয়েছেন, আসলাম চৌধুরী নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন।

তবে এই আদেশের সঙ্গে একটি বিশেষ শর্ত যুক্ত করে দিয়েছেন আদালত। আদেশে বলা হয়েছে, আসলাম চৌধুরী নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে পারলেও এবং ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হলেও ওই আসনের ফলাফলের চূড়ান্ত গেজেট বা প্রকাশ স্থগিত থাকবে। তার প্রার্থিতা নিয়ে চলমান আপিলটি নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত এই স্থগিতাদেশ কার্যকর থাকবে। অর্থাৎ, নির্বাচনের মাঠে তিনি থাকলেও চূড়ান্ত ফলাফলের জন্য আইনি লড়াই শেষ হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।

আইনি লড়াই ও আদালতের পর্যবেক্ষণ

আসলাম চৌধুরীর প্রার্থিতা ফিরে পাওয়ার এই যাত্রা মোটেও সহজ ছিল না। ঋণখেলাপি এবং নাশকতার বিভিন্ন মামলার অভিযোগে এর আগে তার মনোনয়নপত্র বাতিল বা চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছিল। এর আগে হাইকোর্ট তাকে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সুযোগ দিলেও বিষয়টি আপিল বিভাগ পর্যন্ত গড়ায়। আজ প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ দীর্ঘ শুনানি শেষে এই সিদ্ধান্ত দেন।

আদালত মনে করছেন, গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় প্রার্থীর অংশগ্রহণের অধিকার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তবে যেহেতু তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলোর আপিল এখনো বিচারাধীন, তাই ফলাফলের ওপর নিয়ন্ত্রণ রাখা জরুরি। এই আদেশের মাধ্যমে আদালত যেমন প্রার্থীর অধিকার রক্ষা করেছেন, তেমনি আইনি প্রক্রিয়াকেও সমুন্নত রেখেছেন।

আরো পড়ুন:-নারী ক্রিকেটারদের নিরাপত্তা: বিসিবির ব্যর্থতা প্রশ্নে হাইকোর্টের রুল

সীতাকুণ্ডের নির্বাচনী মাঠে উত্তাপ

আসলাম চৌধুরী সীতাকুণ্ড এলাকার অত্যন্ত জনপ্রিয় নেতা এবং চট্টগ্রাম উত্তর জেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক। তিনি নির্বাচনে ফেরার সবুজ সংকেত পাওয়ায় এই আসনের পুরো নির্বাচনী চিত্র পাল্টে গেছে। আগে যেখানে প্রতিদ্বন্দ্বিতা একতরফা হওয়ার আশঙ্কা ছিল, এখন সেখানে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের সম্ভাবনা দেখা দিচ্ছে। স্থানীয় বিএনপি নেতা-কর্মীরা এই রায়কে “গণতন্ত্রের জয়” হিসেবে অভিহিত করে আজই মাঠে নেমে পড়েছেন।

সাধারণ ভোটারদের মধ্যেও এই রায় নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। অনেকে মনে করছেন, সব দলের হেভিওয়েট প্রার্থীরা মাঠে থাকলে ভোটের উৎসব আরও জমজমাট হবে। সীতাকুণ্ডে আসলাম চৌধুরীর একটি বিশাল ভোটব্যাংক রয়েছে, যা নির্বাচনের ফলাফলকে যেকোনো দিকে ঘুরিয়ে দিতে পারে। ফলে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের এখন নতুন করে নির্বাচনী কৌশল সাজাতে হচ্ছে।

ফলাফল স্থগিতের প্রভাব কী?

আদালতের দেওয়া ‘ফলাফল চূড়ান্ত প্রকাশ স্থগিত’ রাখার বিষয়টি নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে কিছুটা বিভ্রান্তি কাজ করছে। এর সহজ অর্থ হলো—ভোট গণনা হবে, কে কত ভোট পেলেন তাও জানা যাবে, কিন্তু সরকারিভাবে আসলাম চৌধুরী বা অন্য কাউকে ওই আসনের ‘নির্বাচিত সংসদ সদস্য’ হিসেবে গেজেটভুক্ত করা হবে না।

এই গেজেট প্রকাশের জন্য অপেক্ষা করতে হবে আপিল বিভাগের চূড়ান্ত নিষ্পত্তির ওপর। যদি আপিল নিষ্পত্তিতে আসলাম চৌধুরীর প্রার্থিতা বৈধ থাকে এবং তিনি ভোটে জয়ী হন, তবেই তিনি শপথ নিতে পারবেন। অন্যথায় আইনি জটিলতা আরও বাড়তে পারে। তবে তাৎক্ষণিকভাবে এই রায়ের ফলে তিনি প্রচার-প্রচারণা এবং ভোট গ্রহণের প্রক্রিয়ায় সরাসরি সম্পৃক্ত হতে পারছেন।

আরো পড়ুন:-আপিলেও খারিজ! নির্বাচন করতে পারবেন না মঞ্জুরুল মুন্সী

কে এই আসলাম চৌধুরী?

আসলাম চৌধুরী ২০১৬ সালে ভারতে ইসরায়েলি গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদের এক নেতার সঙ্গে বৈঠকের ছবি প্রকাশের পর ব্যাপক আলোচনায় আসেন। এরপর তার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহ ও নাশকতার একাধিক মামলা দেওয়া হয়। তিনি দীর্ঘ সময় কারাবন্দীও ছিলেন। সাম্প্রতিক সময়ে অন্তর্বর্তী সরকারের আমলের পর তিনি জামিনে মুক্তি পান এবং রাজনীতিতে সক্রিয় হন।

তার নির্বাচনে অংশগ্রহণ করার বিষয়টি কেবল সীতাকুণ্ডের নয়, বরং পুরো চট্টগ্রামের রাজনীতিতে একটি বড় বার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশেষ করে বিএনপির দীর্ঘদিনের এই ত্যাগী নেতার প্রতি দলের তৃণমূলের অগাধ আস্থা রয়েছে। আইনি এই বিজয়ের পর তার সমর্থকরা মনে করছেন, ব্যালটের মাধ্যমে তারা সকল অন্যায়ের জবাব দেবেন।

আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই সীতাকুণ্ডের রাজপথ আসলাম চৌধুরীর প্রচারণায় সরগরম হয়ে উঠবে। যদিও ফলাফলের ওপর আদালতের স্থগিতাদেশ রয়েছে, তবুও নির্বাচনী ময়দানে তার উপস্থিতি প্রতিদ্বন্দ্বীদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে। এখন সবার নজর আপিল বিভাগের চূড়ান্ত নিষ্পত্তির দিকে। সীতাকুণ্ডের মানুষ কি তাদের প্রিয় নেতাকে সংসদে পাঠাতে পারবেন, নাকি আইনি মারপ্যাঁচে আটকে যাবে সব স্বপ্ন—তা সময়ই বলে দেবে। আরো জানতে ভিজিট করুন।

Leave a Comment