ক্যান্সার কি তবে হার মানবে? জীবন বাঁচাতে এই একটি কাজই যথেষ্ট!
ক্যান্সার মানেই নিশ্চিত মৃত্যু নয়। তবে আমাদের অবহেলা একে ভয়াবহ করে তোলে। সঠিক সময়ে রোগ ধরতে পারলে জয় নিশ্চিত। চলুন জানি বিশেষজ্ঞরা ঠিক কী বলছেন।
সাম্প্রতিক এক সেমিনারে বিশেষজ্ঞরা আশার কথা শুনিয়েছেন। তারা বলছেন, প্রাথমিক শনাক্তকরণই ক্যান্সার মোকাবিলার আসল চাবিকাঠি। সঠিক সময়ে চিকিৎসা শুরু করলে জীবন বাঁচানো সম্ভব। ডা. মো. খাদেমুল বাশার এবং ডা. তানজিনা আফরিনের মতো অভিজ্ঞ চিকিৎসকরা এই বিষয়ে জোর দিয়েছেন। সুস্থ থাকতে হলে নিয়মিত চেকআপের কোনো বিকল্প নেই।
বিশ্ব ক্যান্সার দিবস উপলক্ষ্যে সচেতনতা এখন তুঙ্গে। রাজধানী গুলশানের হোসনা সেন্টারে আয়োজিত এক সেমিনারে উঠে এসেছে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য। ‘আমরা নারী’ এবং আইপিডিসি ফাইন্যান্স পিএলসি যৌথভাবে এই আয়োজনটি করে। সেখানে কর্পোরেট কর্মকর্তাদের মাঝে ক্যান্সারের ভয়াবহতা ও প্রতিরোধের উপায় জানানো হয়। সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা ছড়িয়ে দেওয়াই ছিল মূল লক্ষ্য।
প্রাথমিক লক্ষণগুলো চিনে নিন এখনই
ক্যান্সার শুরুতে কোনো জানান দিয়ে আসে না। তবে সূক্ষ্ম কিছু পরিবর্তন লক্ষ্য করলেই সাবধান হতে হবে। ডা. তানজিনা আফরিন বলেন, অনেক সময় রক্তরোগ শুরুতে উপসর্গহীন থাকে। তাই শরীরের অস্বাভাবিক কোনো তিল বা পিণ্ড দেখলে অবহেলা করবেন না। ছোট একটি পরীক্ষা আপনার জীবন বদলে দিতে পারে। দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জীবনের জন্য সবচেয়ে বড় বিনিয়োগ।
খাদ্যাভ্যাস এবং জীবনযাত্রা ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়ায় অনেকখানি। ফাস্ট ফুড আর অলস জীবন থেকে দূরে থাকতে হবে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আধুনিক চিকিৎসার চেয়েও প্রতিরোধ গড়ে তোলা জরুরি। নিয়মিত স্ক্রিনিং করলে রোগের বিস্তার গোড়াতেই থামিয়ে দেওয়া যায়। নিজের শরীরের প্রতিটি ছোট সংকেত গুরুত্ব সহকারে লক্ষ্য করুন। সুস্থ জীবন যাপন করাই ক্যান্সারের বিরুদ্ধে বড় প্রতিরোধ।
আরো পড়ুন:-বিরল পেকটাস সার্জারিতে ইতিহাস গড়ল গ্রীন লাইফ হাসপাতাল!
সেমিনারে বিশেষজ্ঞদের কড়া হুঁশিয়ারি ও পরামর্শ
ডিজিএইচএস-এর সহকারী অধ্যাপক ডা. মো. খাদেমুল বাশার কিছু বাস্তব কথা বলেছেন। তিনি মনে করেন, ক্যান্সার এখন ব্যক্তিগত রোগ নয়, এটি জনস্বাস্থ্য চ্যালেঞ্জ। জনসচেতনতা ছাড়া এই মরণব্যাধীকে হারানো একেবারেই অসম্ভব কাজ। ভুল অভ্যাসগুলো আজই ত্যাগ করার শপথ নিতে হবে আমাদের। সঠিক তথ্য জানলে ভীতি কমে আর আত্মবিশ্বাস বাড়ে।
সামাজিক সংগঠন ‘আমরা নারী’ এখানে বড় ভূমিকা রাখছে। সংগঠনটির প্রতিষ্ঠাতা এম এম জাহিদুর রহমান বিপ্লব সামাজিক আন্দোলনের কথা বলেন। স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও নিরাপদ খাদ্যের ওপর তারা বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছেন। একটি সুস্থ সমাজ গড়তে হলে স্বাস্থ্য সচেতনতার বিকল্প নেই। তাদের এই মানবিক উদ্যোগ সত্যিই প্রশংসার দাবি রাখে। কর্পোরেট এবং সামাজিক সংস্থার অংশগ্রহণ ক্যান্সার প্রতিরোধে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
আরো পড়ুন:-৩২৬৩ নতুন ডাক্তার: দেশের স্বাস্থ্য খাতে বড় পরিবর্তন!
সচেতনতাই আপনার জীবনের শ্রেষ্ঠ সুরক্ষা কবচ
ভবিষ্যতে এমন আরও কর্মসূচি করার পরিকল্পনা রয়েছে আয়োজকদের। ক্যান্সারের বিরুদ্ধে যুদ্ধে গণমাধ্যম এবং কর্পোরেট সেক্টরকে এগিয়ে আসতে হবে। শুধু একদিনের সচেতনতা নয়, সারা বছরই সতর্ক থাকতে হবে। রোগ ধরা পড়ার পর হাহাকার করার চেয়ে আগে জানা ভালো। সচেতন হোন, নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করুন এবং দীর্ঘজীবী হোন। জীবন আপনার, তাই এর সুরক্ষার দায়িত্বও একান্তই আপনার। আরো জানতে ভিজিট করুন।