চিপ সংকটে দিশেহারা ডেল-এইচপি! চীনের পথে বিশ্বখ্যাত পিসি ব্র্যান্ডগুলো - Trend Bd

চিপ সংকটে দিশেহারা ডেল-এইচপি! চীনের পথে বিশ্বখ্যাত পিসি ব্র্যান্ডগুলো

পিসি বাজারে হাহাকার! চিপ সংকটে এবার চীনের পথে এইচপি-ডেলের মতো জায়ান্টরা

বাজার এখন বড্ড অস্থির। বিশ্বের তাবড় সব কম্পিউটার নির্মাতা প্রতিষ্ঠানগুলো এখন এক বিশাল মেমোরি চিপ সংকটের মুখে দাঁড়িয়ে খাবি খাচ্ছে। পরিস্থিতি এতটাই বেগতিক যে, এইচপি, ডেল, এসার এবং আসুসের মতো কোম্পানিগুলো এখন চীনের দিকে ঝুঁকতে বাধ্য হচ্ছে। নিক্কেই এশিয়ার এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এই বিস্ফোরক তথ্য, যা পুরো প্রযুক্তি বিশ্বে হইচই ফেলে দিয়েছে। এর আগে বড় ব্র্যান্ডগুলো মূলত দক্ষিণ কোরিয়া বা যুক্তরাষ্ট্রের চিপের ওপরই ভরসা করত।

সংকট কাটছেই না কোনোভাবে। স্মার্টফোন থেকে শুরু করে বড় বড় ডেটা সেন্টার—সবখানেই এখন মেমোরি চিপের হাহাকার চলছে পাল্লা দিয়ে। সরবরাহের এই ঘাটতি কেবল উৎপাদনই থামাচ্ছে না, বরং ল্যাপটপ আর পিসির দাম বাড়িয়ে দিচ্ছে রকেট গতিতে। সাধারণ ক্রেতাদের জন্য এটি একটি বিশাল দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে কারণ পকেটের টাকা এখন বেশি খসবে। ২০২৬ সাল পর্যন্ত এই চিপ সংকট চলবে বলে আশঙ্কা করছেন বড় বড় প্রযুক্তি বিশ্লেষকরা।

চীনের মেমোরি চিপে কেন ভরসা?

বাধ্য হয়েই এই পথ। এইচপি ইতিমধ্যেই চীনের ‘চাংসিন মেমোরি টেকনোলজিস’ (CXMT) এর চিপগুলো পরীক্ষা-নিরীক্ষা শুরু করে দিয়েছে খুব গুরুত্বের সাথে। তারা দেখছে চীনের এই চিপগুলো তাদের ল্যাপটপে ঠিকঠাক পারফরম্যান্স দিতে পারবে কি না। যদি দাম এবং সরবরাহ ঠিক থাকে, তবে খুব শীঘ্রই বাজারে চীনা চিপযুক্ত এইচপি ল্যাপটপ দেখা যাবে। মার্কিন বাজারের বাইরে অন্যান্য দেশের জন্য তারা এই পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে বলে জানা গেছে।

ডেলও বসে নেই মোটেও। ডেল কর্তৃপক্ষ ২০২৬ সাল জুড়ে মেমোরির চিপের দাম বাড়ার আশঙ্কায় এখন বিকল্প পথ খুঁজছে মরিয়া হয়ে। তারাও সিএক্সএমটি-র ডিআরএএম (DRAM) চিপগুলো যাচাই করে দেখছে যেন সাপ্লাই চেইন কোনোভাবে থমকে না যায়। চিপের এই তীব্র সংকট আসলে বিশ্বজুড়ে পিসি ব্যবসার মূলে বড় ধরনের আঘাত হেনেছে। সরবরাহ ঠিক না থাকলে নতুন পণ্য বাজারে আনাও হয়ে যাবে অনেক বেশি অনিশ্চিত।

আরো পড়ুন:-জিপির নতুন চমক: ৭০০ মেগাহার্জ স্পেকট্রামে বিপ্লব আসছে

এসার ও আসুসের নতুন সমীকরণ

চুক্তিভিত্তিক উৎপাদনের পথে এসার। তাইওয়ানের বিখ্যাত কোম্পানি এসার জানিয়েছে, তাদের চীনা ম্যানুফ্যাকচারাররা যদি চিপ সংগ্রহ করে দিতে পারে তবে তারা তা ব্যবহারে রাজি। বর্তমান প্রতিযোগিতামূলক বাজারে টিকে থাকতে হলে খরচে লাগাম টানা ছাড়া আর কোনো উপায় নেই। চিপের অভাবে উৎপাদন বন্ধ হয়ে গেলে বাজারের শেয়ার হারানোর ভয়ও কাজ করছে সবার মধ্যে। ফলে তারা এখন আর কেবল নির্দিষ্ট কিছু দেশের চিপের ওপর নির্ভর করে থাকতে চাইছে না।

আসুসও নেমেছে কোমর বেঁধে। আসুস তাদের নির্দিষ্ট কিছু ল্যাপটপ প্রজেক্টের জন্য চীনা উৎপাদন সহযোগীদের সাথে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছে মেমোরি চিপের জন্য। তারা চায় যেকোনো মূল্যে ল্যাপটপের জোগান ঠিক রেখে ক্রেতাদের চাহিদা মেটাতে সময়মতো। চীনা চিপের মান এখন আগের চেয়ে অনেক উন্নত হওয়ায় তারা এই ঝুঁকি নিতে চাইছে। তবে এটি যে কেবল ব্যবসায়িক সিদ্ধান্ত নয়, বরং টিকে থাকার লড়াই, তা বলাই বাহুল্য।

আরো পড়ুন:-আইফোনের আয়ের বিশ্ব রেকর্ড! ৮৫ বিলিয়ন ডলার ছাড়াল আয়

প্রযুক্তি রাজনীতি ও অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ

ভূ-রাজনীতির এক নতুন চাল। এতদিন দক্ষিণ কোরিয়া বা তাইওয়ানের চিপের যে একচ্ছত্র আধিপত্য ছিল, তা এখন বড় চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ছে চীনের কারণে। যুক্তরাষ্ট্র এবং চীনের মধ্যে যে প্রযুক্তিগত যুদ্ধ চলছে, তাতে এই চিপ সংকট নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে। পশ্চিমা দেশগুলো এই চীনা চিপ ব্যবহারের সিদ্ধান্তকে কীভাবে নেবে, তা নিয়ে এখনো অনেক ধোঁয়াশা রয়েছে। তবে ব্যবসায়িক স্বার্থ বড় হয়ে ওঠায় রাজনৈতিক বাধা হয়তো ধোপে টিকবে না।

ক্রেতাদের কপালে এখন চিন্তার ভাঁজ। চিপের দাম বাড়লে স্বাভাবিকভাবেই ল্যাপটপ বা পিসির দাম সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। যদি চীনা চিপ সফলভাবে ডেল বা এইচপির মতো ব্র্যান্ডে জায়গা করে নেয়, তবে দাম কিছুটা নিয়ন্ত্রণে থাকতে পারে। ২০২৬ সালের মাঝামাঝি পর্যন্ত পুরো পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করবে এই বড় কোম্পানিগুলো তাদের পরবর্তী ধাপ নির্ধারণে। প্রযুক্তির এই বড় পরিবর্তন আমাদের পিসি ব্যবহারের অভিজ্ঞতাকে বদলে দিতে পারে চিরতরে। আরো জানতে ভিজিট করুন

Leave a Comment