জবিতে শিবিরের ‘ইয়ুথ আইডিয়া কনটেস্ট’; শহীদ পিতার কান্না! - Trend Bd

জবিতে শিবিরের ‘ইয়ুথ আইডিয়া কনটেস্ট’; শহীদ পিতার কান্না!

তারুণ্যের ভাবনায় আগামীর বাংলাদেশ! জবিতে শিবিরের ‘ইয়ুথ আইডিয়া কনটেস্ট’ ঘিরে নতুন উন্মাদনা

জবি ক্যাম্পাসে আজ সাজ সাজ রব। বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের ৪৯তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষ্যে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি) প্রাঙ্গণে শুরু হয়েছে বর্ণাঢ্য ‘ইয়ুথ আইডিয়া কনটেস্ট-২০২৬’। তরুণদের উদ্ভাবনী শক্তিকে কাজে লাগিয়ে সামাজিক নানা সমস্যার সমাধান খোঁজা হচ্ছে এই অনন্য আয়োজনের মাধ্যমে। সারা দেশ থেকে আসা মেধাবী শিক্ষার্থীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে জবির বিজ্ঞান ভবন মাঠ এখন প্রাণবন্ত ও উৎসবমুখর। এটি কেবল একটি প্রতিযোগিতা নয়, বরং নতুন বাংলাদেশ গড়ার এক সাহসী পদক্ষেপ।

আবেগঘন এক সূচনা হলো আজ। শুক্রবার সকাল সাড়ে ৮টায় এক হৃদয়স্পর্শী মুহূর্তের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন শহীদ শাহাবুদ্দিনের পিতা মো. রফিকুল্লাহ। দীর্ঘ ১১ বছর আগে এই প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কর্মসূচিতেই নিজের সন্তানকে হারিয়েছিলেন তিনি তৎকালীন স্বৈরাচারী শক্তির হাতে। শহীদ পিতার সেই কান্নামাখা কণ্ঠে যখন উদ্বোধনী বক্তব্য আসছিল, তখন উপস্থিত অনেকের চোখেই জল ছলছল করে ওঠে। তিনি স্পষ্ট করে বলেন যে, একটি ঐতিহাসিক প্রয়োজনেই এই সংগঠনের জন্ম হয়েছিল।

তারুণ্যের মেধা ও দেশপ্রেমের নতুন সংজ্ঞা

শিক্ষা ও দক্ষতার এক মেলবন্ধন। অনুষ্ঠানে ‘মেধা, সততা ও দেশপ্রেমে গড়ি আগামীর বাংলাদেশ’ শীর্ষক সেমিনারে নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ড. ওয়ারেসুল করিম এক চমৎকার আলোচনা করেন। তিনি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, লক্ষ্য অর্জনে নিজের চারপাশের রিসোর্সগুলো সঠিকভাবে কাজে লাগানো খুবই জরুরি। লাইব্রেরি থেকে শুরু করে শিক্ষক—সবাই হতে পারে স্বপ্ন পূরণের সিড়ি। মা-বাবার স্বপ্ন পূরণই হোক একজন সফল ছাত্রের মূল লক্ষ্য।

পরিবর্তনের অঙ্গীকার প্রতিটি ধাপে। ইয়ুথ আইডিয়া কনটেস্টের মূল লক্ষ্যই হলো জাতীয় ও সামাজিক সমস্যার বাস্তবমুখী এবং টেকসই সমাধান খুঁজে বের করা। বিশেষ করে জুলাই বিপ্লব-পরবর্তী বাংলাদেশ পুনর্গঠনে তরুণরা কী ভাবছে, তা এখানে গুরুত্বের সাথে দেখা হচ্ছে। সুশাসন, ন্যায়বিচার এবং সামাজিক দায়বদ্ধতা নিশ্চিত করার জন্য একগুচ্ছ নতুন আইডিয়া এখান থেকে আসবে বলে আয়োজকরা আশা করছেন। দেশপ্রেম যখন মেধার সাথে মিশে যায়, তখন অসম্ভবও সম্ভব হয়ে ওঠে।

আরো পড়ুন:-ঢাবির লিজেন্ডরা ফিরলেন! ইমেরিটাস হলেন ৪ বাঘা শিক্ষাবিদ

জবি ক্যাম্পাসে দেশসেরা মেধাবীদের মেলা

সায়েন্স ফেস্টের পর এবার আইডিয়া। শিবিরের আন্তর্জাতিক সম্পাদক মুতাসীম বিল্লাহ শাহেদী জানান, ২৯ ও ৩০ জানুয়ারি সফল সায়েন্স ফেস্টের পর এটি তাদের দ্বিতীয় বড় আয়োজন। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে আয়োজিত এই কেন্দ্রীয় অনুষ্ঠানটি তরুণদের মাঝে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে বলে তিনি মন্তব্য করেন। সারা দেশেই তাদের এমন নানা সৃজনশীল কর্মসূচি চলছে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ঘিরে। মেধা বিকাশের এমন সুযোগ আগে কখনোই ছাত্ররাজনীতিতে এতটা প্রাধান্য পায়নি।

সংগঠনের শীর্ষ নেতৃত্বের সরব উপস্থিতি। জবি শিবিরের সভাপতি রিয়াজুল ইসলাম ও সেক্রেটারি আব্দুল আলিম আরিফের তত্ত্বাবধানে অনুষ্ঠানটি অত্যন্ত শৃঙ্খলার সাথে পরিচালিত হচ্ছে। বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজ থেকে আসা প্রতিযোগীরা তাদের প্রজেক্ট এবং আইডিয়াগুলো নিয়ে বিচারকদের সামনে হাজির হচ্ছেন। রাজনৈতিক কর্মসূচির বাইরে এমন সৃজনশীল কাজ শিক্ষার্থীদের মাঝে এক পজিটিভ বার্তা দিচ্ছে। দিনভর চলা এই আয়োজনে কেবল সমাধান নয়, বরং তৈরি হচ্ছে ভ্রাতৃত্ববোধ।

আরো পড়ুন:-রাবিতে হট্টগোল: ১৬৫ ‘ফ্যাসিস্ট’ শিক্ষকের তালিকা নিয়ে তোলপাড়

স্বপ্নের বাংলাদেশ ও আগামীর সম্ভাবনা

স্বপ্ন হোক আকাশছোঁয়া উচ্চতায়। প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া সাধারণ শিক্ষার্থীরা মনে করছেন, এ ধরনের প্ল্যাটফর্ম তাদের আত্মবিশ্বাস অনেক গুণ বাড়িয়ে দিচ্ছে। কেবল বইয়ের তাত্ত্বিক পড়া নয়, বরং বাস্তব সমস্যার সমাধান শেখাই হলো আধুনিক শিক্ষার মূল উদ্দেশ্য। জবির মাঠের এই কোলাহল যেন আগামীর এক উন্নত ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশের প্রতিধ্বনি। আমরা সবাই চাই তরুণরা তাদের মেধা দিয়ে বিশ্ব দরবারে মাথা উঁচু করে দাঁড়াক।

সাফল্য আসুক ইমানের পথে। ড. ওয়ারেসুল করিম যেমনটি বলেছেন, স্রষ্টার উদ্দেশ্য বাস্তবায়নের মাধ্যমেই মানুষের জীবনের প্রকৃত সার্থকতা নিহিত থাকে। কেবল নিজের স্বার্থ নয়, বরং দেশের কল্যাণে নিবেদিত হওয়াই হোক এই কনটেস্টের শিক্ষা। ইয়ুথ আইডিয়া কনটেস্ট শেষে বিজয়ীদের জন্য থাকছে আকর্ষণীয় পুরস্কার ও সম্মাননা। দিনের শেষভাগে জমকালো সমাপনী অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে এই মেধা অন্বেষণের সমাপ্তি ঘটবে। তারুণ্যের এই জয়যাত্রা অব্যাহত থাকুক অনন্তকাল। আরো জানতে ভিজিট করুন।

Leave a Comment