ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি ও এর পেছনের গল্প
রাজধানীর বনানীর টিঅ্যান্ডটি খেলার মাঠে এক জমকালো অনুষ্ঠানের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী এই কর্মসূচির উদ্বোধন করেন। দেশের সাধারণ মানুষের অভাব দূর করা এবং তাদের পাশে দাঁড়ানোই ছিল এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য। শুরুতে দেশের ১৩টি জেলার ১৫টি ওয়ার্ডে এই কর্মসূচি চালু করা হয়েছে।
এই কার্ডের জন্য উপকারভোগী নির্বাচন করা হয়েছে খুব স্বচ্ছভাবে। প্রতিটি উপজেলার তথ্য সংগ্রহ করে তা সরকারি কমিটির মাধ্যমে যাচাই করা হয়েছে। বিশেষ সফটওয়্যারের মাধ্যমে প্রতিটি পরিবারের আর্থিক অবস্থা এবং দারিদ্র্য সূচক পরীক্ষা করা হয়েছে। সবশেষে ৩৭ হাজার ৫৬৭টি নারী প্রধান পরিবারকে এই ভাতার জন্য চূড়ান্তভাবে নির্বাচন করা হয়েছে।
কাউকে যেন ভাতার জন্য কারো দ্বারে দ্বারে ঘুরতে না হয়, সেই জন্য একদম মাস্টারপ্ল্যান করে মাঠে নেমেছে সরকার। প্রতিটি এলাকার জন্য আলাদা আলাদা টিম গঠন করা হয়েছে। ওয়ার্ড থেকে শুরু করে জেলা পর্যায় পর্যন্ত সরকারি প্রতিনিধিরা মিলে এই তালিকা চূড়ান্ত করছেন। ফলে এখানে কোনো নয়-ছয় করার সুযোগ থাকছে না।
এই পুরো সিস্টেমটি কাজ করছে একদম ডিজিটাল উপায়ে। বিশেষ সফটওয়্যারের মাধ্যমে প্রতিটি পরিবারের আর্থিক অবস্থা যাচাই করা হয়েছে। পরিবারগুলো কতটা গরীব বা তারা কোন অবস্থায় আছে, তা ডিজিটাল মেশিনই বলে দিচ্ছে। এমনকি যারা আগে থেকে অন্য সরকারি সুবিধা পাচ্ছেন, তাদের নাম স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাদ দেওয়া হয়েছে।
শুধু ডিজিটাল উপায়েই নয়, সরকারি কর্মকর্তারা সরাসরি মানুষের বাড়িতে গিয়েও খোঁজ নিয়েছেন। কার ঘরে টিভি বা ফ্রিজ আছে, কার আত্মীয় বিদেশ থেকে টাকা পাঠায়—সব তথ্যই সংগ্রহ করা হয়েছে। এমনকি আসবাবপত্র দেখেও মানুষের অভাব বোঝার চেষ্টা করা হয়েছে। মূলত স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতেই এমন কড়াকড়ি।
পাইলটিং পর্যায়ে দেশের প্রায় ৬৭ হাজার ৮৫৪টি নারী প্রধান পরিবারের তথ্য নেওয়া হয়েছিল। দীর্ঘ যাচাই-বাছাই শেষে সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন এমন ৩৭ হাজার ৫৬৭টি পরিবারকে চূড়ান্ত করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী সরাসরি কার্ড তুলে দিয়ে এই ডিজিটাল সমাজসেবার নতুন অধ্যায় শুরু করলেন।