বাংলাদেশে আসছে নতুন রাজনৈতিক সরকার: আলী রীয়াজের হুংকার - Trend Bd

বাংলাদেশে আসছে নতুন রাজনৈতিক সরকার: আলী রীয়াজের হুংকার

বাংলাদেশে এক নতুন রাজনৈতিক অধ্যায়ের সূচনা হতে যাচ্ছে। অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী অধ্যাপক আলী রীয়াজ জানিয়েছেন, দেশে একটি জবাবদিহিমূলক রাজনৈতিক সরকার গঠনের প্রক্রিয়া চূড়ান্ত পর্যায়ে। সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় তিনি আসন্ন ‘গণভোট-২০২৬’ নিয়ে গুরুত্বপুর্ণ দিকনির্দেশনা দেন এবং জুলাই বিপ্লবের চেতনা ধরে রাখতে সবার সহযোগিতা কামনা করেন।

বাংলাদেশে আসছে জবাবদিহিমূলক সরকার: গণভোট নিয়ে অধ্যাপক আলী রীয়াজের বড় বার্তা

অধ্যাপক আলী রীয়াজ স্পষ্ট করেছেন যে, কেবল রাজনৈতিক দলগুলোর সাথে আলোচনা করলেই একটি দেশের প্রকৃত সংস্কার সম্ভব নয়। দীর্ঘ ৯ মাস ধরে ৩০টি রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আলোচনার পরও কেন গণভোট প্রয়োজন, তার ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে তিনি বলেন, রাজনৈতিক দলের বাইরেও দেশের একটি বিশাল জনগোষ্ঠী রয়েছে যাদের মতামত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই সুযোগ হেলায় হারানো যাবে না, কারণ অনেক ত্যাগের বিনিময়ে দেশ আজ এই অবস্থানে পৌঁছেছে।

তিনি মনে করেন, বাংলাদেশকে একটি প্রকৃত গণতান্ত্রিক ও জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তোলার এটাই শ্রেষ্ঠ সময়। গত ১৫ বছরের রাজনৈতিক অচলায়তন ভেঙে সাধারণ মানুষের ভোটাধিকার ফিরিয়ে দেওয়াই এই গণভোটের মূল লক্ষ্য। যারা ঘরে বসে বা এসি রুমে বসে সমালোচনা করছেন, তাদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, আপনারাও মাঠে নামুন এবং জনগণকে এই ভোটের গুরুত্ব বোঝান।

শিক্ষার্থীদের প্রতি আলী রীয়াজের বিশেষ আহ্বান

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট ভবনে অনুষ্ঠিত এই সভায় আলী রীয়াজ তরুণ প্রজন্মের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন। তিনি পরিসংখ্যান দিয়ে দেখান যে, উত্তরবঙ্গের ১০টি সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রায় দেড় লাখ শিক্ষার্থী রয়েছে। প্রতিটি শিক্ষার্থী যদি অন্তত ৫ জন মানুষকে গণভোট সম্পর্কে সচেতন করে, তবে পুরো গ্রামাঞ্চলেও এই বার্তা দ্রুত পৌঁছে যাবে।

তিনি বলেন, তরুণরাই জুলাই বিপ্লবের মূল চালিকাশক্তি ছিল। তাই গণভোট সফল করার দায়িত্বও তাদের নিতে হবে। শিক্ষার্থীদের গ্রামে গ্রামে গিয়ে সাধারণ মানুষকে বোঝাতে হবে যে, কেন এই ভোট দেওয়া প্রয়োজন এবং কীভাবে এটি আগামীর নিরাপদ বাংলাদেশ নিশ্চিত করবে। এটি কেবল সরকারের কাজ নয়, বরং প্রতিটি নাগরিকের জাতীয় দায়িত্ব।

আরো পড়ুন:-জবি ভর্তি শেষ: ২ ফেব্রুয়ারি ফল এবং ক্লাস শুরু ১৯ এপ্রিল

সংবিধান ও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের সংস্কার

বিগত সরকারের সমালোচনা করে অধ্যাপক আলী রীয়াজ বলেন, গত ১৫ বছর বাংলাদেশের মানুষ ভোট দিতে পারেনি কারণ শেখ হাসিনা তা চাননি। সংবিধানকে নিজের ইচ্ছামতো পরিবর্তন করে একে ছেলেখেলায় পরিণত করা হয়েছিল। পিএসসি বা দুর্নীতি দমন কমিশনের মতো স্বাধীন প্রতিষ্ঠানগুলোকে দলীয় স্বার্থে ব্যবহার করা হয়েছে, যার ফলে মেধার কোনো মূল্যায়ন ছিল না।

তিনি আরও বলেন, হালের গরু বিক্রি করে যে বাবা তার সন্তানকে শিক্ষিত করেছেন, ছাত্রলীগের দাপটে সেই সন্তান সরকারি চাকরি পায়নি। এই অন্যায়ের অবসান ঘটাতেই রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের আমূল সংস্কার প্রয়োজন। জুলাই জাতীয় সনদে বলা হয়েছে, পরবর্তী নির্বাচন এমনভাবে হতে হবে যেন কোনো রাজনৈতিক দল একতরফা প্রভাব বিস্তার করতে না পারে।

গণভোট-২০২৬: কেন এই আয়োজন?

আগামী ৭ দিনের মধ্যে গণভোট নিয়ে ব্যাপক প্রচারণার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন আলী রীয়াজ। ১৩ নভেম্বর গণভোটের আদেশ জারি হওয়ার পর থেকে সরকার কাজ করে যাচ্ছে। তিনি বলেন, জুলাই শহীদদের প্রতি যদি আমাদের বিন্দুমাত্র দায়বদ্ধতা থাকে, তবে এই সংস্কার প্রক্রিয়ায় অংশ নিতে হবে। রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে ঐকমত্যের ভিত্তিতেই অন্তর্বর্তী সরকার নির্বাচনের ব্যবস্থা করে দিচ্ছে।

এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে এমন একটি ব্যবস্থা তৈরি করা হবে যেখানে ক্ষমতাসীন দল এবং বিরোধী দল মিলে নির্বাচন কমিশন গঠন করবে। এতে করে ভবিষ্যতে কোনো সরকারই নির্বাচন নিয়ে জালিয়াতি করার সুযোগ পাবে না। আলী রীয়াজ বিশ্বাস করেন, জনগণের ইচ্ছাই শেষ পর্যন্ত জয়ী হবে এবং একটি শক্তিশালী ও স্বচ্ছ গণতান্ত্রিক সরকার দেশ পরিচালনার দায়িত্ব পাবে।

আরো পড়ুন:- আইইউবিএটিতে স্প্রিং ২০২৬ সেমিস্টারের জমকালো নবীনবরণ

তরুণদের লড়াই ও শহীদদের ঋণ

জুলাই মাসের সেই উত্তাল দিনগুলোর কথা স্মরণ করে তিনি আবেগাপ্লুত হন। তিনি বলেন, তরুণরা তাদের জীবন দিয়ে প্রমাণ করেছে বাংলাদেশ পরিবর্তন হতে চায়। সেই শহীদদের রক্তের ঋণ শোধ করার একমাত্র উপায় হলো একটি সুন্দর শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা। শহীদদের পরিবার এবং আহতদের ত্যাগের কথা মাথায় রেখেই আমাদের প্রতিটি পদক্ষেপ নিতে হবে।

সভায় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, উপ-উপাচার্য এবং বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যসহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন। সবাই একমত পোষণ করেন যে, একটি সুষ্ঠু গণভোটের মাধ্যমেই আগামীর পথ নির্ধারিত হওয়া উচিত।

অধ্যাপক আলী রীয়াজের বক্তব্য থেকে এটি স্পষ্ট যে, বাংলাদেশ এখন এক সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে। গণভোট কেবল একটি আনুষ্ঠানিকতা নয়, বরং এটি নাগরিকদের ক্ষমতা পুনরুদ্ধারের একটি মাধ্যম। যদি এই সুযোগ সঠিকভাবে কাজে লাগানো যায়, তবে বাংলাদেশ বিশ্ব দরবারে একটি আদর্শ গণতান্ত্রিক দেশ হিসেবে পরিচিতি পাবে। এখন সময় এসেছে ঐক্যবদ্ধ হয়ে এই নতুন বাংলাদেশের স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দেওয়ার। আরো জানতে ভিজিট করুন।

Leave a Comment