নির্বাসিত জীবন বনাম প্রত্যাবর্তনের ছক: ভারত থেকে কী বার্তা দিচ্ছেন শেখ হাসিনা?
কলকাতার শপিং মলে এখন তাদের ভিড়। ধোঁয়া ওঠা ব্ল্যাক কফি আর ইন্ডিয়ান ফাস্ট ফুডের স্বাদ নিলেও মনটা পড়ে আছে সীমান্তের ওপারে। নির্বাসিত আওয়ামী লীগ নেতারা এখন কলকাতায় বসে নিয়মিত রাজনৈতিক আড্ডা আর ছক কষছেন। তবে এই ছক কি আদৌ সফল হবে? বাংলাদেশের রাজপথ এখনো তাদের শাসনামলের রক্তে ভেজা, আর সাধারণ মানুষের মনে কাটেনি সেই ভয়ংকর স্মৃতি।
বাঙ্কার থেকে শেখ হাসিনার ভার্চুয়াল গর্জন
দিল্লির গোপন আশ্রয় এখন কন্ট্রোল রুম। কঠোর নিরাপত্তার মাঝে শেখ হাসিনা প্রতিদিন ঘণ্টার পর ঘণ্টা ফোনে কথা বলছেন তৃণমূলের কর্মীদের সাথে। তার কণ্ঠস্বর এখনো আগের মতোই কর্তৃত্ববাদী। সম্প্রতি এক প্রকাশ্য অডিও বার্তায় তিনি সরাসরি চ্যালেঞ্জ ছুড়েছেন বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারকে। তার দাবি, ড. ইউনূস জোর করে ক্ষমতা দখল করেছেন এবং দেশ এখন নরকে পরিণত হয়েছে।
রাজনীতিতে শেষ কথা বলে কিছু নেই। শেখ হাসিনা এখন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের দেওয়া মৃত্যুদণ্ডের রায়কে স্রেফ ‘মিথ্যা’ বলে উড়িয়ে দিচ্ছেন। তিনি চান তার সমর্থকরা আসন্ন ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন ভণ্ডুল করে দিক। ভারত সরকার যদিও তাকে নিরাপদ আশ্রয় দিয়েছে, কিন্তু এই রাজনৈতিক তৎপরতা নিয়ে দুই দেশের মধ্যে তৈরি হয়েছে চরম কূটনৈতিক টানাপোড়েন। বাংলাদেশ সরকারের কাছে এটি একটি প্রকাশ্য অবমাননা।
অতীতের ভুল আর নতুন নাটকের দোলাচল
সবাই এক সুরে কথা বলছেন না। আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতাদের বড় অংশই এখনো নিজেদের শাসনামলের গুম, খুন কিংবা অর্থপাচারের কোনো দায় নিতে রাজি নন। বাহাউদ্দিন নাছিমের মতো নেতারা কলকাতায় বসে হেসেই উড়িয়ে দিচ্ছেন সব অভিযোগ। তারা এখনো বিশ্বাস করেন, ২০২৪ সালের আগস্টের সেই ছাত্র-জনতার বিপ্লব ছিল স্রেফ একদল ‘সন্ত্রাসীর’ মাধ্যমে ক্ষমতা দখল। অথচ জাতিসংঘের রিপোর্টে উঠে এসেছে বীভৎস গণহত্যার চিত্র।
ভিন্ন সুরও শোনা যাচ্ছে মাঝেমধ্যে। তানভীর শাকিল জয়ের মতো কিছু নেতা স্বীকার করছেন যে, তারা পুরোপুরি গণতান্ত্রিক ছিলেন না এবং ২০১৮ সালের নির্বাচনে কারচুপি হয়েছিল। তারা কি সত্যিই অনুতপ্ত নাকি এটি নতুন কোনো কৌশলের অংশ? রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে ২০০ বিলিয়ন ডলার পাচারের পাহাড়প্রমাণ অভিযোগ তো আর স্রেফ কথায় মুছে যাবে না। তবে তাদের বিশ্বাস, মানুষ আবার আওয়ামী লীগকেই বেছে নেবে।
আরো পড়ুন:-ট্রাম্পের বড় ঘোষণা: ভারতের ওপর শুল্ক ৫০% থেকে কমে ১৮%
মাঠের লড়াই বনাম আইনি ফাঁদ
ছাত্রলীগের নেতারা এখন পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। সাদ্দাম হোসেনের মতো নেতারা দাবি করছেন, তারা জেলের ভয়ে নয় বরং প্রাণের ভয়ে কলকাতায় আশ্রয় নিয়েছেন। তাদের সংগঠনটিকে সরকার ইতোমধ্যে ‘সন্ত্রাসী সংগঠন’ হিসেবে নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে। তারা এখন নেত্রীর নির্দেশে নিরবচ্ছিন্ন যোগাযোগ রাখছেন তৃণমূলের সাথে। লক্ষ্য একটাই—যেকোনো উপায়ে আবার বীরের বেশে বাংলাদেশে ফিরে আসা।
আইনের হাত অনেক বেশি লম্বা। অন্তর্বর্তী সরকার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে যে, আগামী নির্বাচন হবে গত এক দশকের মধ্যে সবচেয়ে অবাধ এবং স্বচ্ছ। আওয়ামী লীগকে এই নির্বাচনে নিষিদ্ধ করা হয়েছে তাদের অতীতের সব অপকর্মের দায়ে। এখন দেখার বিষয়, কলকাতার সেই বিলাসবহুল ভিলা থেকে দেওয়া নির্দেশগুলো বাংলাদেশের মাটিতে কতটুকু কার্যকর হয়। বিচারহীনতার সংস্কৃতি থেকে বের হয়ে দেশ কি পারবে নতুন পথে হাঁটতে? আরো জানতে ভিজিট করুন।