রাজধানীর পূর্বাচলের মনোরম পরিবেশে সম্প্রতি এক জাঁকজমকপূর্ণ অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে ক্যাডেট কলেজ ক্লাব লিমিটেডের ২০২৬ সালের নতুন কার্যনির্বাহী পর্ষদ দায়িত্ব গ্রহণ করেছে। বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান এই জমকালো অভিষেক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে নতুন কমিটির হাতে ক্লাবের উজ্জ্বল ভবিষ্যতের চাবিকাঠি তুলে দেন। প্রায় ১৬০০ সদস্য এবং তাদের পরিবারের উপস্থিতিতে পুরো ক্লাব প্রাঙ্গণ যেন এক আনন্দময় মিলনমেলায় পরিণত হয়েছিল। উৎসবমুখর এই আয়োজনে ক্লাবের ঐতিহ্য ও ভ্রাতৃত্বের বন্ধন আরও দৃঢ় করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন নতুন পর্ষদের সদস্যরা।
অনুষ্ঠানটি ছিল প্রাণবন্ত। রাজউকের চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার মো. রিয়াজুল ইসলাম বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে অনুষ্ঠানটিকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যান। এটি ছিল এক মিলনমেলা। দেশের বিভিন্ন খাতের গণ্যমান্য ব্যক্তিদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ পুরো আয়োজনকে অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ করে তোলে।
নতুন নেতৃত্ব এখন প্রস্তুত। ২০২৬ সালের জন্য নির্বাচিত এই পর্ষদ ক্লাবের উন্নয়নে যুগান্তকারী ভূমিকা রাখবে বলে সবাই আশা করছেন। নির্বাচন কমিশন প্রধান কায়জার সোহেল আহমেদ নতুন সদস্যদের পরিচয় করিয়ে দিলে করতালি আর উল্লাসে ফেটে পড়ে পুরো ক্লাব প্রাঙ্গণ। নবনির্বাচিত সদস্যদের চোখে-মুখে ছিল নতুন কিছু করার অদম্য স্বপ্ন।
সেনাপ্রধানের উপস্থিতি ছিল অনুপ্রেরণার। জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান তার বক্তব্যে ক্লাবের সদস্যদের ঐক্য এবং দেশ গঠনে তাদের ভূমিকার প্রশংসা করেন। এটি ছিল এক ঐতিহাসিক মুহূর্ত। তার হাত থেকে সম্মাননা গ্রহণ করার সময় ক্লাবের প্রেসিডেন্ট আর্কিটেক্ট ইস্তিয়াক জহির তিতাস এক আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি করেন।
ঢাকা ব্যাংক ছিল এই আয়োজনের প্রাণ। ব্যাংকটির চেয়ারম্যান আব্দুল হাই সরকার সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে ক্লাবের সাথে তাদের দীর্ঘদিনের সম্পর্কের কথা স্মরণ করেন। স্পন্সর হিসেবে তারা ছিল অপ্রতিদ্বন্দ্বী। ঢাকা ব্যাংকের এই সহযোগিতা ছাড়া এত বড় আয়োজন সফল করা ছিল সত্যিই অসম্ভব একটি কাজ।
প্রেসিডেন্ট তিতাস নতুন দিশারি। তার বলিষ্ঠ নেতৃত্বে ক্লাবটি ২০২৬ সালে এক নতুন উচ্চতায় পৌঁছাবে বলে ভক্ত ও সদস্যরা বিশ্বাস করছেন। তিনি সবার সহযোগিতা চান। ডিরেক্টর অ্যাডমিন তাহমিনা রহমান অনুর চমৎকার সঞ্চালনা ও বক্তব্য উপস্থিত সবাইকে দারুণভাবে মুগ্ধ করেছিল।
পূর্বাচলে এখন খুশির জোয়ার। সেনাবাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে শুরু করে রাজউক ও ব্যাংকিং খাতের পেশাজীবীদের পদচারণায় মুখরিত ছিল ক্যাডেট কলেজ ক্লাবের আঙিনা। পুরোনো বন্ধুদের দেখা হলো। দীর্ঘদিনের স্মৃতিরোমন্থন আর আড্ডায় সবাই মেতেছিলেন এবং নতুন কমিটির কাছে দারুণ কিছু প্রত্যাশা করছিলেন।
আরো পড়ুন:-রিজার্ভ ফের ৩৩ বিলিয়ন ডলার ছাড়াল: অর্থনীতির বড় জয়
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে সবাই আশাবাদী। রিপ্রেজেন্টেটিভ কমিটির সদস্যরাও ২০২৬ সালকে ক্লাবের সেরা একটি বছর হিসেবে গড়ে তুলতে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার প্রতিশ্রুতি দেন। এটি ছিল এক অঙ্গীকার। ক্যাডেটদের এই শক্তিশালী নেটওয়ার্ক কেবল নিজেদের মধ্যে নয়, বরং জাতীয় পর্যায়েও অবদান রাখতে সর্বদা প্রস্তুত।
পরিবারগুলো মেতেছিল আনন্দে। সদস্য এবং তাদের স্পাউসদের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতি পুরো সন্ধ্যাটিকে একটি বিশাল পারিবারিক আড্ডার মতো সুন্দর রূপ দিয়েছিল। গান আর খাবার ছিল চমৎকার। এমন একটি সন্ধ্যার স্মৃতি হয়তো অনেক দিন সদস্যদের মনে এক পশলা সজীবতা হয়ে জেগে থাকবে।
সবশেষে দায়িত্বের ডাক। নতুন পর্ষদ এখন নিজেদের কাজে ঝাঁপিয়ে পড়ার অপেক্ষায় আছে যাতে ক্লাবের মান অক্ষুণ্ণ থাকে। সবাই তাদের অভিনন্দন জানান। আর্কিটেক্ট ইস্তিয়াক জহির তিতাসের নেতৃত্বে এই নতুন যাত্রা সফল হোক—এটাই ছিল সবার প্রাণের প্রার্থনা। আরো জানতে ভিজিট করুন।