বাণিজ্য মেলায় ৩৯৩ কোটির রেকর্ড বিক্রি: পর্দা নামল আসরের - Trend Bd

বাণিজ্য মেলায় ৩৯৩ কোটির রেকর্ড বিক্রি: পর্দা নামল আসরের

রাজধানীর পূর্বাচলে নবনির্মিত বাংলাদেশ-চায়না ফ্রেন্ডশিপ এক্সিবিশন সেন্টারে পর্দা নামল ২৯তম ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলার (ডিআইটিএফ)। এবারের আসরে অভাবনীয় সাড়া পাওয়া গেছে। মাসব্যাপী চলা এই মেলায় মোট ৩৯৩ কোটি টাকার পণ্য বিক্রি হয়েছে। এর পাশাপাশি দেশি প্রতিষ্ঠানগুলো প্রায় ২২৪ কোটি টাকার রপ্তানি আদেশ পেয়েছে, যা দেশের অর্থনীতিতে বড় ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে আশা করা হচ্ছে।

শনিবার (৩১ জানুয়ারি ২০২৬) বিকেলে মেলার সমাপনী অনুষ্ঠানে আনুষ্ঠানিকভাবে এই ব্যবসায়িক পরিসংখ্যান তুলে ধরা হয়। বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন। গত বছরের তুলনায় এবারের মেলায় বিক্রির পরিমাণ বেড়েছে ৩.৪২ শতাংশ, যা উদ্যোক্তাদের মধ্যে নতুন আশার সঞ্চার করেছে।

৩৯৩ কোটির বেচাকেনা ও রপ্তানি সাফল্য

বাণিজ্য মেলার এবারের আসরে শুরু থেকেই ক্রেতাদের ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো। আয়োজক রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) জানায়, মেলায় স্থানীয় ক্রেতাদের কাছে রেস্তোরাঁসহ মোট ৩৯৩ কোটি টাকার পণ্য বিক্রি হয়েছে। অর্থনৈতিক মন্দার মাঝেও বিক্রির এই প্রবৃদ্ধি দেশের অভ্যন্তরীণ বাজারের সক্ষমতাকেই ফুটিয়ে তুলেছে।

রপ্তানি আদেশের ক্ষেত্রেও এবারের মেলা বড় চমক দেখিয়েছে। মেলা চলাকালীন ১ কোটি ৮০ লাখ ডলার বা প্রায় ২২৪ কোটি টাকার সম্ভাব্য রপ্তানি আদেশ পাওয়া গেছে। আফগানিস্তান, সিঙ্গাপুর, হংকং, ইন্দোনেশিয়া, ভারত, পাকিস্তান, মালয়েশিয়া ও তুরস্কের মতো দেশগুলো বাংলাদেশি পণ্যের প্রতি বিশেষ আগ্রহ দেখিয়েছে। এতে প্রমাণিত হয় যে, আন্তর্জাতিক বাজারে আমাদের পণ্যের চাহিদা দিন দিন বাড়ছে।

অংশগ্রহণকারী দেশ ও প্রতিষ্ঠান

পূর্বাচলের এই আধুনিক এক্সিবিশন সেন্টারে এবারের মেলায় দেশি-বিদেশি মোট ৩২৯টি প্রতিষ্ঠান তাদের পণ্যের পসরা সাজিয়েছিল। এর মধ্যে ভারত, তুরস্ক, সিঙ্গাপুর, ইন্দোনেশিয়া, হংকং ও মালয়েশিয়া—এই ছয়টি দেশের ১১টি নামী প্রতিষ্ঠান অংশ নেয়। বিদেশি প্রতিষ্ঠানগুলোর উপস্থিতি মেলায় এক ভিন্ন মাত্রা যোগ করেছিল।

মেলায় কটেজ, মাইক্রো, ক্ষুদ্র, মাঝারি ও ভারী শিল্পের অন্তর্ভুক্ত সব ধরনের পণ্য প্রদর্শিত হয়েছে। পোশাক থেকে শুরু করে চামড়াজাত পণ্য, পাটজাত পণ্য, আসবাবপত্র, ইলেকট্রিক্যাল ও ইলেকট্রনিকস, প্রসাধন সামগ্রী, প্লাস্টিক এবং দৃষ্টিনন্দন হস্তশিল্প—সবই ছিল এক ছাদের নিচে। বিশেষ করে ঘর সাজানোর সামগ্রী এবং ইলেকট্রনিক্স পণ্যের স্টলগুলোতে ক্রেতাদের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে।

আরো পড়ুন:-সোনার দামে অবিশ্বাস্য পতন: এক ভরিতে কমল ৩০ হাজার টাকা!

৪০টি প্রতিষ্ঠান পেল শ্রেষ্ঠত্বের পুরস্কার

মেলার সমাপনী দিনে অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্য থেকে সেরা ৪০টি প্রতিষ্ঠানকে বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে পুরস্কৃত করা হয়েছে। নির্মাণ কাঠামো, স্থাপত্য সৌন্দর্য, পণ্যের মান ও উন্নত সেবা এবং পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা—এই সব সূচক বিবেচনা করে জুরি বোর্ড বিজয়ীদের নির্বাচন করে। পুরস্কারপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের এই স্বীকৃতিকে ভবিষ্যতের জন্য বড় অনুপ্রেরণা হিসেবে দেখছে।

বাণিজ্য সচিব মাহবুবুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন এফবিসিসিআইর প্রশাসক মো. আবদুর রহিম খান এবং ইপিবির ভাইস চেয়ারম্যান মোহাম্মদ হাসান আরিফ। অতিথিরা বলেন, পূর্বাচলে মেলা স্থানান্তর করায় প্রথম দিকে কিছুটা দ্বিধা থাকলেও এখন এটি পূর্ণাঙ্গ রূপ পেয়েছে। যাতায়াত ব্যবস্থা আরও উন্নত হওয়ায় ক্রেতা-দর্শনার্থীদের আগমন অনেক সহজ হয়েছে।

আগামীর প্রত্যাশা ও চ্যালেঞ্জ

বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন তার বক্তব্যে উল্লেখ করেন, বাণিজ্য মেলা কেবল কেনাবেচার জায়গা নয়, এটি আমাদের শিল্প ও সংস্কৃতির মেলবন্ধন। এবারের আসরে তরুণ উদ্যোক্তাদের অংশগ্রহণ ছিল চোখে পড়ার মতো। তিনি আশা প্রকাশ করেন, আগামী বছরগুলোতে মেলার পরিসর আরও বৃদ্ধি পাবে এবং আরও বেশি সংখ্যক দেশি পণ্য বিশ্ববাজারে জায়গা করে নেবে।

আরো পড়ুন:-শীত শেষ হতেই সবজির বাজারে আগুন! জানুন আজকের রেট কত?

তবে পূর্বাচলে যাতায়াতের ক্ষেত্রে বিআরটিসি বাসের সংখ্যা বাড়ানো এবং যানজট নিরসনে আরও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন মেলায় আসা সাধারণ দর্শনার্থীরা। আয়োজকরাও আশ্বস্ত করেছেন যে, আগামী মেলায় আধুনিক সুযোগ-সুবিধা আরও বাড়ানো হবে। রপ্তানি আদেশগুলো যাতে বাস্তবে রূপ পায়, সেদিকেও নজর দেওয়া হচ্ছে। আরো জানতে ভিজিট করুন।

Leave a Comment