ঢাবির লিজেন্ডরা ফিরলেন! ইমেরিটাস হলেন ৪ বাঘা শিক্ষাবিদ - Trend Bd

ঢাবির লিজেন্ডরা ফিরলেন! ইমেরিটাস হলেন ৪ বাঘা শিক্ষাবিদ

ঢাবিতে খুশির জোয়ার। সদ্যই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারজন কিংবদন্তি শিক্ষককে ইমেরিটাস অধ্যাপক হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার খবরটি পুরো ক্যাম্পাস জুড়ে এক ধরনের পজিটিভ এনার্জি ছড়িয়ে দিয়েছে। ম্যাচ তো জিতেছে শিক্ষা। মঙ্গলবার এই ঘোষণা আসার পর থেকেই শিক্ষার্থীরা এবং বর্তমান শিক্ষকরাও এই সিদ্ধান্তকে সাধুবাদ জানাচ্ছেন কারণ এই লিজেন্ডদের হাত ধরেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় তার গৌরব ফিরে পেতে পারে।

ঢাবির আকাশে নতুন চার নক্ষত্র: লিজেন্ডদের গ্র্যান্ড এন্ট্রি!

স্কোয়াডে যোগ দিলেন সেরা চার। অধ্যাপক ড. আনোয়ারউল্লাহ চৌধুরী এবং অধ্যাপক ড. এ. এফ. এম. ইউসুফ হায়দারের মতো সাবেক উপাচার্যরা যখন আবার সক্রিয়ভাবে একাডেমিকভাবে যুক্ত হন তখন সেটি বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য বড় এক প্রাপ্তি। আসল হিরোরাই ফিরেছেন। এর সাথে ড. তাজমেরী এস ইসলাম এবং ড. চৌধুরী মাহমুদ হাসানের মতো বিজ্ঞান ও ফার্মেসি জগতের দিকপালরা থাকায় বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণার পাল্লা এখন অনেক বেশি ভারী হয়ে গেল।

নেতৃত্বের ধ্রুবতারা এঁরা। অধ্যাপক আনোয়ারউল্লাহ চৌধুরী সমাজবিজ্ঞানের এক জীবন্ত এনসাইক্লোপিডিয়া যিনি দীর্ঘকাল উপাচার্যের দায়িত্ব পালন করেছেন এবং শিক্ষার্থীদের মাঝে জ্ঞানের আলো ছড়িয়েছেন অক্লান্তভাবে। ক্যারিয়ারিশম্যাটিক পারফরম্যান্স ছিল তাঁর। অন্যদিকে ইউসুফ হায়দার স্যার ফিজিক্সের এমন একজন জাদুকর যার গবেষণাপত্রগুলো আন্তর্জাতিক মহলে এখনো সমানভাবে সমাদৃত এবং তাঁর প্রশাসনিক অভিজ্ঞতা বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান ক্রান্তিলগ্নে আলোকবর্তিকা হিসেবে কাজ করবে।

বিজ্ঞানের দুই সারথি। ড. তাজমেরী এস ইসলাম ম্যাডাম বিজ্ঞান অনুষদের ডিন হিসেবে যে আধুনিকতার ছোঁয়া দিয়েছিলেন তা আজও শিক্ষার্থীরা শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করে এবং তাঁর ইমেরিটাস হওয়াটা নারীদের গবেষণায় উদ্বুদ্ধ করবে। গেম চেঞ্জার হতে পারেন তিনি। চৌধুরী মাহমুদ হাসান স্যার ফার্মেসি জগতের এমন এক স্তম্ভ যাঁর পরামর্শে দেশের ওষুধ শিল্প বিশ্ববাজারে শক্ত অবস্থান তৈরি করেছে এবং তাঁর এই নতুন যাত্রা শিক্ষার্থীদের নতুন উদ্ভাবনে সাহস জোগাবে।

আরো পড়ুন:-আইইউবিএটিতে স্প্রিং ২০২৬ সেমিস্টারের জমকালো নবীনবরণ

ইমেরিটাস অধ্যাপক আসলে কী? সম্মানের সর্বোচ্চ চূড়া

গৌরবের এক মুকুট। ইমেরিটাস অধ্যাপক পদটি কোনো সাধারণ নিয়োগ নয় বরং এটি একজন শিক্ষকের সারা জীবনের সাধনার এক বিরল স্বীকৃতি যা কেবল অসাধারণ মেধাবীরাই অর্জন করতে পারেন। লড়াইটা মেধার সাথে। সাধারণত অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকদের মধ্যে যারা শিক্ষা ও গবেষণায় অসামান্য অবদান রাখেন কেবল তাদেরই এই আজীবন সম্মাননা প্রদান করা হয় যাতে বিশ্ববিদ্যালয় তাদের মেধা থেকে বঞ্চিত না হয়।

সুযোগ-সুবিধার তালিকাটি লম্বা। এই পদে আসীন শিক্ষকরা বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসন সুবিধা ছাড়া একজন নিয়মিত অধ্যাপকের মতো প্রায় সব ধরণের আর্থিক ও প্রাতিষ্ঠানিক সুযোগ-সুবিধা ভোগ করতে পারেন। সম্মানটা অন্য উচ্চতার। এর মধ্যে গবেষণার জন্য বিশেষ তহবিল, আলাদা চেম্বার, সেক্রেটারিয়াল সহায়তা এবং সমৃদ্ধ লাইব্রেরি ব্যবহারের অবারিত সুযোগ থাকে যা একজন সত্যিকারের জ্ঞানপিপাসু মানুষের জন্য শ্রেষ্ঠ উপহার।

গবেষণাই আসল কথা। ইমেরিটাস অধ্যাপকরা মূলত বিশ্ববিদ্যালয়ের বড় বড় প্রজেক্টে মেন্টর হিসেবে কাজ করেন এবং তরুণ গবেষকদের পথ দেখিয়ে সাফল্যের শিখরে নিয়ে যাওয়ার দায়িত্ব পালন করেন। তাঁরা হলেন টিম লিডার। তাঁদের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় আন্তর্জাতিক র‍্যাঙ্কিংয়ে নিজেদের অবস্থান আরও মজবুত করতে পারে এবং দেশের জন্য টেকসই উন্নয়নের নতুন নতুন মডেল তৈরি করতে সক্ষম হয়।

আরো পড়ুন:-বাংলাদেশে আসছে নতুন রাজনৈতিক সরকার: আলী রীয়াজের হুংকার

ঐতিহ্যের পাশে নতুন চার কান্ডারি: হ্যাটট্রিক নয়, তেরোর মাইলফলক

আগের লিজেন্ডরা আছেন। সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী, সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম বা আতিউর রহমান স্যারের মতো নয়জন রথী-মহারথী আগে থেকেই ইমেরিটাস অধ্যাপক হিসেবে ঢাবিকে আলোকিত করে রেখেছেন। স্কোয়াড এখন আরও শক্তিশালী। নতুন এই চারজন যোগ দেওয়ায় এখন মোট সংখ্যা তেরোতে পৌঁছালো এবং এটি প্রমাণ করে যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় তার শ্রেষ্ঠ সন্তানদের অবদানকে কখনোই অবহেলা করে না বরং তাদের বুক আগলে রাখে।

একদম ক্লাসিক সব নাম। অধ্যাপক খন্দকার বজলুল হক বা এ কে আজাদ চৌধুরী স্যারদের মতো ব্যক্তিত্বরা যখন একসাথে কাজ করবেন তখন শিক্ষার মাঠে গোল হওয়াটা স্রেফ সময়ের ব্যাপার। এটি এক বিশাল পাওয়ার হাউস। এই প্রবীণ শিক্ষাবিদদের সম্মিলিত জ্ঞান আমাদের উচ্চশিক্ষার মানচিত্রে এমন এক বদল আনবে যা পরবর্তী কয়েক প্রজন্মকে গবেষণামুখী হতে উৎসাহিত করবে এবং বিদেশের বিশ্ববিদ্যালয়ে যাওয়ার প্রবণতা কমাবে।

ইতিহাস গড়ার নেশা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সবসময়ই সংকটে ও সংগ্রামে পথ দেখিয়েছে আর এই চারজন শিক্ষাবিদ সেই ঐতিহ্যের ধারক ও বাহক হিসেবে এখন আরও বেশি প্রভাবশালী ভূমিকা পালন করবেন। তাঁরা হলেন ট্রাম্প কার্ড। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিটি ইটের সাথে যাঁদের নাড়ির টান তাঁরা যখন গবেষণাগারে ফিরবেন তখন পুরো পরিবেশটাই বদলে যাবে এবং শিক্ষার্থীরা খুঁজে পাবে তাদের আসল আশ্রয়স্থল।

আরো পড়ুন:-রাবিতে হট্টগোল: ১৬৫ ‘ফ্যাসিস্ট’ শিক্ষকের তালিকা নিয়ে তোলপাড়

গবেষণার মাঠে ডার্বি জয়: ঢাবির আগামীর পথচলা

গবেষণায় আসবে জোয়ার। বর্তমান যুগে কেবল তত্ত্ব দিয়ে বিশ্ব জয় করা সম্ভব নয় বরং দরকার আধুনিক ল্যাব আর বিশ্বমানের গবেষণাপত্র যা এই অভিজ্ঞ শিক্ষকরা সহজেই নিশ্চিত করতে পারবেন। মাঠের আসল লড়াই শুরু। ড. তাজমেরী এস ইসলাম এবং ড. চৌধুরী মাহমুদ হাসানের মতো বিজ্ঞানীদের হাত ধরে নতুন নতুন বৈজ্ঞানিক থিওরি ও মেডিসিন নিয়ে কাজ করার দ্বার উন্মোচিত হবে যা দেশের অর্থনীতিতেও প্রভাব ফেলবে।

স্বপ্ন এখন আকাশছোঁয়া। একজন ফুটবল ফ্যান যেমন তার দলের জয়ে উল্লাস করে আমরাও তেমনি আমাদের শিক্ষকদের এই প্রাপ্তিতে গর্বিত কারণ তাঁদের জয় মানেই বাংলাদেশের শিক্ষার জয়। আমরা হারতে শিখিনি। নতুন প্রজন্মের গবেষকরা এখন এই ইমেরিটাস স্যারদের সরাসরি সান্নিধ্য পাবেন যা তাঁদের চিন্তা করার ক্ষমতাকে বহুগুণ বাড়িয়ে দেবে এবং বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় তাঁদের তৈরি করবে।

সবুজ ঘাসের ক্যাম্পাস। রোকেয়া হলের সামনে দিয়ে বা কার্জন হলের বারান্দায় যখন এই লিজেন্ডরা আবার নিয়মিত পদচারণা করবেন তখন ছোট ছোট ভাইবোনরা দেখবে সাফল্যের আসল প্রতিচ্ছবি কেমন হয়। প্রেরণা আসবে ভেতর থেকে। এই নিয়োগ কেবল একটি প্রশাসনিক অর্ডার নয় বরং এটি জ্ঞানভিত্তিক সমাজ গড়ার পথে এক বড় পদক্ষেপ যা আমাদের ভবিষ্যৎকে অনেক বেশি নিরাপদ ও সমৃদ্ধ করে তুলবে ইনশাআল্লাহ।

শিক্ষার জয়গান গাই। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় তার চিরচেনা রূপে ফিরছে আর এই চারজন নক্ষত্রের আলোতে আমাদের অন্ধকার কেটে যাবে কারণ জ্ঞানই হলো একমাত্র আলো যা কখনো নিভে যায় না। আমরা আছি সাথে। আসুন আমরা সবাই মিলে এই চার কৃতি শিক্ষককে অভিনন্দন জানাই এবং তাঁদের দীর্ঘায়ু কামনা করি যাতে আরও অনেক বছর তাঁরা আমাদের ছায়া দিয়ে আগলে রাখতে পারেন। আরো জানতে ভিজিট করুন।

Leave a Comment