সোনার দামে বিশাল ধস: এক দিনেই কমলো ১৪,৬০০ টাকা! - Trend Bd

সোনার দামে বিশাল ধস: এক দিনেই কমলো ১৪,৬০০ টাকা!

সোনার দামে বড় পতন: প্রতি ভরিতে কমলো ১৪,৬০০ টাকা! স্বস্তিতে ক্রেতারা

দেশের বাজারে টানা পাঁচবার দাম বাড়ার পর অবশেষে বড় ধরনের সুখবর দিল বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস)। মাত্র এক দিনের ব্যবধানে সোনার দামে বিশাল ধস নেমেছে। প্রতি ভরিতে সর্বোচ্চ ১৪ হাজার ৬০০ টাকা পর্যন্ত কমানোর ঘোষণা দিয়েছে সংগঠনটি। ফলে ভালো মানের প্রতি ভরি সোনার দাম এখন ২ লাখ ৭১ হাজার টাকায় নেমে এসেছে।

এর আগে গতকাল বৃহস্পতিবার সোনার দাম বেড়ে ২ লাখ ৮৬ হাজার টাকায় পৌঁছেছিল। যা ছিল বাংলাদেশের ইতিহাসে সোনার সর্বোচ্চ দাম। মাত্র ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে এই বিশাল দরপতন সাধারণ ক্রেতা এবং ব্যবসায়ীদের মাঝে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। শুক্রবার সকাল ১০টা ৪৫ মিনিট থেকেই নতুন এই দাম কার্যকর হয়েছে।

কেন কমলো সোনার দাম?

বাজুসের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, স্থানীয় বাজারে তেজাবি বা পাকা সোনার (পিওর গোল্ড) দাম কমেছে। সাধারণত স্থানীয় বাজারে কাঁচামালের সরবরাহ বাড়লে বা চাহিদা কমলে এই দাম কমে থাকে। এছাড়া আন্তর্জাতিক বাজারের প্রভাব তো রয়েছেই। আন্তর্জাতিক বাজারে বড় ধরনের দরপতনের ফলেই দেশের বাজারে এই সমন্বয় করা হয়েছে।

বিশ্বজুড়ে সোনা ও রুপার দামের নির্ভরযোগ্য ওয়েবসাইট গোল্ডপ্রাইস.ওআরজি (Goldprice.org) সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার সকালে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতি আউন্স সোনার দাম ৫ হাজার ২০০ ডলারে নেমে এসেছে। অথচ গতকালই এই দাম ৫ হাজার ৫৫০ ডলার ছাড়িয়ে গিয়েছিল। একদিনের ব্যবধানে আউন্সপ্রতি ৩৫০ ডলারের এই পতনই বাংলাদেশের বাজারে সোনার দাম কমানোর মূল কারিগর হিসেবে কাজ করেছে।

এক নজরে সোনার নতুন দাম

নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আজ থেকে বাজারে বিভিন্ন মানের সোনার দাম নিচের মতো নির্ধারণ করা হয়েছে:

  • ২২ ক্যারেট (ভালো মানের): প্রতি ভরি ২ লাখ ৭১ হাজার টাকা।
  • ২১ ক্যারেট: প্রতি ভরি ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮০০ টাকা (আনুমানিক)।
  • ১৮ ক্যারেট: প্রতি ভরি ২ লাখ ২১ হাজার ৮০০ টাকা (আনুমানিক)।
  • সনাতন পদ্ধতির সোনা: প্রতি ভরি ১ লাখ ৮৪ হাজার ৮০০ টাকা (আনুমানিক)।

উল্লেখ্য যে, সোনার দামের ওপর সরকার নির্ধারিত ৫ শতাংশ ভ্যাট এবং বাজুস নির্ধারিত ন্যূনতম মজুরি আলাদাভাবে যোগ করতে হবে। ফলে অলংকার কেনার সময় প্রকৃত খরচ কিছুটা বেশি হবে।

আরো পড়ুন:-নগদে ম্যানেজার পদে নিয়োগ ২০২৬: সপ্তাহে ২ দিন ছুটি ও বোনাস

বিয়ের মৌসুমে বড় স্বস্তি

বর্তমানে দেশে বিয়ের মৌসুম চলছে। গত কয়েক মাস ধরে সোনার দাম আকাশচুম্বী হওয়ায় মধ্যবিত্ত পরিবারগুলো বড় বিপাকে পড়েছিল। এক ভরি সোনা কিনতেই যেখানে প্রায় ৩ লাখ টাকার কাছাকাছি খরচ হচ্ছিল, সেখানে ১৪ হাজার ৬০০ টাকা কমা বিশাল একটি ব্যাপার। বাজুসের এই ঘোষণায় অলংকার ক্রেতাদের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে। অনেক ক্রেতাই এখন দোকানে ভিড় করছেন সাশ্রয়ী দামে গয়না তৈরির জন্য।

বিনিয়োগকারীদের অস্থিরতা

দাম কমলে ক্রেতারা খুশি হলেও বিনিয়োগকারীদের মধ্যে কিছুটা দুশ্চিন্তা কাজ করছে। যারা উচ্চ মূল্যে সোনা কিনে রেখেছেন, হুট করে দাম কমে যাওয়ায় তারা কিছুটা লোকসানের মুখে পড়েছেন। তবে বিশ্লেষকদের মতে, সোনার বাজার সবসময়ই অস্থিতিশীল। দীর্ঘমেয়াদী বিনিয়োগের ক্ষেত্রে এই ওঠানামা খুব একটা প্রভাব ফেলে না। যারা দীর্ঘ সময়ের জন্য সোনা কিনে রাখতে চান, তাদের জন্য বর্তমান দামটি একটি ভালো সুযোগ হতে পারে।

আন্তর্জাতিক বাজারের ভবিষ্যৎ পরিস্থিতি

আন্তর্জাতিক বাজারে সোনার দাম কমার পেছনে মার্কিন ডলারের শক্তিশালী হওয়া এবং বৈশ্বিক অর্থনীতির কিছু পরিবর্তন কাজ করছে বলে মনে করা হচ্ছে। আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীরা যদি সোনা ছেড়ে ডলারে বিনিয়োগ বাড়ায়, তবে দাম আরও কমতে পারে। তবে মধ্যপ্রাচ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতি বা অন্য কোনো বড় অর্থনৈতিক সংকটে সোনার দাম আবার লাফিয়ে বাড়তে পারে। বাজুস জানিয়েছে, তারা সবসময়ই আন্তর্জাতিক বাজারের দিকে নজর রাখছে এবং পরিস্থিতি অনুযায়ী দাম সমন্বয় করা হবে।

আরো পড়ুন:-ওজন কমাতে কাঠবাদাম না চিনাবাদাম? কোনটি দ্রুত মেদ কমাবে জেনে নিন

রুপার দাম কি কমেছে?

সোনার দামের এই বিশাল পরিবর্তনের সময় সাধারণত রুপার দামেও কিছুটা প্রভাব পড়ে। তবে বাজুসের আজকের বিজ্ঞপ্তিতে রুপার দাম নিয়ে আলাদা কোনো ঘোষণা দেওয়া হয়নি। বর্তমানে বাজারে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি রুপার দাম ২ হাজার ৭৪০ টাকা (পুরোনো নির্ধারিত দাম অনুযায়ী)। সোনার দামের এই বড় পতনের পর রুপার দামও সমন্বয় করা হয় কিনা, সেদিকে নজর রাখছেন ব্যবসায়ীরা।

সচেতন ক্রেতাদের জন্য পরামর্শ

হুট করে দাম কমলে বাজারে সোনার চাহিদা বেড়ে যায়। এ সময় ক্রেতাদের উচিত বিশ্বস্ত এবং বাজুস অনুমোদিত দোকান থেকে সোনা কেনা। অলংকার কেনার সময় হলমার্ক বা শুদ্ধতার প্রমাণ যাচাই করে নেওয়া জরুরি। যেহেতু এখন সোনার দাম বেশ ওঠানামা করছে, তাই কেনার আগে বর্তমান বাজার দর সম্পর্কে নিশ্চিত হয়ে নেওয়া ভালো।

বাজার বিশ্লেষকদের মতে, সোনার দাম ২ লাখ ৭১ হাজার টাকায় নেমে আসা মানে হলো বাজারে একটি বড় ধরনের পরিবর্তন আসা। গত কয়েক মাস ধরে দাম শুধু উপরের দিকেই যাচ্ছিল। দীর্ঘ বিরতির পর এই পতন প্রমাণ করে যে, বাজার সবসময় একদিকে চলে না। ক্রেতারা আশা করছেন, আন্তর্জাতিক বাজারে দরপতন অব্যাহত থাকলে দেশের বাজারে দাম আরও কমবে।

আরো পড়ুন:-আয়কর রিটার্নের সময় বাড়ল: শেষ সময় ২৮শে ফেব্রুয়ারি ২০২৬

বাজুসের এই সাহসী সিদ্ধান্তকে সাধুবাদ জানিয়েছেন সাধারণ মানুষ। বিশেষ করে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত যারা জমানো টাকায় একটু গয়না কিনতে চান, তাদের জন্য এটি বছরের অন্যতম সেরা খবর। এখন দেখার বিষয়, আগামী কয়েক দিনে সোনার বাজার কোন দিকে মোড় নেয়। আরো জানতে ভিজিট করুন।

Leave a Comment