বাইক চালানো তো কেবল শখ নয়, আমাদের মতো অনেকের কাছে এটা একটা আবেগ। কিন্তু এই আবেগের বাইকটি যখন ক্লাচ প্লেটের সমস্যায় পড়ে পারফরম্যান্স হারিয়ে ফেলে, তখন মনটা আসলেও খারাপ হয়ে যায়। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাইকের ক্লাচ প্লেট দ্রুত নষ্ট হওয়ার পেছনে মেকানিক্যাল সমস্যার চেয়ে আমাদের ছোট ছোট ভুল অভ্যাসগুলোই বেশি দায়ী। পকেট বাঁচাতে আর বাইকের ইঞ্জিনের আয়ু বাড়াতে এই বিষয়গুলো এখনই জানা আপনার জন্য খুব জরুরি। আজ আমরা আলোচনা করব কীভাবে খুব সহজেই আপনি আপনার বাইকের ক্লাচ প্লেটকে নতুনের মতো সতেজ রাখতে পারেন।
হাফ ক্লাচে বাইক চালানো বন্ধ করুন
অভ্যাসটি দ্রুত বদলে ফেলুন। জ্যামের মধ্যে বা ফাঁকা রাস্তায় অনেকেই অভ্যাসবশত ক্লাচ লিভারে হাত রেখে বাইক চালান যা একদমই উচিত নয়। এর ফলে ক্লাচ প্লেট সবসময় সামান্য চাপের মুখে থাকে এবং ভেতরে প্রচণ্ড ঘর্ষণ তৈরি হয়। এটি ক্লাচ প্লেট পুড়ে যাওয়ার প্রধান কারণ। রাইডিংয়ের সময় অপ্রয়োজনে ক্লাচ লিভার থেকে হাত সরিয়ে রাখুন।
জ্যামে ক্লাচ ধরে রাখবেন না। সিগন্যালে বেশিক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকলে বাইকটি নিউট্রাল করে রাখা সবচেয়ে ভালো বুদ্ধি হবে আপনার জন্য। বারবার হাফ ক্লাচ ব্যবহারের ফলে প্লেটগুলো দ্রুত ক্ষয় হতে থাকে। এতে ইঞ্জিনের পাওয়ার লস হয়। শুধু গিয়ার পরিবর্তন বা থামানোর সময় ক্লাচ ব্যবহার করার নিয়ম মানুন।
ক্লাচ লিভার অ্যাডজাস্টমেন্ট ও গিয়ার শিফটিং
অ্যাডজাস্টমেন্ট ঠিক রাখা জরুরি। ক্লাচ লিভার যদি খুব বেশি টাইট বা অতিরিক্ত ঢিলে থাকে, তবে ক্লাচ প্লেট পুরোপুরি মুক্ত হতে পারে না। আপনি যখন গিয়ার পরিবর্তন করেন, তখন প্লেটগুলো একে অপরের সাথে ঘষা খেতে থাকে। এটি বাইকের পিক-আপ কমিয়ে দেয়। ক্লাচ লিভারে অন্তত ২-৩ মিলিমিটার ‘ফ্রি-প্লে’ রাখা মাস্ট।
স্মুথলি গিয়ার পরিবর্তন করুন। গিয়ার বদলানোর সময় অনেকে ক্লাচ পুরোটা না চেপে জোরাজুরি করেন যা প্লেটের ওপর হাতুড়ির মতো আঘাত করে। তাড়াহুড়ো করে হুটহাট গিয়ার নামানো বা তোলা একদম বন্ধ করুন। ক্লাচ প্লেট সুস্থ থাকলে গিয়ার খুব সহজ আর স্মুথ হবে। বাইকের শব্দ শুনে গিয়ার বদলানোর অভ্যাস করুন।
আরো পড়ুন:-শীতে বাইক স্টার্ট নিতে সমস্যা? জানুন কোন গ্রেডের ইঞ্জিন অয়েল সেরা!
ইঞ্জিন অয়েল ও রক্ষণাবেক্ষণ
তেলই হলো ইঞ্জিনের প্রাণ। সঠিক গ্রেডের এবং মানসম্পন্ন ইঞ্জিন অয়েল ব্যবহার না করলে ক্লাচ প্লেট দ্রুত গরম হয়ে নষ্ট হয়ে যায়। লুব্রিকেন্ট যদি নিম্নমানের হয়, তবে প্লেটগুলোর মাঝখানে ঘর্ষণ বেড়ে গিয়ে সেগুলো পুড়ে যায়। তেলের মান খারাপ হলে গিয়ার শক্ত হয়ে যায়। সবসময় কোম্পানির রিকমেন্ড করা গ্রেডের তেল ব্যবহার করুন।
সময়মতো সার্ভিসিং করিয়ে নিন। ক্লাচ প্লেট একবার বসে গেলে কিন্তু পুরো ইঞ্জিন ওভারহোল করার ঝামেলায় পড়তে হতে পারে যা অনেক ব্যয়বহুল। নিয়মিত বিরতিতে ক্লাচ ক্যাবল এবং লিভার মেকানিজম চেক করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। প্লেট একবার ক্ষয় হলে আরপিএম বাড়লেও গতি বাড়বে না। এমন লক্ষণ দেখলে দেরি না করে মেকানিক দেখান। আরো জানতে ভিজিট করুন।