রাজধানীর মিরপুরের পীরেরবাগ এলাকায় নির্বাচনী এক পথসভায় গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য দিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, জনগণ কেবল পুরনো ফ্যাসিবাদ নয়, বরং ‘রঙিন জামা’ পরে আসা নতুন রূপের ফ্যাসিবাদকেও লাল কার্ড দেখিয়েছে। তাঁর এই বক্তব্যে দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং যুবসমাজের ভূমিকা নিয়ে নতুন করে আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
জনগণ রঙিন জামা পরা ফ্যাসিবাদকে লাল কার্ড দেখিয়েছে: পীরেরবাগে জামায়াত আমিরের হুংকার
দেশের বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে ফ্যাসিবাদের পুনরুত্থান নিয়ে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছেন জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান। রোববার রাতে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের ১৩ নম্বর ওয়ার্ডের পীরেরবাগ এলাকায় এক নির্বাচনী পথসভায় তিনি এসব কথা বলেন। তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, দেশের মানুষ এখন অনেক সচেতন এবং তারা কোনোভাবেই নতুন কোনো রূপের স্বৈরতন্ত্রকে বরদাশত করবে না।
ডা. শফিকুর রহমান তাঁর বক্তব্যে বলেন, যারা নতুন কৌশলে বা নতুন পোশাকে ফ্যাসিবাদ ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করছে, তাদের স্বপ্ন সফল হবে না। এদেশের মানুষ একবার তাদের প্রত্যাখ্যান করেছে এবং ভবিষ্যতে আবারও করবে। পীরেরবাগ কাঁচাবাজার সংলগ্ন এই সভায় বিপুল সংখ্যক মানুষের উপস্থিতিতে তিনি আগামীর বাংলাদেশের রূপরেখা তুলে ধরেন।
যুবকদের হাতেই থাকবে দেশের ‘ককপিট’
নির্বাচনী এই জনসভায় ডা. শফিকুর রহমান সবচেয়ে বেশি জোর দিয়েছেন তরুণ ও যুবসমাজের ওপর। তিনি বলেন, জুলাই-আগস্টের আন্দোলনে যুবকরাই বুকের রক্ত দিয়ে দেশকে স্বৈরাচারমুক্ত করেছে। তাই এই দেশ গড়ার এবং দেশ চালানোর দায়িত্বও তাদের হাতে থাকা উচিত। তিনি চান বাংলাদেশের নেতৃত্ব যেন তরুণ প্রজন্মের হাতেই থাকে।
তিনি এক চমৎকার রূপক ব্যবহার করে বলেন, “আমি চাই বাংলাদেশ নামক এই উড়োজাহাজের ককপিটে যুবকরাই বসুক।” তিনি নিজে সেই উড়োজাহাজের একজন সাধারণ যাত্রী হয়ে তাদের পাশে থাকতে চান। তিনি বিশ্বাস করেন, আগামীর বাংলাদেশ হবে তারুণ্যের শক্তিতে উজ্জীবিত এবং প্রযুক্তিনির্ভর।
আরো পড়ুন:-পড়াশোনায় সময় বাঁচানোর গোপন ট্রিক্স: ২০২৬ সালের সেরা গাইড
পচা ও দুর্গন্ধময় রাজনীতির অবসান
দেশের গত কয়েক দশকের রাজনীতিকে ‘পচা ও দুর্গন্ধময়’ বলে আখ্যা দেন জামায়াত আমির। তিনি মনে করেন, অতীতের সেই নোংরা রাজনীতির কারণেই দেশ পিছিয়ে পড়েছে এবং সাধারণ মানুষের ভোগান্তি বেড়েছে। এই সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসার জন্য তিনি যুবকদের কাতারেই লড়াই চালিয়ে যাওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন।
তিনি স্পষ্ট করে বলেন, “যুবকদের দায়িত্ব দিয়ে আমি বিশ্রামে যাব না। আমি লড়াইয়ের ময়দানে তোমাদের সাথেই থাকব।” তাঁর এই বক্তব্যে উপস্থিত তরুণদের মধ্যে ব্যাপক উদ্দীপনা দেখা যায়। তিনি মনে করেন, ইনসাফ ও ন্যায়ের ভিত্তিতে রাজনীতি প্রতিষ্ঠিত না হলে দেশের স্থায়ী মুক্তি সম্ভব নয়।
মায়েদের সম্মান রক্ষায় অনড় অবস্থান
বক্তব্যের এক পর্যায়ে ডা. শফিকুর রহমান জুলাই বিপ্লবের সময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রীদের ওপর হামলার ঘটনা স্মরণ করেন। তিনি বলেন, ১৫ই জুলাই মেয়েদের গায়ে যখন হাত দেওয়া হয়েছিল, তখন প্রতিটি বিবেকবান মানুষের কলিজা ছিন্নভিন্ন হয়ে গিয়েছিল। মায়েদের এবং বোনদের ইজ্জত রক্ষা করা প্রতিটি সন্তানের নৈতিক দায়িত্ব।
তিনি বলেন, “আমরা মায়েদের অপমান সইতে পারি না। জীবনের চেয়েও মায়ের সম্মান আমাদের কাছে বড়।” দেশের নারীদের ওপর কোনো ধরনের হামলা বা অসম্মানজনক আচরণ ভবিষ্যতে আর মেনে নেওয়া হবে না বলেও তিনি কঠোর হুঁশিয়ারি দেন। এই সময় তিনি সাধারণ মানুষের ওপর চলা নিপীড়নের বিরুদ্ধে আইনের আওতায় প্রতিবাদের আহ্বান জানান।
আরো পড়ুন:-নতুন বেতন স্কেল নিয়ে দুঃসংবাদ! আপাতত বাড়ছে না সরকারি বেতন
গুজব ও চারিত্রিক কুৎসা রটানোর প্রতিবাদ
সম্প্রতি তাঁকে ঘিরে ছড়ানো বিভিন্ন গুজবের কড়া জবাব দিয়েছেন ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, রাজনৈতিক প্রতিপক্ষরা যখন আদর্শ দিয়ে লড়াই করতে পারে না, তখন তারা চরিত্রহননের পথ বেছে নেয়। তাঁর নামে ছড়ানো কুৎসাগুলোকে তিনি অত্যন্ত নোংরা এবং পচা চিন্তার বহিঃপ্রকাশ হিসেবে বর্ণনা করেন।
তিনি বলেন, “যাদের নিজেদের চরিত্রে কোনো সম্পদ নেই, তারাই অন্যের চরিত্র নিয়ে কথা বলে।” তবে কোনো গুজবেই তিনি দমে যাবেন না বলে জানান। বরং এই ধরনের আক্রমণ তাঁকে সত্যের পথে আরও অটল থাকতে সাহায্য করবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
সব শ্রেণির মানুষের সমর্থন ও জামায়াতের গ্রহণযোগ্যতা
বর্তমান সময়ে জামায়াতে ইসলামীর প্রতি সর্বস্তরের মানুষের আকর্ষণ বাড়ছে বলে দাবি করেন আমীর। তিনি একজন সাধারণ নারীর উদাহরণ দেন, যিনি আধুনিক পোশাক পরা সত্ত্বেও জামায়াতকে সমর্থন জানিয়েছেন। সেই নারীর বক্তব্য উদ্ধৃত করে তিনি বলেন, জামায়াত ক্ষমতায় এলে দেশে সন্ত্রাস ও ভোটকেন্দ্র দখল বন্ধ হবে।
আরো পড়ুন:-পশ্চিমবঙ্গে নিপাহ ভাইরাসের হানা: জানুন বাঁচার উপায়
তিনি জানান, মানুষ এখন কেবল একটি নির্দিষ্ট গোষ্ঠী নয়, বরং যারা শান্তি ও শৃঙ্খলা ফেরাতে পারবে তাদেরই সমর্থন করছে। ১৩ তারিখের পরের বাংলাদেশ হবে আরও সুসংহত ও শক্তিশালী। যেখানে হিন্দু-মুসলিম নির্বিশেষে সবাই ঐক্যবদ্ধ হয়ে দেশ গড়ার কাজে হাত দেবে। আরো জানতে ভিজিট করুন।