আশায় বুক বেঁধে হাজার হাজার শিক্ষার্থী আজ পরীক্ষায় অংশ নিয়েছেন। এর মাধ্যমেই শেষ হলো জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের স্নাতক প্রথম বর্ষের ভর্তি যুদ্ধের আনুষ্ঠানিকতা। আজ শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) বি-ইউনিটের পরীক্ষার মধ্য দিয়ে দীর্ঘ এই ভর্তি কার্যক্রমের ইতি টানা হলো। ভর্তিচ্ছুদের এখন কেবল অপেক্ষা ফলাফলের।
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ইতিমধ্যেই পরবর্তী পদক্ষেপগুলো নিয়ে স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে। ফলাফল কবে আসবে এবং নবীন শিক্ষার্থীদের পদচারণায় ক্যাম্পাস কবে মুখরিত হবে, তার সবকিছুই এখন চূড়ান্ত। চলুন জেনে নেওয়া যাক জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষার শেষ দিনের খবরাখবর এবং পরবর্তী সময়সূচি।
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষা ২০২৬: শেষ হলো অপেক্ষার পালা
আজ শুক্রবার ছুটির দিনে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা ও আইন অনুষদভুক্ত ‘বি’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছে। রাজধানী ঢাকা ও ঢাকার বাইরে মোট ১৩টি কেন্দ্রে একযোগে এই পরীক্ষা নেওয়া হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব ভর্তি কার্যক্রম শুরুর পর থেকেই এবারের পরীক্ষাগুলো নিয়ে শিক্ষার্থীদের মাঝে ব্যাপক আগ্রহ দেখা গেছে।
সকাল থেকেই পরীক্ষাকেন্দ্রগুলোতে ছিল উপচে পড়া ভিড়। বি-ইউনিটের মাধ্যমে এবারের ভর্তি পরীক্ষা শেষ হওয়ায় হাফ ছেড়ে বেঁচেছেন কর্তৃপক্ষ ও অভিভাবকরা। পরীক্ষার পরিবেশ নিয়ে উপাচার্য সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন। এখন সবার নজর ২ ফেব্রুয়ারির দিকে, যেদিন প্রকাশ করা হবে এই ইউনিটের ফলাফল।
বি-ইউনিটের ভর্তি যুদ্ধের পরিসংখ্যান
এ বছর জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘বি’ ইউনিটে আসন সংখ্যা সীমিত হলেও আবেদনকারীর সংখ্যা ছিল আকাশচুম্বী। কলা ও আইন অনুষদের অধীনে মোট ৭৮৫টি আসনের বিপরীতে লড়াই করেছেন ৭৯ হাজার ৮০৮ জন শিক্ষার্থী। সেই হিসেবে প্রতি আসনের বিপরীতে লড়েছেন প্রায় ১০১ জন শিক্ষার্থী।
প্রতিযোগিতার এই হারই বলে দেয় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার স্বপ্ন কতটুকু তীব্র। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে শুরু করে উইলস লিটল ফ্লাওয়ার স্কুল বা ভিকারুননিসা নূন স্কুলের মতো কেন্দ্রগুলোতে আজ সকাল থেকেই ছিল উৎসবমুখর পরিবেশ। ঢাকার বাইরে রাজশাহী, খুলনা ও কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়েও জবির এই ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
আরো পড়ুন:-পশ্চিমবঙ্গে নিপাহ ভাইরাসের হানা: জানুন বাঁচার উপায়
ফলাফল কবে এবং ক্লাস শুরু কবে?
পরীক্ষা শেষে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রেজাউল করিম সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন। তিনি অত্যন্ত আনন্দের সঙ্গে জানান যে, কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা ছাড়াই সব ইউনিটের পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে। বি-ইউনিটের ফল প্রকাশের তারিখ সম্পর্কে তিনি বলেন, আগামী ২ ফেব্রুয়ারি এই ইউনিটের ফলাফল ওয়েবসাইটের মাধ্যমে জানিয়ে দেওয়া হবে।
তবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ খবর হলো ক্লাস শুরুর তারিখ। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে, ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের নবীন শিক্ষার্থীদের ওরিয়েন্টেশন এবং ক্লাস শুরু হবে ১৯ এপ্রিল। মার্চের মধ্যে সব ইউনিটের ভর্তি প্রক্রিয়া ও মেধা তালিকার কার্যক্রম শেষ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
ভর্তি পরীক্ষার কেন্দ্র ও পরিবেশ
এবারের পরীক্ষাটি ছিল সমন্বিত বা গুচ্ছ পদ্ধতির বাইরে। ফলে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় স্বতন্ত্রভাবে তাদের পরীক্ষা নিয়েছে। রাজধানীর ঢাকা কলেজিয়েট স্কুল, বাংলাবাজার সরকারি বালিকা উচ্চবিদ্যালয়, এবং ঢাকা মহানগর মহিলা কলেজসহ মোট ১০টি কেন্দ্রে ঢাকার ভেতরে পরীক্ষা হয়েছে। ঢাকার বাইরে ৩টি বড় পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে আঞ্চলিক কেন্দ্র করা হয়েছিল।
উপাচার্যের পরিদর্শন শেষে জানানো হয় যে, কোনো কেন্দ্র থেকেই প্রশ্ন ফাঁস বা অপ্রীতিকর ঘটনার অভিযোগ পাওয়া যায়নি। কঠোর নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলার মধ্য দিয়ে এবারের ভর্তি যুদ্ধ শেষ হলো। শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি ছিল সন্তোষজনক, যার চূড়ান্ত হার খুব শীঘ্রই প্রকাশ করা হবে।
আরো পড়ুন:-ক্যানভা দিয়ে ব্যানার ডিজাইন: প্রফেশনাল ওয়েবসাইট ব্যানার তৈরির সহজ টিউটোরিয়াল
অন্যান্য ইউনিটের এক নজরে আপডেট
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষা শুরু হয়েছিল গত ১৩ ডিসেম্বর থেকে। ধাপে ধাপে বিভিন্ন অনুষদের পরীক্ষা নেওয়া হয়েছে। নিচে অন্য ইউনিটগুলোর সংক্ষিপ্ত চিত্র তুলে ধরা হলো:
- ‘ই’ ইউনিট (চারুকলা অনুষদ): ১৩ ডিসেম্বর শুরু হওয়া এই ইউনিটে ৬০টি আসনের বিপরীতে আবেদন ছিল ১ হাজার ২৫১টি। উপস্থিতির হার ছিল ৮০.৫৮ শতাংশ।
- ‘এ’ ইউনিট (বিজ্ঞান অনুষদ): ২৬ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত এই পরীক্ষায় ৮৬০টি আসনের বিপরীতে ৭২ হাজার ৪৭৪ জন আবেদন করেছিলেন। উপস্থিতির হার ছিল ৯১.৯৪ শতাংশ। ফলাফল গত ৫ জানুয়ারি প্রকাশিত হয়েছে।
- ‘সি’ ইউনিট (ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদ): ২৭ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত এই পরীক্ষায় ৫২০টি আসনের বিপরীতে ২০ হাজার ৬৮৬ জন আবেদন করেছিলেন। উপস্থিতির হার ছিল ৯০.০৬ শতাংশ এবং ফল প্রকাশ হয়েছে ৬ জানুয়ারি।
- ‘ডি’ ইউনিট (সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদ): ৯ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত এই পরীক্ষায় ৬১০টি আসনের বিপরীতে ২৫ হাজার ৮২৬ জন আবেদন করেছিলেন। উপস্থিতির হার ছিল ৮৬.৮৮ শতাংশ। এর ফল প্রকাশ হয়েছে ১১ জানুয়ারি।
শিক্ষার্থীদের জন্য পরবর্তী নির্দেশনা
ভর্তি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের জন্য এখন পরবর্তী ধাপগুলো বেশ গুরুত্বপূর্ণ। বি-ইউনিটের ফল ২ ফেব্রুয়ারি প্রকাশের পর মেধা তালিকা অনুযায়ী শিক্ষার্থীদের বিভাগ পছন্দক্রম বা চয়েস লিস্ট পূরণ করতে হবে। এরপর নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও ফি জমা দিয়ে ভর্তি নিশ্চিত করতে হবে।
যারা ইতিমধ্যে অন্যান্য ইউনিটের মেধা তালিকায় স্থান পেয়েছেন, তাদের ভর্তির প্রাথমিক কাজগুলো দ্রুত সেরে নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। বিশেষ করে মাইগ্রেশন প্রক্রিয়ার দিকে নজর রাখতে হবে। কোনো শিক্ষার্থী যদি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ভর্তি না হন, তবে তার আসনটি শূন্য ঘোষণা করে পরবর্তী মেধা তালিকা থেকে পূরণ করা হবে।
আরো পড়ুন:-প্রকাশিত হলো ভোকেশনাল নবম শ্রেণির রেজাল্ট: দেখার নিয়ম জানুন
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন পছন্দের শীর্ষে?
পুরান ঢাকার বুড়িগঙ্গা তীরের এই বিদ্যাপীঠটি বর্তমানে বাংলাদেশের উচ্চশিক্ষার অন্যতম শ্রেষ্ঠ কেন্দ্র। গুচ্ছ পদ্ধতি থেকে বের হয়ে এসে নিজস্ব পদ্ধতিতে ভর্তি পরীক্ষা নেওয়ায় এর মান আরও বেড়েছে বলে মনে করছেন শিক্ষাবিদগণ। বিশেষ করে জবির আইন অনুষদ এবং ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদের সুনাম দেশজুড়ে।
নবীন শিক্ষার্থীদের জন্য ১৯ এপ্রিল দিনটি হবে এক নতুন যাত্রার শুরু। লাল দালানের এই ক্যাম্পাসে নিজের জায়গা করে নিতে পারা হাজারো শিক্ষার্থীর আজন্ম লালিত স্বপ্ন। আজকের বি-ইউনিটের পরীক্ষার মধ্য দিয়ে সেই স্বপ্নের দুয়ার উন্মোচিত হলো। আরো জানতে ভিজিট করুন।