বড় সুখবর! মানবাধিকার কমিশনের দায়িত্ব পেলেন সাবেক বিচারপতি মইনুল ইসলাম
স্বপ্ন দেখছে মানবাধিকার। দেশের মানবাধিকার পরিস্থিতির এক নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হলো যখন হাইকোর্টের সাবেক বিচারপতি মইনুল ইসলাম চৌধুরীকে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের নতুন চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হলো। রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে আজ এক বিশেষ প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে এই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তটি দেশবাসীকে জানানো হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে যারা ন্যায়ের অপেক্ষায় আছেন, তাদের জন্য এটি একটি অত্যন্ত স্বস্তিদায়ক খবর। এই নিয়োগের ফলে সংস্থাটি এখন আরও বেশি শক্তিশালী ও কার্যকর হবে বলে আশা করা যাচ্ছে।
নতুন এক অধ্যায় শুরু। আইন মন্ত্রণালয় থেকে প্রকাশিত প্রজ্ঞাপনে স্পষ্ট করা হয়েছে যে, রাষ্ট্রপতি বাছাই কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতেই এই দক্ষ মানুষটিকে বেছে নিয়েছেন। বিচারপতি মইনুল ইসলাম চৌধুরী কেবল একজন আইন বিশেষজ্ঞ নন, তিনি এর আগে গুম কমিশনের চেয়ারম্যান হিসেবেও তার সাহসিকতা ও নিরপেক্ষতার প্রমাণ দিয়েছেন। তার সাথে কমিশনে আরও বেশ কয়েকজন দক্ষ সদস্যকে যুক্ত করা হয়েছে যা পুরো কাঠামোকে পূর্ণতা দিয়েছে। মানুষের অধিকার রক্ষার লড়াইয়ে এই নতুন কমিটি কতটা সফল হয়, এখন সেটাই দেখার বিষয়।
কারা আছেন নতুন এই শক্তিশালী কমিটিতে?
যোগ্যদের হাতেই দায়িত্ব। বিচারপতি মইনুলের পাশাপাশি মানবাধিকার কমিশনের সদস্য হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন দেশের বেশ কয়েকজন পরিচিত এবং নিবেদিতপ্রাণ মুখ। গুম কমিশনের সাবেক সদস্য মো. নুর খান এবং জনপ্রিয় মানবাধিকার কর্মী ইলিরা দেওয়ানের অন্তর্ভুক্তি সাধারণ মানুষের মনে আস্থা বাড়িয়ে দিয়েছে কয়েক গুণ। তারা দুজনেই দীর্ঘদিন ধরে তৃণমূল পর্যায়ে সাধারণ মানুষের অধিকার আদায়ে লড়াই করে আসছেন যা প্রশংসনীয়। এমন অভিজ্ঞ ব্যক্তিদের এক ছাদের নিচে আসা দেশের মানবাধিকারের জন্য এক বিরাট অর্জন।
শিক্ষাবিদ ও কর্মীদের মেলবন্ধন। তালিকায় আরও রয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের মেধাবী শিক্ষক মো. শরিফুল ইসলাম এবং নাবিলা ইদ্রিসের মতো ব্যক্তিত্বরা। মানবাধিকার কমিশন অধ্যাদেশ, ২০২৫ অনুযায়ী এই নিয়োগগুলো দেওয়া হয়েছে যা প্রতিটি বিভাগের ভারসাম্য বজায় রেখেছে খুব সুচারুভাবে। বিশেষজ্ঞ পর্যায় থেকে শুরু করে মাঠপর্যায়ের কর্মীদের এই সমন্বয় একটি স্বচ্ছ ও দায়বদ্ধ কমিশন গঠনে সাহায্য করবে। রাষ্ট্রপতির এই দূরদর্শী সিদ্ধান্তকে সুশীল সমাজ ইতিবাচক হিসেবেই দেখছেন বলে জানা গেছে।
আরো পড়ুন:-পবিপ্রবিতে বিজয়ের হাসি: হাইকোর্টের রায়ে বেঁচে গেল হাজারো শিক্ষার্থীর ক্যারিয়ার!
বিচারপতি মইনুলের বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ার ও প্রত্যাশা
আইন অঙ্গনে এক উজ্জ্বল নক্ষত্র। বিচারপতি মইনুল ইসলাম চৌধুরী হাইকোর্টের সাবেক বিচারপতি হিসেবে দীর্ঘ সময় আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় অক্লান্ত পরিশ্রম করেছেন। গুম কমিশনের প্রধান হিসেবে যখন তিনি কাজ করছিলেন, তখন তার প্রতিটি পদক্ষেপ ছিল অত্যন্ত সাহসী এবং পক্ষপাতহীন। সেই অভিজ্ঞতাই তাকে আজ এই গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় প্রতিষ্ঠানের শীর্ষে নিয়ে এসেছে বলে অনেকেই মনে করেন। তার হাত ধরেই গুম হওয়া বা নির্যাতিত হওয়া পরিবারগুলো এখন নতুন করে আশার আলো দেখতে শুরু করেছে।
চ্যালেঞ্জ এখন অনেক বেশি। মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারপার্সন হিসেবে বিচারপতি মইনুলের সামনে এখন বড় বড় সব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করার অগ্নিপরীক্ষা শুরু হলো। বিশেষ করে গুম ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের তদন্ত থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষের আইনি সুরক্ষা নিশ্চিত করা তার প্রধান কাজ। মানুষ চায় এমন একটি প্রতিষ্ঠান, যা সরকারের প্রভাবমুক্ত থেকে কেবল ন্যায়ের কথা বলবে নির্ভীকভাবে। সবাই বিশ্বাস করে যে, তার সুযোগ্য নেতৃত্বে এই কমিশন সাধারণ মানুষের শেষ আশ্রয়ের স্থলে পরিণত হবে।
আরো পড়ুন:-আসলাম চৌধুরী নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন: আপিল বিভাগের আদেশ
কমিশন পুনর্গঠন ও আগামীর বাংলাদেশ
জুলাই বিপ্লবের প্রতিফলন এটি। নতুন এই কমিশন মূলত জুলাই বিপ্লব পরবর্তী বাংলাদেশের মানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষার ওপর ভিত্তি করে পুনর্গঠন করা হয়েছে। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মূল চেতনা ছিল মানুষের মৌলিক অধিকার ও বাকস্বাধীনতা নিশ্চিত করা যা এই কমিটির মাধ্যমে পূরণ হতে পারে। রাষ্ট্রপতির এই নিয়োগ প্রক্রিয়াটি ছিল অত্যন্ত স্বচ্ছ যা বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের নিরপেক্ষতার একটি বড় প্রমাণ। মানুষ এখন পরিবর্তন দেখতে চায় এবং এই পরিবর্তনের চাবিকাঠি এখন নতুন নিয়োগপ্রাপ্তদের হাতেই রয়েছে।
এখনই সময় ঘুরে দাঁড়ানোর। সারা দেশের মানবাধিকার কর্মীরা এই নতুন ঘোষণাকে স্বাগত জানিয়েছেন এবং তারা একে সময়ের শ্রেষ্ঠ সিদ্ধান্ত বলে দাবি করছেন। জেলা পর্যায় থেকে শুরু করে রাজধানী পর্যন্ত মানবাধিকারের যে লঙ্ঘনগুলো ঘটে, সেগুলোর বিরুদ্ধে এখন থেকে কঠোর অবস্থান নেওয়া সম্ভব হবে। বিচারপতি মইনুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বে কমিটি যেন প্রতিটি মানুষের দুয়ারে পৌঁছে যেতে পারে, এটাই এখন বড় চাওয়া। বাংলাদেশের মানুষ আজ এক নতুন ও সাম্যবাদী রাষ্ট্রের স্বপ্ন দেখছে যা পূর্ণ হতে পারে এই কমিশনের সঠিক কর্মপদ্ধতিতে। আরো জানতে ভিজিট করুন।