দিল্লির লক্ষ্যভেদে ব্যর্থ রবিউল! শুটিং ফেডারেশনের বিতর্কিত সিদ্ধান্তে বাড়ছে ক্ষোভ
স্বপ্নটা অধরাই থেকে গেল। দিল্লির শুটিং রেঞ্জে আজ লড়াইটা ছিল অনেক বড় কিন্তু রবিউল ইসলাম ২২ জনের মধ্যে ১৫তম হয়েই যাত্রা শেষ করেছেন। মাত্র ৬২২.৪ স্কোর করে রবিউল যখন মাঠ ছাড়ছিলেন, তখন ভক্তদের মনে একরাশ হতাশা দানা বেঁধেছে। ১০ মিটার এয়ার রাইফেল ইভেন্টে সেরা আটে থেকে ফাইনালে ওঠার লক্ষ্য থাকলেও পার্থক্যটা ২.২ পয়েন্টের বড় এক ব্যবধানে রয়ে গেল। এটি আমাদের শুটিং অঙ্গনের জন্য এক কঠিন বাস্তবতার প্রতিফলন।
ফেডারেশনের সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন। এবারের চ্যাম্পিয়নশিপে বাংলাদেশ থেকে শুধু রবিউলকে পাঠানো হয়েছে যা অনেককেই অবাক করেছে এবং ক্ষুব্ধ করে তুলেছে। যেখানে ১০ মিটার এয়ার রাইফেল মহিলা বিভাগে ৬২৪ স্কোর করলেই ফাইনালে খেলা যেত, সেখানে আমাদের সেরা শুটার কলি বাদ পড়েছেন। ৬২৬ স্কোর নিয়মিত করা কলিকে ‘শৃঙ্খলা’র অজুহাতে দিল্লিতে না পাঠানো কি আসলেও সঠিক সিদ্ধান্ত ছিল? যোগ্যদের বসিয়ে রাখার মাশুল আমাদের এভাবেই বারবার গুনতে হচ্ছে।
রবিউলের স্কোরিং গ্রাফ ও বাস্তবচিত্র
প্র্যাকটিসের সাথে মিল নেই। জাতীয় পর্যায়ে রবিউল যখন ৬২৭ বা ৬২৮ স্কোর করেন, তখন দিল্লিতে ৬২২ করাটা মেনে নেওয়া কঠিন। দীর্ঘ দেড় বছর আন্তর্জাতিক আসর থেকে দূরে থাকায় রবিউলের আত্মবিশ্বাসে হয়তো কিছুটা মরচে ধরেছিল যা আজ স্পষ্ট হয়েছে। নিয়মিত টুর্নামেন্ট না খেলালে শুটারদের নার্ভ যে কতটা দুর্বল হয়ে পড়ে, রবিউল তার একটি জ্বলন্ত উদাহরণ। আন্তর্জাতিক মঞ্চে টিকে থাকতে হলে কেবল প্র্যাকটিস নয়, নিয়মিত লড়াইয়ের মাঠে থাকতে হবে।
শারমিনের যুক্তি ও বাস্তবতা। কোচ শারমিন আক্তার মনে করেন ২০২৪ প্যারিস অলিম্পিকের পর এই দীর্ঘ বিরতি রবিউলের স্বাভাবিক খেলায় বড় প্রভাব ফেলেছে। তিনি মানছেন যে দেড় বছরের বেশি সময় বড় কোনো টুর্নামেন্টে না থাকায় রিদম ধরে রাখা চ্যালেঞ্জিং ছিল। তবে একজন পেশাদার খেলোয়াড় হিসেবে আন্তর্জাতিক চাপে মানিয়ে নেওয়াটাই এখন সবচেয়ে বড় বড় পরীক্ষা। এই ঘাটতি পূরণ না হলে বিশ্বমঞ্চে আমাদের সাফল্য কেবল কাগুজে কলমেই সীমাবদ্ধ থাকবে।
আরো পড়ুন:-সাকিবের ফেরা নিয়ে সালাউদ্দিনের বোমা: “না চাইলে বোকা!
ভারত-বাংলাদেশ রাজনৈতিক উত্তাপের ছায়া
ক্রিকেট না গেলেও শুটাররা গেছে। নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে বাংলাদেশ ক্রিকেট দল ভারত সফর বাতিল করলেও শুটার রবিউল ও কোচ শারমিনকে অনুমতি দিয়েছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। দুই দেশের রাজনৈতিক সম্পর্ক যখন চরমে, তখন এই ঝুঁকি নিয়ে দিল্লির বুকে বাংলাদেশের পতাকা ওড়ানো সহজ কাজ ছিল না। তবে রবিউল ও শারমিন জানিয়েছেন যে দিল্লির পরিবেশে তারা এখন পর্যন্ত বেশ স্বাভাবিক ও নিরাপদ বোধ করছেন। ক্রীড়াঙ্গন যেন সব বিভেদ ভুলে ঐক্যের বার্তা নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে।
নিরাপত্তা নিয়ে কোনো অভাব নেই। ভারতীয় কর্তৃপক্ষ শুটারদের জন্য বিশেষ প্রটোকল নিশ্চিত করেছে এবং রবিউলদের কোনো ধরণের অপ্রীতিকর পরিস্থিতির মুখে পড়তে হয়নি। ক্রিকেটারদের ক্ষেত্রে সরকার ও বিসিবির যে কঠোর অবস্থান ছিল, শুটিং ফেডারেশনের ক্ষেত্রে তা কিছুটা নমনীয় ছিল। তবুও একটি বিদেশের মাটিতে দেশের সম্মান রক্ষার লড়াইয়ে যখন স্কোর নিচে নেমে যায়, তখন ভক্তদের কষ্ট দ্বিগুণ হয়। খেলাধুলা রাজনৈতিক সীমানা ছাড়িয়ে যাক, এটাই সবার বড় প্রত্যাশা।
আরো পড়ুন:-বিশ্বকাপে ভারত ম্যাচ বয়কট পাকিস্তানের! আইসিসির জরুরি সভা
আগামীর জন্য শিক্ষা ও পদক্ষেপ
যোগ্য শুটারদের সঠিক ব্যবহার চাই। আমরা যদি কলির মতো প্রতিভাবানদের শৃঙ্খলার দোহাই দিয়ে বাইরে রাখি, তবে পদকের স্বপ্ন দেখাটা বোকামি ছাড়া আর কিছুই নয়। ফেডারেশনের উচিত ব্যক্তিগত ইগো বা জেদ সরিয়ে রেখে দেশের স্বার্থকে আগে দেখা এবং প্রতিভাবানদের সুযোগ করে দেওয়া। ৬২৬ স্কোর করা একজন শুটার থাকলে আজ হয়তো দিল্লীতে বাংলাদেশের গল্পটা অন্যরকম হতে পারত। যোগ্যদের অবমূল্যায়ন করার সংস্কৃতি আমাদের খেলাধুলাকে কেবল পেছনের দিকেই নিয়ে যাচ্ছে।
নতুন বাংলাদেশের নতুন লক্ষ্য। আগামীর অলিম্পিক বা বড় আসরগুলোতে রবিউলদের আরও পরিণত এবং আরও সাহসী হয়ে ফিরতে হবে নিজেদের প্রমাণ করার জন্য। সরকারকে ক্রীড়া খাতে বরাদ্দ বাড়াতে হবে এবং নিয়মিত আন্তর্জাতিক এক্সপোজার নিশ্চিত করতে হবে সব সম্ভাবনাময় শুটারদের। দিল্লির এই ১৫তম স্থান যেন কেবল একটি সংখ্যা না হয়, বরং এটি যেন ঘুরে দাঁড়ানোর এক বড় ধাক্কা হয়। আমরা বিশ্বাস করি সঠিক পরিকল্পনা থাকলে বাংলাদেশের শুটিং আবারও বিশ্ব দরবারে মাথা উঁচু করে দাঁড়াবে। আরো জানতে ভিজিট করুন।