ধর্ম নয় অধিকারের রাজনীতি! ঢাকা-৪ এ রবিনের ২০ অঙ্গীকার - Trend Bd

ধর্ম নয় অধিকারের রাজনীতি! ঢাকা-৪ এ রবিনের ২০ অঙ্গীকার

মাঠ এখন উত্তপ্ত। আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে চারদিকে যে ডামাডোল শুরু হয়েছে, তাতে ঢাকা-৪ আসনের প্রতিটি অলিগলি এখন রাজনৈতিক তর্কে সরগরম। খেলা হবে ভোটের। ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির সদস্য সচিব তানভীর আহমেদ রবিন আজ কদমতলীতে যে হুঙ্কার দিলেন, তাতে স্পষ্ট যে বিএনপি এবার কেবল গদি নয় বরং মানুষের অধিকার ফিরিয়ে দিতে পুরোপুরি মরিয়া।

ধর্ম নয় মানুষের অধিকারই শেষ কথা! কদমতলীতে রবিনের বিশাল হুঙ্কার ও ২০ অঙ্গীকার

রাজনীতি কি কেবল গদির? মঙ্গলবার কদমতলী থানার ৫৩ নম্বর ওয়ার্ডের চেয়ারম্যান বাড়ি কলেজ রোডে বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের এক বিশাল পথসভা আয়োজিত হয়েছিল যা এলাকায় রীতিমতো আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। রবিন সেখানে সাফ জানিয়ে দিলেন। তানভীর আহমেদ রবিন বলেন যে ক্ষমতার লোভে বিএনপি কখনোই ধর্মকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করেনি বরং বিএনপি বিশ্বাস করে ন্যায়ের রাজনীতি আর মানুষের মর্যাদায়।

পরিবর্তন কি এমনি আসে? রবিন খুব স্পষ্ট করে বলেছেন যে শুধু মুখে লম্বা লম্বা কথা বললে সমাজের কোনো বাস্তব পরিবর্তন আসে না বরং কাজ দিয়ে সেটা প্রমাণ করতে হয়। তরুণদের প্রতি তার বিশেষ আহ্বান। তিনি চান এলাকার তরুণরা দিনরাত পরিশ্রম করে ঢাকা-৪ আসনের চেহারা বদলে দিক যেন এই অবহেলিত এলাকা আবার নতুন প্রাণ ফিরে পায়।

বিএনপির গেম প্ল্যান রেডি। রাষ্ট্র কাঠামো মেরামতের লক্ষ্যে বিএনপি ইতিমধ্যে ৩১ দফা ও ৯টি বিশাল পরিকল্পনা প্রণয়ন করেছে যা দেশের প্রতিটি মানুষের ভাগ্যের দুয়ার খুলে দেওয়ার চাবিকাঠি। রবিন এটি সবার সামনে তুলে ধরেন। তিনি বিশ্বাস করেন জনগণের আস্থা ও ভালোবাসা নিয়ে ত্রয়োদশ নির্বাচনে সরকার গঠন করতে পারলে তারা কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে মানুষের মুখে হাসি ফোটাবেন।

আরো পড়ুন:-রঙিন জামা পরা ফ্যাসিবাদকেও জনগণ লাল কার্ড দেখিয়েছে

মায়ের জন্য কার্ড, সন্তানের জন্য মাঠ: রবিনের স্বপ্নের ঢাকা-৪

স্বপ্ন কি কেবল দেখার? রবিন তার বক্তব্যে এমন কিছু পরিকল্পনার কথা বলেছেন যা শুনলে যেকোনো সাধারণ মানুষের মনে আশার প্রদীপ জ্বলে উঠবে মুহূর্তের মধ্যেই। প্রতিটি পরিবারের জন্য আলাদা ব্যবস্থা। মায়েদের জন্য ‘ফ্যামিলি কার্ড’ আর বাবাদের জন্য ‘কৃষি কার্ড’ চালুর মাধ্যমে অর্থনৈতিক স্বাবলম্বিতা নিশ্চিত করা হবে যা হবে মধ্যবিত্তের জন্য এক বিশাল ঢাল।

সন্তানদের ভবিষ্যৎ নিয়ে ভাবনা। আধুনিক ও মানসম্মত শিক্ষা ব্যবস্থার পাশাপাশি প্রতিটি ওয়ার্ডে খেলার মাঠ তৈরি করার যে প্রতিশ্রুতি রবিন দিয়েছেন, তা এলাকার কিশোর-কিশোরীদের জন্য এক বড় উপহার। সুস্থ বিনোদন ছাড়া মেধা বাড়ে না। কারিগরি শিক্ষার প্রসার ঘটিয়ে মেধাভিত্তিক কর্মসংস্থান তৈরির মাধ্যমে বেকারত্ব দূর করার এক সাহসী ব্লু-প্রিন্ট তিনি আজ জনসম্মুখে উন্মোচন করেছেন।

পরিবেশ রক্ষায় মহৎ উদ্যোগ। নদী ও পরিবেশ বাঁচাতে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ এবং দৃষ্টিনন্দন পার্ক নির্মাণের পরিকল্পনাটি এলাকার সচেতন নাগরিকদের নজর কেড়েছে যা বর্তমান জলবায়ু সংকটে অত্যন্ত সময়োপযোগী। সবুজ হবে চারপাশ। স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়নে কমিউনিটি সেন্টার ও আধুনিক হাসপাতাল নির্মাণের অঙ্গীকার করে তিনি মূলত প্রান্তিক মানুষের সবচেয়ে বড় দুশ্চিন্তার সমাধান করার এক নির্ভরযোগ্য প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।

জুরাইন কি ডেঙ্গুর আঁতুড়ঘর? জলাবদ্ধতা নিয়ে রবিনের ক্ষোভ

নাম শুনলেই ভয় লাগে। জুরাইন বা ঢাকা-৪ এর এই এলাকাগুলোর নাম শুনলেই মানুষের মনে প্রথম যে ছবিটি ভেসে ওঠে সেটি হলো ভয়াবহ ডেঙ্গু আর নোংরা পানি। এটি এলাকার বড় অভিশাপ। রবিন আজ অত্যন্ত ক্ষোভের সাথে বলেছেন যে জলাবদ্ধতা এখানকার প্রধান সমস্যা হলেও গত কয়েক বছরে উন্নয়নের নামে কেবল জনগণের ট্যাক্সের টাকা লুটপাট হয়েছে।

পরিকল্পনাহীন নগরায়ন কেন? অধিকাংশ রাস্তায় কোনো ড্রেন নেই, আর যেখানে আছে সেখানেও সঠিক পরিকল্পনার অভাবে রাস্তাগুলো নিচু হয়ে জলাবদ্ধতাকে আরও অসহনীয় করে তুলেছে প্রতিটি বর্ষায়। উন্নয়নের নামে হয়েছে প্রহসন। রবিন এই অব্যবস্থাপনার তীব্র সমালোচনা করে বলেছেন যে অপরিকল্পিত উন্নয়নের কারণে এই এলাকা আজ বসবাসের অযোগ্য এক ডাস্টবিনে পরিণত হয়েছে যা অত্যন্ত দুঃখজনক।

সমাধানের রাস্তা কী? রবিন স্থানীয় জনগণের মতামত নিয়েই ২০টি বিশেষ অঙ্গীকার বা ‘লোকাল প্লেজ’ তৈরি করেছেন যা এই এলাকার সমস্যাগুলো গোড়া থেকে উপড়ে ফেলতে সক্ষম হবে। জনগণের সরাসরি অংশগ্রহণ চাই। বড় সমস্যাগুলো সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে সমাধানের আশ্বাস দিয়ে তিনি এলাকাবাসীকে সাথে নিয়ে ছোট সমস্যাগুলো নিজেরা মিলেই মিটিয়ে ফেলার এক চমৎকার পথ দেখিয়েছেন।

আরো পড়ুন:-পড়াশোনায় সময় বাঁচানোর গোপন ট্রিক্স: ২০২৬ সালের সেরা গাইড!

আলেম সমাজের মর্যাদা ও ধর্মীয় ভণ্ডামির অবসান

সম্মান কি হারিয়ে গেছে? বিগত ফ্যাসিবাদী সরকারের আমলে আলেম সমাজ এবং এলাকার মুরুব্বিদের যে অসম্মান করা হয়েছে, তার অবসান ঘটানোর দৃঢ় প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন ঢাকা-৪ এর এই কান্ডারি। তারা তো জাতির বিবেক। অন্যায়ের প্রতিবাদ করলেই যখন আলেমদের ‘জঙ্গি’ তকমা দিয়ে জেলে পাঠানো হতো, সেই অন্ধকার সংস্কৃতি থেকে বের হয়ে আসার সময় এখন আমাদের সামনে।

মুক্ত আলোচনার পরিবেশ চাই। রবিন মনে করেন সমাজ সংস্কারে আলেমদের মর্যাদা ফিরিয়ে দেওয়া এবং সম্মিলিত সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে এলাকা পরিচালনা করা এখন সময়ের দাবি যা অগ্রাহ্য করার উপায় নেই। ভণ্ডদের জায়গা নেই। ইসলামের ভুল ব্যাখ্যা দিয়ে যারা সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করে এবং রাজনৈতিক ফায়দা লোটে, তাদের প্রতিহত করতে তিনি ধর্মপ্রাণ মানুষকে সজাগ থাকার আহ্বান জানিয়েছেন।

নারীর সম্মান রক্ষা। পথসভায় রবিন নারীদের নিয়ে যে কোনো অবমাননাকর বক্তব্যের তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেছেন যে বিএনপি সবসময় মা-বোনের ইজ্জত ও অধিকার রক্ষায় কাজ করে যাবে। ভোটে হবে কড়া জবাব। ভণ্ড ও মুনাফেকদের প্রতিহত করতে তিনি আসন্ন নির্বাচনে ব্যালটের মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে তাদের গণতান্ত্রিক ক্ষমতা প্রয়োগ করার জন্য বিশেষভাবে উদাত্ত আহ্বান জানিয়েছেন।

বেগম জিয়ার বার্তা: মানুষের হাতে ক্ষমতা ফেরানো

নেত্রীর সেই কথা। বেগম খালেদা জিয়া বারবার একটি কথাই বলে এসেছেন—তিনি দেশের মানুষের হারানো ভোটাধিকার আর ক্ষমতা ফিরিয়ে দিতে চান জনগণের প্রিয় এই বাংলাদেশে। রবিন সেই বার্তাই দিলেন। তার একজন একনিষ্ঠ কর্মী হিসেবে রবিন আজ শপথ নিয়েছেন যে তিনি ঢাকা-৪ আসনের মানুষের গণতান্ত্রিক ক্ষমতা এবং সম্মান যে কোনো মূল্যে ফিরিয়ে দেবেন।

১৮ বছরের দীর্ঘ অপেক্ষা। গত তিনটি নির্বাচনে সাধারণ মানুষের ভোটাধিকার যেভাবে কেড়ে নেওয়া হয়েছিল, তার যন্ত্রণাদায়ক অভিজ্ঞতার কথা স্মরণ করে পথসভায় উপস্থিত জনতা বারবার আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন। ভোট কি আবার পাব? প্রায় ১৮ বছর পর মানুষ ভোটের স্বাধীনতা ফিরে পেয়ে এখন একটি দায়বদ্ধ সরকার গঠনের জন্য অধীর আগ্রহে প্রহর গুনছে যা খুব স্পষ্ট।

নির্বাচন কমিশনকে কড়া বার্তা। ইসলামের ভিন্ন ব্যাখ্যা দিয়ে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিকারীদের বিরুদ্ধে নির্বাচন কমিশন কেন ব্যবস্থা নিচ্ছে না, তা নিয়ে রবিন আজ জোরালো প্রশ্ন তুলেছেন তার সাবলীল জ্বালাময়ী বক্তব্যে। ইনসাফ প্রতিষ্ঠা করতে হবে। তিনি মনে করেন একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনই পারে সমাজের এই সব আবর্জনা পরিষ্কার করে একটি সুন্দর বাংলাদেশ উপহার দিতে আমাদের নতুন প্রজন্মকে।

আরো পড়ুন:-বিদেশে উচ্চশিক্ষা ২০২৬: খুব সহজেই স্কলারশিপ ও ভিসা পাওয়ার গোপন টিপস!

ঢাকা-৪ এর আগামীর রূপরেখা: লড়াই হবে সেয়ানে সেয়ানে

মাঠ কি প্রস্তুত? কদমতলীর এই পথসভায় প্রধান বক্তা হাজী মীর হোসেন মীরু এবং বিশেষ অতিথিদের উপস্থিতিতে রবিনের বক্তব্য এলাকার মানুষের মনে নতুন এক উদ্দীপনা আর প্রাণের সঞ্চার করেছে। লড়াই এখন অধিকারের। দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার যে ঘোষণা তিনি দিয়েছেন, তা বাস্তবায়িত হলে এই এলাকার মানুষের ভাগ্যের চাকা দ্রুত ঘুরতে শুরু করবে বলে সবাই মনে করছেন।

ঐক্যবদ্ধ থাকার শপথ। সভাপতির বক্তব্যে আলমগীর খান লিপু সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেছেন যে ঢাকা-৪ আসন থেকে রবিনকে জয়ী করা মানেই হলো এলাকার সার্বিক উন্নয়ন সুনিশ্চিত করা। মুরুব্বিদের দোয়া চাই। সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় জুরাইন-কদমতলী এলাকাকে একটি স্মার্ট ও বাসযোগ্য এলাকায় রূপান্তর করাই এখন বিএনপির এই লড়াকু সৈনিকদের মূল লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য।

অপেক্ষা কেবল মাহেন্দ্রক্ষণের। ২০টি অঙ্গীকারের বাস্তবায়ন আর ৩১ দফার সংস্কার কার্যক্রম যখন শুরু হবে, তখন ঢাকা-৪ আসনের মানুষের দীর্ঘদিনের বঞ্চনা আর হাহাকার কেবল ইতিহাসের পাতায় দীর্ঘশ্বাস হয়ে থেকে যাবে। গোল কি হবে? ভোটের মাঠে রবিনের এই পারফরম্যান্স যদি ধরে রাখা যায়, তবে আসন্ন নির্বাচনে জয় ছিনিয়ে আনা কেবল সময়ের ব্যাপার মাত্র বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। আরো জানতে ভিজিট করুন।

Leave a Comment