২০ বছর পর বরিশালে তারেক রহমান: জনসমুদ্রে কড়া নিরাপত্তা - Trend Bd

২০ বছর পর বরিশালে তারেক রহমান: জনসমুদ্রে কড়া নিরাপত্তা

বরিশাল এখন যেন এক উৎসবের নগরী। দীর্ঘ ২০ বছর পর নির্বাচনী প্রচারণায় বরিশালের মাটিতে পা রাখছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। আজ ৪ ফেব্রুয়ারি বুধবার, ঐতিহাসিক বেলস পার্কে দুপুর ১২টায় এই হাই-ভোল্টেজ সমাবেশ শুরু হওয়ার কথা। পুরো শহর এখন নিরাপত্তার চাদরে ঢাকা। পুলিশ, বিজিবি, ডিবি এবং তারেক রহমানের নিজস্ব স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্স (সিএসএফ) একযোগে মাঠের দখল নিয়েছে যেন কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে।

বরিশালে তারেক রহমানের রাজকীয় প্রত্যাবর্তন: দুর্ভেদ্য নিরাপত্তায় ঘেরা বেলস পার্ক!

মাঠ এখন পুরোপুরি প্রস্তুত। তারেক রহমানের এই সমাবেশকে কেন্দ্র করে বরিশাল বিভাগের ২১টি আসনের বিএনপি ও মিত্রজোটের প্রার্থীদের মিলনমেলায় পরিণত হয়েছে বেলস পার্ক। নিরাপত্তার খাতিরে মঞ্চের সামনে তৈরি করা হয়েছে শক্তিশালী বাঁশের বেষ্টনী। এটি যেন কোনো দুর্গ। সাধারণ মানুষের ঢল নামলেও মঞ্চের কয়েক ফুট পর্যন্ত কাউকেই ঘেঁষতে দিচ্ছে না এলিট ফোর্স।

নিরাপত্তা ব্যবস্থা একেবারেই নজিরবিহীন। তারেক রহমান যে পথে সমাবেশস্থলে আসবেন, সেই দীর্ঘ রাস্তার মোড়ে মোড়ে পাহারায় আছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিপুল সংখ্যক সদস্য। ড্রোন ওড়ানোর ক্ষেত্রেও আছে কড়া নিষেধাজ্ঞা। ড্রোন ওড়াতে চাইলে আগে মিডিয়া সেলকে এর ছবি ও আইপি নাম্বার পাঠিয়ে অনুমতি নিতে হবে। ডিজিটাল নজরদারিতে একটুও ছাড় দিতে রাজি নয় আয়োজক কমিটি।

বিকেল গড়ানোর আগেই উৎসব শুরু। বেলা বাড়ার সাথে সাথে বরিশাল বিভাগের বিভিন্ন জেলা থেকে হাজার হাজার নেতাকর্মী ফেস্টুন হাতে মাঠে জমা হতে শুরু করেছেন। নারীদের উপস্থিতিও ছিল চোখে পড়ার মতো। নেতাকর্মীদের স্লোগানে স্লোগানে প্রকম্পিত হচ্ছে পুরো শহর। সবাই যেন তাদের প্রিয় নেতাকে এক পলক দেখার জন্য অধীর আগ্রহে প্রহর গুনছে।

মঞ্চে হেভিওয়েটদের মেলা ও বরিশালের আবেগ

পার্থ এখন মাঠের মধ্যমণি। ভোলা-১ আসনের প্রার্থী ও বিজেপি চেয়ারম্যান আন্দালিব রহমান পার্থ ইতোমধ্যে মঞ্চে এসে পৌঁছেছেন। তার উপস্থিতি কর্মীদের বাড়তি অক্সিজেন জোগাচ্ছে। মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল এবং মাহবুবুল হক নান্নুর মতো সিনিয়র নেতারাও পৌঁছে গেছেন সমাবেশস্থলে। এটি কেবল একটি সভা নয়, বরং ক্ষমতার পট পরিবর্তনের এক মহড়া।

মাঠের চিত্রটা সত্যিই দারুণ। ২০ বছর ধরে বরিশালের মানুষ যার জন্য অপেক্ষা করেছে, সেই তারেক রহমান আজ সরাসরি তাদের সামনে কথা বলবেন। কর্মীদের আবেগ যেন বাঁধ মানছে না। অনেকেই অনেক দূর থেকে লক্কড়-ঝক্কড় বাস কিংবা ট্রলারে করে এসেছেন। তাদের চোখেমুখে ক্লান্তি থাকলেও প্রিয় নেতার আগমনের খবরে তা এক নিমেষেই উধাও।

পরিসংখ্যান বলছে রেকর্ড ভিড়ের কথা। বরিশাল বিভাগের ২১টি আসন থেকে যেভাবে মানুষ ছুটে আসছে, তাতে বেলস পার্কের জায়গা হবে কিনা তা নিয়ে সংশয় আছে। ছোট বড় সব বয়সের মানুষ। সবাই এসেছে গণতন্ত্রের লড়াইয়ে নিজেদের অংশীদার করতে। এই বিশাল জনসমুদ্র সামাল দিতে স্বেচ্ছাসেবক বাহিনীকেও হিমশিম খেতে হচ্ছে সকাল থেকেই

আরো পড়ুন:-ধর্ম নয় অধিকারের রাজনীতি! ঢাকা-৪ এ রবিনের ২০ অঙ্গীকার

আকাশপথে ফরিদপুর: তারেক রহমানের বিরামহীন নির্বাচনী ট্যুর

সময় খুব বেশি নেই। বরিশালের এই ঐতিহাসিক সমাবেশ শেষ করেই তারেক রহমান সরাসরি বিমানে করে ফরিদপুরের উদ্দেশে রওনা হবেন। সেখানেও হবে বিশাল শো-ডাউন। নির্বাচনী প্রচারণার এই ম্যারাথন দৌড় বিএনপি কর্মীদের মাঝে নতুন প্রাণের সঞ্চার করেছে। প্রতিটি মুহূর্ত এখন তাদের জন্য অত্যন্ত মূল্যবান।

বরিশাল কি আবার শক্ত ঘাঁটি? একসময় বরিশাল ছিল বিএনপির একচেটিয়া রাজত্ব, তাই তারেক রহমানও এই অঞ্চলকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন। তিনি চাচ্ছেন কর্মীদের চাঙ্গা করতে। ভোটারদের মাঝে আস্থা ফিরিয়ে আনাই এখন তার প্রধান লক্ষ্য। আজকের বক্তব্যের পর রাজনীতির সমীকরণ কোন দিকে মোড় নেয়, সেটাই এখন দেখার বিষয়।

জুরাইন থেকে বরিশাল সবখানে ভিড়। কেবল দক্ষিণবঙ্গ নয়, পুরো দেশের নজর এখন বেলস পার্কের এই বিশাল জনসভার দিকে। সোশ্যাল মিডিয়ায় চলছে সরাসরি সম্প্রচার। হাজার হাজার মানুষ অনলাইনেও যুক্ত হচ্ছেন। তারেক রহমানের প্রতিটি কথা এখন টক অফ দ্য কান্ট্রি।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কড়া নজরদারি ও সিএসএফ-এর ভূমিকা

নিরাপত্তায় কোনো ফাঁক নেই। পুলিশ, বিজিবি আর ডিবির পাশাপাশি তারেক রহমানের নিজস্ব ফোর্স ‘সিএসএফ’ সমন্বিতভাবে কাজ করছে সমাবেশ জুড়ে। তারা একদম পেশাদার ভঙ্গিতে কাজ করছে। প্রতিটি গেটে চলছে মেটাল ডিটেক্টর দিয়ে তল্লাশি। সন্দেহভাজন কাউকেই সমাবেশ স্থলের ত্রিসীমানায় ঘেঁষতে দেওয়া হচ্ছে না।

এএসএফ সদস্যরাও আছেন সতর্ক। মূলত নেতার ব্যক্তিগত নিরাপত্তা এবং মঞ্চের শৃঙ্খলা বজায় রাখাই তাদের প্রধান কাজ। তারা সবসময় নেতার ছায়াসঙ্গী হয়ে থাকেন। সিএসএফ সদস্যদের এই তৎপরতা কর্মীদের মনে ভরসা দিচ্ছে। সবাই শান্তিতে সমাবেশ সফল করতে চাইছে।

বিভাগের সব প্রার্থীরা এক মঞ্চে। এটি প্রমাণের চেষ্টা যে, বিএনপির জোট এখন পাথরের মতো শক্ত এবং অবিচল। আন্দালিব রহমান পার্থর মতো তরুণ নেতারা এখানে বড় ফ্যাক্টর। তাদের বক্তব্য শুনতে তরুণ ভোটাররা মুখিয়ে আছে। আজকের এই ঐক্য আসন্ন নির্বাচনে বড় ব্যবধান গড়ে দিতে পারে।

আরো পড়ুন:-রঙিন জামা পরা ফ্যাসিবাদকেও জনগণ লাল কার্ড দেখিয়েছে

বেলস পার্কের গর্জন ও আগামীর লড়াই

গর্জন কি ঢাকা পৌঁছাবে? বরিশালের এই মাটি থেকে তারেক রহমান যে বার্তা দেবেন, তা সারা দেশের রাজনীতির মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে। আমরা এখন মাহেন্দ্রক্ষণের অপেক্ষায়। বেলা ১২টার সূর্য যখন মাথার ওপরে উঠবে, তখনই শুরু হবে সেই কাঙ্ক্ষিত ভাষণ। তারেক রহমানের ফিরে আসা যেন এক নতুন ভোরে যাত্রা।

খেলা হবে ভোটের মাঠে। ২০ বছরের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে তারেক রহমান এখন বরিশালের রাজপথে। নেতাকর্মীদের স্লোগানই বলে দিচ্ছে তারা কতটা প্রস্তুত। এটি কেবল একটি নির্বাচনী যাত্রা নয়। এটি দীর্ঘ বঞ্চনার পর সাধারণ মানুষের জেগে ওঠার গল্প। বরিশাল আজ ইতিহাস গড়তে চলেছে। আরো জানতে ভিজিট করুন।

Leave a Comment