প্রশাসনের বিভিন্ন পদে ‘দলান্ধদের’ নিয়োগ: সরকারের সমালোচনায় জামায়াত
জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল আবদুল হালিম অভিযোগ করেছেন যে, বর্তমান সরকার যোগ্যতার তোয়াক্কা না করে কেবল দলীয় অনুগত ও ‘দলান্ধ’ ব্যক্তিদের গুরুত্বপূর্ণ পদে বসিয়ে তাদের খুশি করার চেষ্টা করছে। সম্প্রতি দেশের ১১টি সিটি করপোরেশন এবং ৪২টি জেলা পরিষদে প্রশাসক নিয়োগের সিদ্ধান্তকে তিনি অগণতান্ত্রিক এবং জুলাইয়ের গণ-অভ্যুত্থানের চেতনার পরিপন্থী বলে উল্লেখ করেন। তাঁর দাবি, এই প্রশাসকদের অধিকাংশই বিএনপিদলীয় নেতা-কর্মী যারা গত নির্বাচনে জনগণের কাছে পরাজিত বা প্রত্যাখ্যাত হয়েছেন।
বিশেষ করে শিক্ষা খাতের নিয়োগ নিয়ে তিনি তীব্র সমালোচনা করেন। আবদুল হালিমের মতে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি পদে এমন একজনকে বসানো হয়েছে যিনি সরাসরি দলীয় প্রচারণা ও পোস্টারিংয়ের সাথে যুক্ত ছিলেন। এছাড়াও, পূর্ববর্তী অন্তর্বর্তী সরকারের নিয়োগকৃত সাতটি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ও ইউজিসি চেয়ারম্যানকে কোনো সুনির্দিষ্ট কারণ ছাড়াই পরিবর্তন করাকে তিনি অযৌক্তিক ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মনে করেন।
আর্থিক খাতের বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, অতীতে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর পদে দক্ষ অর্থনীতিবিদ বা আমলাদের নিয়োগ দেওয়া হতো, কিন্তু এবার নজিরবিহীনভাবে একজন ব্যবসায়ীকে এই দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। গাইবান্ধা জেলা পরিষদের উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, সেখানে জামায়াত প্রার্থীর কাছে পরাজিত একজন বিএনপি নেতাকে প্রশাসক করা হয়েছে, যা অত্যন্ত হাস্যকর। জামায়াতের এই নেতা হুশিয়ারি দেন যে, সরকার যদি জনমতের তোয়াক্কা না করে এভাবে দলীয়করণ অব্যাহত রাখে, তবে তারা রাজপথ ও সংসদ—উভয় জায়গাতেই জনগণের দাবি নিয়ে সোচ্চার হবে।