বাংলাদেশ ব্যাংকের সাম্প্রতিক সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, সংকটে থাকা ৯টি আর্থিক প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৩টিকে টিকে থাকার শেষ সুযোগ দেওয়া হয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বোর্ড সভায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যেখানে প্রতিষ্ঠানগুলোকে ঘুরে দাঁড়ানোর জন্য নির্দিষ্ট সময় বেঁধে দেওয়া হয়েছে।
ঘুরে দাঁড়াতে ৩ প্রতিষ্ঠান পেল শেষ সুযোগ
বাংলাদেশ ব্যাংক আগে ৯টি ব্যাংকবহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠান (এনবিএফআই) বন্ধ বা অবসায়নের প্রাথমিক তালিকা করেছিল। তবে সম্প্রতি এক শুনানির পর জিএসপি ফাইন্যান্স, প্রাইম ফাইন্যান্স এবং বাংলাদেশ ইন্ডাস্ট্রিয়াল ফাইন্যান্স কোম্পানিকে (বিআইএফসি) সেই তালিকা থেকে সাময়িকভাবে বাদ দেওয়া হয়েছে।
আর্থিক সূচকের উন্নতি এবং তাদের প্রস্তাবিত কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য এই তিন প্রতিষ্ঠানকে ৩ থেকে ৬ মাস সময় দেওয়া হয়েছে। গভর্নর আহসান এইচ মনসুরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত পর্ষদ সভায় এই সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়। তবে বাকি ৬টি প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে অবসায়ন প্রক্রিয়া অব্যাহত থাকবে।
৬টি প্রতিষ্ঠানের অবসায়ন ও আমানতকারীদের সুরক্ষা
তালিকায় থাকা বাকি ৬টি প্রতিষ্ঠান—ফাস্ট ফাইন্যান্স, প্রিমিয়ার লিজিং, ফারইস্ট ফাইন্যান্স, আভিভা ফাইন্যান্স, পিপলস লিজিং এবং ইন্টারন্যাশনাল লিজিং—এখন চূড়ান্ত অবসায়নের পথে। দীর্ঘদিনের অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনায় এসব প্রতিষ্ঠানের খেলাপি ঋণের হার ৭৫ থেকে ৯৮ শতাংশ পর্যন্ত পৌঁছেছে।
সাধারণ আমানতকারীদের জন্য স্বস্তির খবর হলো, তাদের টাকা ফেরত দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। অবসায়ন হতে যাওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর ব্যক্তি আমানতকারীদের পাওনা মেটাতে প্রায় ৫ হাজার কোটি টাকার জোগান দেওয়া হবে। সরকারের কাছ থেকে এই অর্থ সহায়তার প্রতিশ্রুতি মেলার পরই অবসায়ন প্রক্রিয়া শুরুর কাজ ত্বরান্বিত হয়েছে।
আরো পড়ুন:- আগামী ২৪ ঘণ্টায় বৃষ্টির পূর্বাভাস: কোন কোন জেলা ভিজবে?
প্রশাসক নিয়োগ ও পরবর্তী পদক্ষেপ
অবসায়ন প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে প্রতিটি প্রতিষ্ঠানে একজন করে পরিচালককে প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দেবে বাংলাদেশ ব্যাংক। এছাড়া আরও দুইজন কর্মকর্তাকে তাদের সহায়তার জন্য পদায়ন করা হবে। একই সাথে প্রতিষ্ঠানগুলোকে অকার্যকর ঘোষণা করা হবে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান জানান, শুনানি শেষে কর্মপরিকল্পনা পর্যালোচনা করেই ৩টি প্রতিষ্ঠানকে পর্যবেক্ষণ এবং বাকিগুলোর বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে আর্থিক খাতে স্বচ্ছতা ফেরানোর চেষ্টা করছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। আরো জানতে ভিজিট করুন।