ডিজিটাল জালিয়াতি ও বৈশ্বিক প্রতারণা রুখতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ৪ প্রস্তাব
অস্ট্রিয়ার ভিয়েনায় অনুষ্ঠিত ‘গ্লোবাল ফ্রড সামিট ২০২৬’-এ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ ডিজিটাল জালিয়াতি ও আন্তর্জাতিক প্রতারণা মোকাবিলায় প্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহারের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন। তিনি জানান, অপরাধের ধরন এখন বৈশ্বিক হওয়ায় এককভাবে কোনো দেশের পক্ষে এটি নির্মূল করা অসম্ভব; এর জন্য প্রয়োজন সমন্বিত আন্তর্জাতিক উদ্যোগ।
বৈশ্বিক পর্যায়ে প্রতারণা রোধে তিনি ৪টি সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব তুলে ধরেন: ১. প্রতারণার নিত্যনতুন কৌশল বুঝতে ব্যাপক গবেষণা ও তথ্য আদান-প্রদান। ২. আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতার প্ল্যাটফর্মগুলো আরও শক্তিশালী করা। ৩. কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) এবং আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর মনিটরিং ব্যবস্থা চালু করা। ৪. আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সক্ষমতা বৃদ্ধি ও বিচারিক কাঠামো সংস্কারের মাধ্যমে দ্রুত শাস্তি নিশ্চিত করা।
মন্ত্রী উদ্বেগ প্রকাশ করে জানান, ২০০৬ থেকে ২০২১ সালের মধ্যে বাংলাদেশে ডিজিটাল স্ক্যাম ও এমএলএম পঞ্জি স্কিমের মাধ্যমে প্রায় ২১ হাজার কোটি টাকার আর্থিক ক্ষতি হয়েছে। বিশেষ করে এমটিএফই (MTFE) ও বিতর্কিত ই-কমার্স প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের বিপুল অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার বিষয়টি তিনি গুরুত্বের সাথে তুলে ধরেন। এছাড়া বাণিজ্যের আড়ালে প্রতি বছর গড়ে প্রায় ৮.২৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার পাচারের তথ্যও তিনি সভায় জানান।
সবশেষে তিনি উল্লেখ করেন যে, আধুনিক ‘হোয়াইট কলার ক্রাইম’ মোকাবিলায় ১৮৬০ সালের প্রচলিত দণ্ডবিধি এখন অপর্যাপ্ত। তাই অপরাধীদের কঠোর বিচার নিশ্চিত করতে সরকার দ্রুত আইন সংস্কারের পদক্ষেপ নিচ্ছে।