বাংলাদেশ বিমানের বোয়িং ৭৮৭-৯ উড়োজাহাজে মারাত্মক যান্ত্রিক ঝুঁকি থাকা সত্ত্বেও গত ২৫ ডিসেম্বর ভিভিআইপি ফ্লাইটে তৎকালীন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান (বর্তমান প্রধানমন্ত্রী) তারেক রহমানকে বহন করা হয়েছিল। বিমানের একটি অভ্যন্তরীণ তদন্ত প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে এসেছে।
তদন্ত প্রতিবেদনের মূল তথ্য:
উপপ্রধান প্রকৌশলী মো. মনসুরুল আলমের নেতৃত্বে গঠিত তিন সদস্যের কমিটি এই তদন্ত পরিচালনা করেন। প্রতিবেদনে রক্ষণাবেক্ষণ ও নিরাপত্তার ক্ষেত্রে ভয়াবহ কিছু অনিয়ম চিহ্নিত করা হয়েছে:
- তড়িঘড়ি রক্ষণাবেক্ষণ: গত ১০ ডিসেম্বর উড়োজাহাজটির রক্ষণাবেক্ষণ কাজ মাত্র আড়াই ঘণ্টায় শেষ করা হয়, যা এই মডেলের বিমানের জন্য অস্বাভাবিক কম সময়। এর সঠিক কোনো রেকর্ডও পাওয়া যায়নি।
- ত্রুটি উপেক্ষা: মাত্র ১৫ দিনের ব্যবধানে একই যান্ত্রিক ত্রুটি তিনবার দেখা দিলেও সেটিকে গুরুত্ব দেওয়া হয়নি। এমনকি মাঝ আকাশে উড্ডয়নরত অবস্থায় বিমানটির ভিএফএসজি (VFSG) বিকল হয়ে গিয়েছিল, যা থেকে বড় ধরনের অগ্নিকাণ্ড বা দুর্ঘটনার ঝুঁকি ছিল।
- আর্থিক ক্ষতি: রক্ষণাবেক্ষণে চরম অব্যবস্থাপনা এবং বারবার যন্ত্রাংশ পরিবর্তনের কারণে সরকারের প্রায় ২৬ কোটি টাকার আর্থিক ক্ষতি হয়েছে।
- দায়িত্বে অবহেলা: তদন্ত কমিটি প্রকৌশলী হীরালাল এবং মো. সাইফুজ্জামান খানের ভূমিকা নিয়ে তীব্র সমালোচনা করেছে। ফুয়েল প্রেসারের সতর্কবার্তা থাকা সত্ত্বেও তারা যথাযথ পরীক্ষা ছাড়াই বিমানটিকে উড্ডয়নের অনুমতি দিয়েছিলেন।
কমিটির সুপারিশ:
তদন্ত কমিটি এই পুরো ঘটনাকে একটি বড় ধরনের প্রশাসনিক ব্যর্থতা হিসেবে চিহ্নিত করেছে এবং দায়ী কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করেছে। বিমান কর্তৃপক্ষ প্রতিবেদন পাওয়ার কথা স্বীকার করলেও এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য করেনি।