ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে কেন্দ্র করে আগামী ১১ ও ১২ ফেব্রুয়ারি দেশের সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও সরকারি-বেসরকারি অফিস ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। গত ২৫ জানুয়ারি ২০২৬, রবিবার জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে এই সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। এর ফলে সাপ্তাহিক ছুটিসহ টানা ৪ দিনের লম্বা ছুটির সুযোগ পাচ্ছেন শিক্ষক, শিক্ষার্থী এবং চাকরিজীবীরা।
নির্বাচন কমিশন ও অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উপদেষ্টা পরিষদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ভোটারদের ভোটাধিকার প্রয়োগ এবং ভোটগ্রহণের সুবিধার্থেই এই নির্বাহী আদেশ দেওয়া হয়েছে। তবে যারা সরাসরি নির্বাচনের ডিউটি বা ভোটগ্রহণের দায়িত্বে থাকবেন, তারা এই ছুটির আওতায় পড়বেন না।
টানা ৪ দিনের ছুটি যেভাবে মিলছে
তফসিল অনুযায়ী, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি (বৃহস্পতিবার) জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচনের দিন সাধারণত সাধারণ ছুটি থাকে। তবে এবার বিশেষ বিবেচনায় নির্বাচনের আগের দিন অর্থাৎ ১১ ফেব্রুয়ারিকেও (বুধবার) সাধারণ ছুটি হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে।
যেহেতু ১১ ও ১২ ফেব্রুয়ারি (বুধ ও বৃহস্পতিবার) সরকারি ছুটি, আর এর পরের দুই দিন ১৩ ও ১৪ ফেব্রুয়ারি যথাক্রমে শুক্র ও শনিবার। ফলে সাধারণ মানুষ টানা চার দিনের একটি দীর্ঘ বিরতি পাচ্ছেন। অনেকেই এই সুযোগে গ্রামের বাড়িতে গিয়ে ভোট দিয়ে পরিবারসহ সময় কাটাতে পারবেন।
আরো পড়ুন:- পাহাড়ের পথে একা পেঙ্গুইন! নেটিজেনদের চোখে সে আসল হিরো।
শিল্পাঞ্চলের জন্য বিশেষ নির্দেশনা
প্রজ্ঞাপনে শিল্পাঞ্চলের শ্রমিক ও কর্মচারীদের জন্য আলাদা নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। তাদের ভোটাধিকার নিশ্চিত করতে আগামী ১০ ফেব্রুয়ারি (মঙ্গলবার) বিশেষ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। অর্থাৎ শিল্পাঞ্চলের কর্মীরা মঙ্গলবার থেকে ছুটি শুরু করে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত টানা তিন দিন (সাপ্তাহিক ছুটি বাদে) বিশ্রাম ও ভোট দেওয়ার সুযোগ পাবেন।
সরকারের এই সিদ্ধান্তের মূল উদ্দেশ্য হলো বড় শহরগুলোতে কর্মরত শ্রমিকরা যেন সময়মতো নিজ নিজ নির্বাচনী এলাকায় পৌঁছাতে পারেন। এতে করে ভোটার উপস্থিতি বাড়বে এবং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া আরও শক্তিশালী হবে বলে মনে করছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
আরো পড়ুন:- হাসিনার দিল্লি ভাষণ: ভারতে কড়া বার্তা পাঠালো বাংলাদেশ!
প্রজ্ঞাপনের গুরুত্বপূর্ণ শর্তাবলি
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের জারি করা আদেশে বলা হয়েছে, এই ছুটি সকল সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত এবং বেসরকারি অফিসের জন্য কার্যকর হবে। ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকেও এই ছুটির আওতায় রাখা হয়েছে। তবে জরুরি সেবা যেমন হাসপাতাল, ফায়ার সার্ভিস, বিদ্যুৎ, পানি ও গ্যাস সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানগুলো এই ছুটির বাইরে থাকবে।
বিসিবি বা অন্যান্য শিক্ষা বোর্ডগুলোর পূর্বনির্ধারিত কোনো পরীক্ষা থাকলে তা পুনঃনির্ধারণ করা হতে পারে বলে আভাস পাওয়া গেছে। শিক্ষার্থীদের নিজ নিজ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নোটিশ বোর্ড বা অনলাইন পোর্টাল চেক করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। আরো জানতে ভিজিট করুন।