ভারত থেকে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রকাশ্য বক্তব্য দেওয়ার ঘটনায় তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে বাংলাদেশ। অন্তর্বর্তীকালীন সরকার এই ঘটনায় বিস্ময় ও ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেছে, একজন দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিকে দিল্লির মাটিতে কথা বলতে দেওয়া দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের জন্য একটি ‘বিপজ্জনক নজির’।
গত ২৩ জানুয়ারি দিল্লির এক সংবাদ ক্লাবে শেখ হাসিনার অডিও ভাষণ প্রচার করা হয়। এরপরই রোববার ঢাকার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে একটি কড়া বিবৃতি দেওয়া হয়। যেখানে শেখ হাসিনাকে ‘গণহত্যাকারী’ এবং ‘পলাতক’ হিসেবে উল্লেখ করে ভারতের প্রতি এই ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানানো হয়েছে।
দিল্লির অডিও ভাষণে কী বলেছিলেন হাসিনা?
গত বছরের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের মুখে পদত্যাগ করে ভারতে আশ্রয় নেন ৭৮ বছর বয়সী শেখ হাসিনা। এরপর এই প্রথম তাকে কোনো প্রকাশ্য অনুষ্ঠানে অডিও ভাষণ দিতে দেখা গেল। অনলাইন মাধ্যমে সম্প্রচারিত ওই ভাষণে হাসিনা দাবি করেন, ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে বাংলাদেশে কখনোই সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয়।
হাসিনার এই বক্তব্যকে উসকানিমূলক এবং বাংলাদেশের শান্তি ও নিরাপত্তার জন্য হুমকি বলে মনে করছে ঢাকা। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মতে, এটি বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক পরিবর্তনের পথে বড় অন্তরায়।
ঢাকার কড়া প্রতিক্রিয়া ও ক্ষোভ
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “শেখ হাসিনা আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল কর্তৃক মানবতাবিরোধী অপরাধে দণ্ডপ্রাপ্ত একজন অপরাধী। এমন ব্যক্তিকে দিল্লির মতো জায়গায় প্রকাশ্যে বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ করে দেওয়া বাংলাদেশের জনগণের প্রতি একটি চরম অবমাননা।”
বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে বিদ্যমান প্রত্যর্পণ চুক্তি অনুযায়ী হাসিনাকে হস্তান্তরের অনুরোধ বারবার জানানো হলেও ভারত তা কার্যকর করেনি। বরং উল্টো তাকে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাওয়ার সুযোগ দেওয়া হচ্ছে।
আরো পড়ুন:- ভাতা বাড়ছে ৫ হাজার টাকা! জানুন কারা পাচ্ছেন এই সুখবর।
নির্বাচনের আগে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের টানাপোড়েন
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশে জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। ঠিক এই মুহূর্তে শেখ হাসিনার এই বক্তব্য নির্বাচনপূর্ব স্থিতিশীলতাকে নষ্ট করতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। বাংলাদেশ সরকার মনে করে, ভারতের এই ধরণের আচরণ দুই দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।
এদিকে, শেখ হাসিনার সাজা নিয়ে ভারতের অবস্থান কিছুটা ভিন্ন। দিল্লি এই বিচার প্রক্রিয়াকে নিয়ে সরাসরি কোনো মন্তব্য না করলেও বলেছে, তারা বাংলাদেশের শান্তি, গণতন্ত্র এবং স্থিতিশীলতার জন্য প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তবে হাসিনাকে হস্তান্তরের ব্যাপারে এখনো কোনো স্পষ্ট বার্তা দেয়নি প্রতিবেশী দেশটি।
আরো পড়ুন:- মেঘনা গ্রুপে নিয়োগ ২০২৬: এমবিএ পাসে আকর্ষণীয় বেতনে চাকরি
ভারতের নীরবতা ও ভবিষ্যৎ প্রভাব
শেখ হাসিনাকে হস্তান্তরের জন্য বাংলাদেশের আনুষ্ঠানিক অনুরোধের জবাবে ভারত এখনো কোনো মন্তব্য করেনি। তবে হাসিনার এই সাম্প্রতিক অডিও বার্তার পর কূটনৈতিক পর্যায়ে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচনের আগে হাসিনার রাজনৈতিক সক্রিয়তা দিল্লির জন্য একটি কঠিন পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে।
সব মিলিয়ে, ভারতের মাটিতে বসে হাসিনার এই রাজনৈতিক বার্তা প্রদান দুই দেশের কূটনৈতিক শিষ্টাচারের বাইরে বলেই মনে করছে ঢাকা। এখন দেখার বিষয়, বাংলাদেশ সরকারের এই প্রতিবাদের জবাবে দিল্লি কী পদক্ষেপ নেয়।
আরো জানতে ভিজিট করুন।