সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় আসছে বড় পরিবর্তন। আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য খেতাবপ্রাপ্ত ও শহীদ মুক্তিযোদ্ধা পরিবারসহ বয়স্ক, বিধবা ও প্রতিবন্ধীদের ভাতার পরিমাণ বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার। একই সঙ্গে বাড়ানো হচ্ছে উপকারভোগীর সংখ্যাও। অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে এই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
মুক্তিযোদ্ধাদের ভাতার নতুন হার
নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধা এবং শহীদ মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের মাসিক ভাতা ৫ হাজার টাকা বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। তবে সাধারণ মুক্তিযোদ্ধাদের বর্তমান মাসিক ২০ হাজার টাকা ভাতা আগের মতোই বহাল থাকছে। এই উদ্যোগের ফলে মুক্তিযোদ্ধা পরিবারগুলোর দীর্ঘদিনের দাবির একটি প্রতিফলন ঘটতে যাচ্ছে।
বয়স্ক ও বিধবা ভাতার পরিসর বৃদ্ধি
সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীনে বয়স্ক ভাতাভোগীর সংখ্যা ১ লাখ বাড়িয়ে ৬২ লাখ করা হচ্ছে। এদের মধ্যে ৫৯ লাখ ৯৫ হাজার ব্যক্তি মাসে ৭০০ টাকা করে পাবেন। তবে ৯০ বছরের বেশি বয়সীদের জন্য বিশেষ বিবেচনায় ভাতার পরিমাণ ১ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। একইভাবে বিধবা ও স্বামী নিগৃহীতা ভাতার ক্ষেত্রেও উপকারভোগীর সংখ্যা এবং হার পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে।
প্রতিবন্ধী ও অনগ্রসর জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়ন
প্রতিবন্ধী ভাতা ও শিক্ষা উপবৃত্তি কার্যক্রমে উপকারভোগীর সংখ্যা ১.৫ লাখ বাড়িয়ে ৩৬ লাখ করা হচ্ছে। সাধারণ প্রতিবন্ধীরা মাসে ৯০০ টাকা এবং বিশেষ ক্ষেত্রে ১ হাজার টাকা ভাতা পাবেন। অনগ্রসর জনগোষ্ঠীর জন্য মাসিক ভাতা ৬৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৭০০ টাকা করা হয়েছে। এছাড়া শিক্ষার্থীদের বৃত্তির হারও সব স্তরে ৫০ টাকা করে বাড়ানো হচ্ছে।
আরো পড়ুন:- পাসপোর্ট পুলিশ ভেরিফিকেশন আর লাগবে না? নতুন নিয়ম জানুন!
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের শহীদ পরিবারকে অন্তর্ভুক্তি
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে যারা শহীদ হয়েছেন এবং আহত হয়েছেন, তাদের জন্য মাসিক সম্মানী ভাতা চালুর সুপারিশ করা হয়েছে। তাদের কল্যাণের বিষয়টি এখন থেকে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির মূল কার্যপরিধির মধ্যে থাকবে। এছাড়া জেলেদের জন্য ভিজিএফ কর্মসূচির পরিধি বাড়িয়ে ১৫ লাখ জেলেকে এর আওতায় আনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
আরো পড়ুন:- ইউটিউব শর্টসে ভিউ ০? ৫ মিনিটে ঠিক করার জাদুকরী উপায়!
ক্যানসার ও জটিল রোগীদের বিশেষ সহায়তা
ক্যানসার, কিডনি, লিভার সিরোসিস এবং থ্যালাসেমিয়ার মতো জটিল রোগে আক্রান্ত রোগীদের জন্য বড় সুখবর রয়েছে। আগে যেখানে এককালীন ৫০ হাজার টাকা সহায়তা দেওয়া হতো, এখন থেকে তা বাড়িয়ে ১ লাখ টাকা করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। উপকারভোগীর সংখ্যাও ৫ হাজার বাড়িয়ে ৬৫ হাজারে উন্নীত করা হয়েছে।
এই বিশাল কার্যক্রম বাস্তবায়নে সরকারকে অতিরিক্ত ২ হাজার ৭০০ কোটি টাকা ব্যয় করতে হবে। পেনশন বাদে সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর জন্য প্রস্তাবিত বরাদ্দ জিপিডিপি-র প্রায় ১.৮৭ শতাংশে দাঁড়াবে।
আরো জানতে ভিজিট করুন।