গণ-অভ্যুত্থান পরবর্তী নতুন বাংলাদেশের রূপরেখা: সংসদে রাষ্ট্রপতির ঐতিহাসিক ভাষণ
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের অধিবেশনে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন এক গুরুত্বপূর্ণ ভাষণ প্রদান করেছেন। তিনি তার বক্তব্যের শুরুতেই স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন যে, একটি বিশাল গণ-অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়েই দেশে ফ্যাসিবাদী সরকারের পতন ঘটেছে। তিনি জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের শহীদদের আত্মত্যাগের কথা গভীর শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করেন এবং বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের নেওয়া বিভিন্ন জনকল্যাণমুখী পদক্ষেপের চিত্র তুলে ধরেন।
রাষ্ট্রপতি বর্তমান সরকারের মূলমন্ত্র হিসেবে ‘করব কাজ, গড়ব দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’ নীতির কথা উল্লেখ করেন। তিনি জানান, দুর্নীতি দমন এবং আইনশৃঙ্খলা কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করাই হবে এই সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার। দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতির ওপর আলোকপাত করে তিনি মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতি, মূল্যস্ফীতি এবং বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের চ্যালেঞ্জগুলো নিয়ে কথা বলেন। সাধারণ মানুষের সুবিধার্থে প্রতিটি পরিবারকে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ প্রদান এবং সামাজিক সুরক্ষায় বিশেষ জোর দেওয়ার কথা জানান তিনি। বিশেষ করে নারীদের ক্ষমতায়নের লক্ষ্যে স্নাতকোত্তর পর্যন্ত অবৈতনিক পড়াশোনা এবং ক্ষুদ্র ঋণ কর্মসূচি চালুর ঘোষণা দেন। এছাড়া পরিবেশ রক্ষায় প্রতি বছর ৫ কোটি বৃক্ষরোপণের বিশাল পরিকল্পনার কথাও তিনি সংসদে জানান।
তবে রাষ্ট্রপতির ভাষণ চলাকালীন সংসদে এক উত্তপ্ত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্যরা হাতে বিভিন্ন প্ল্যাকার্ড নিয়ে রাষ্ট্রপতির সামনেই প্রতিবাদ জানাতে থাকেন। তাদের প্ল্যাকার্ডে ‘জুলাই নিয়ে গাদ্দারি চলবে না’—এমন বিভিন্ন স্লোগান লেখা ছিল। এই চরম হইচই ও উত্তেজনার মধ্যেই রাষ্ট্রপতি তার বক্তব্য শেষ করেন। ভাষণ শেষে তিনি সংসদ ত্যাগ করলে স্পিকার অধিবেশন ১৫ মার্চ পর্যন্ত মুলতবি ঘোষণা করেন।