নতুন সরকারের এক মাস: ভালো কাজের শুরু নাকি পুরনো পথেই হাঁটা? - Trend Bd

নতুন সরকারের এক মাস: ভালো কাজের শুরু নাকি পুরনো পথেই হাঁটা?

নতুন সরকারের এক মাস: প্রত্যাশা ও আশঙ্কার দোলাচলে বাংলাদেশ

জুলাই গণ-অভ্যুত্থান পরবর্তী নির্বাচনে গঠিত নতুন সরকারের প্রথম এক মাসের কার্যক্রম পর্যালোচনা করলে একদিকে যেমন ইতিবাচক ও আশাজাগানিয়া উদ্যোগ দেখা যায়, অন্যদিকে কিছু ক্ষেত্রে পুরনো দলীয়করণের প্রবণতা নিয়ে গভীর উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। টিআইবি-র নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামানের বিশ্লেষণে সরকারের এই শুরুর দিনগুলোর একটি স্বচ্ছ চিত্র ফুটে উঠেছে।

আশাজাগানিয়া ও ইতিবাচক পদক্ষেপ: সরকার তার নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নে শুরুতেই কিছু ভালো দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। বিশেষ করে সংসদ সদস্যদের শুল্কমুক্ত গাড়ি ও প্লট না নেওয়ার সিদ্ধান্তটি জনগণের কাছে ইতিবাচক বার্তা দিয়েছে। এছাড়া জনকল্যাণমূলক কাজ হিসেবে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ, খাল খনন, কৃষক কার্ড প্রদান এবং বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির মাধ্যমে সরকার তার জনমুখী অঙ্গীকারের প্রতিফলন ঘটাচ্ছে।

উদ্বেগজনক ও নেতিবাচক প্রবণতা: ইতিবাচক কাজের পাশাপাশি কিছু ক্ষেত্রে ‘পুরনো প্রথা’ বা দলীয়করণের ঝুঁকি দেখা যাচ্ছে। বিশেষ করে বাংলাদেশ ব্যাংক, দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এবং বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে গুরুত্বপূর্ণ নিয়োগের ক্ষেত্রে পেশাদারিত্বের চেয়ে দলীয় আনুগত্যকে প্রাধান্য দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এছাড়া প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীতে তড়িঘড়ি করে পরিবর্তন এবং স্থানীয় সরকারে দলীয় প্রশাসক নিয়োগের বিষয়টি ‘এবার আমাদের পালা’—এমন কর্তৃত্ববাদী মানসিকতার ইঙ্গিত দেয়। সবচেয়ে বড় উদ্বেগের বিষয় হলো চাঁদাবাজিকে সুরক্ষা দেওয়ার প্রয়াস এবং এর বিরুদ্ধে সরকারের পক্ষ থেকে কঠোর বার্তার অভাব।

ভবিষ্যৎ করণীয় ও সংস্কার: সরকারকে মনে রাখতে হবে, দুর্নীতি প্রতিরোধকে মূল গুরুত্ব না দিলে কোনো জনকল্যাণমূলক উদ্যোগই সফল হবে না। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের চেতনা বজায় রাখতে ১১টি কমিশনের সংস্কার প্রস্তাবগুলো বাস্তবায়ন করা অপরিহার্য। কর্তৃত্ববাদী ব্যবস্থার পুনর্বাসন ঠেকাতে এবং সুশাসন নিশ্চিত করতে সরকারকে আরও সুচিন্তিত ও সাহসি পদক্ষেপ নিতে হবে।

Leave a Comment