লটারি পদ্ধতি বাতিল ও মেধাভিত্তিক ভর্তির জোরালো দাবি সংসদে
জাতীয় সংসদে শিক্ষার্থীদের ভর্তি প্রক্রিয়ায় প্রচলিত লটারি পদ্ধতির কঠোর সমালোচনা করেছেন কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ। আজ রোববার (১৫ মার্চ) সংসদ অধিবেশনে তিনি এই পদ্ধতিকে শিক্ষার মান কমার অন্যতম কারণ হিসেবে চিহ্নিত করেন। জবাবে শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলনও লটারি পদ্ধতিকে ‘অযৌক্তিক’ আখ্যা দিয়ে এটি পরিবর্তনের আভাস দিয়েছেন।
অধিবেশনের মূল আলোচনার বিষয়গুলো নিচে তুলে ধরা হলো:
- মেধার অবমূল্যায়ন: সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, মেধাভিত্তিক ভর্তির পরিবর্তে লটারি প্রথা চালু হওয়ায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর শিক্ষার মান নিচে নেমে যাচ্ছে। এর ফলে উচ্চশিক্ষার জন্য দক্ষ ও মানসম্মত শিক্ষার্থী পাওয়া কঠিন হয়ে পড়ছে।
- শিক্ষায় বৈষম্য: তিনি আরও উল্লেখ করেন, বর্তমানে শিক্ষা পদ্ধতি তিন ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়েছে—বিত্তবানদের জন্য ইংরেজি মাধ্যম, মধ্যবিত্তের জন্য সাধারণ শিক্ষা এবং অন্যদের জন্য মাদ্রাসা শিক্ষা। এই বিভাজন রেখে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক (Inclusive) শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলা সম্ভব নয়।
- ভর্তিতে নতুন চিন্তাভাবনা: শিক্ষামন্ত্রী জানান, লটারি সিস্টেমটি বিগত সরকারের করা একটি সিদ্ধান্ত ছিল যা বাস্তবসম্মত নয়। শহরের স্কুলগুলোতে ভর্তির চাপ সামলাতে এটি করা হলেও এর কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।
- পরিবর্তনের সময়সীমা: আগামী ২০২৭ সালের জানুয়ারি সেশনে ভর্তির জন্য নতুন কোনো পদ্ধতি চালু করা যায় কি না, তা নিয়ে সরকার ভাবছে। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের আগে অভিভাবক, বিশেষজ্ঞ এবং সংসদ সদস্যদের মতামত নিয়ে একটি জনমত তৈরি করা হবে।
গ্রামীণ জনপদে ভর্তি নিয়ে তেমন সমস্যা না থাকলেও শহর এলাকার জটিলতা নিরসনে একটি বিজ্ঞানসম্মত ও মেধাভিত্তিক পদ্ধতি চালুর বিষয়ে গুরুত্বারোপ করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।