নির্বাচনী ফলাফল চ্যালেঞ্জ ও সাবেক উপদেষ্টাদের বিচার দাবি: চাপে বিএনপি সরকার
১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে বিএনপি সরকার গঠন করলেও নির্বাচনের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন জিইয়ে রেখেছে প্রধান বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামী। আইনি লড়াই এবং রাজনৈতিক কৌশলের মাধ্যমে সরকারকে চাপে রাখাই এখন দলটির মূল লক্ষ্য।
ঘটনার মূল বিষয়গুলো নিচে তুলে ধরা হলো:
- ভোট পুনর্গণনার দাবি: জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১-দলীয় নির্বাচনী ঐক্য ৩২টি আসনে ভোট পুনর্গণনার দাবি জানিয়ে নির্বাচন কমিশনে আবেদন করেছে। তাদের অভিযোগ, পোলিং এজেন্টের স্বাক্ষর ছাড়া ফলাফল প্রকাশ এবং তথ্যে গরমিল করে অল্প ব্যবধানে তাদের প্রার্থীদের হারিয়ে দেওয়া হয়েছে।
- আদালতে আইনি লড়াই: ইতিমধ্যে অন্তত ১৩টি আসনের ফলাফল চ্যালেঞ্জ করে প্রার্থীরা উচ্চ আদালতে রিট করেছেন। এর মধ্যে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার এবং বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হকও রয়েছেন। অভিযোগ প্রমাণিত হলে চ্যালেঞ্জ করা আসনের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে জানিয়েছে জামায়াত।
- সাবেক উপদেষ্টাদের নিয়ে বিতর্ক: অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক দুই উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান ও খলিলুর রহমানের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে জামায়াত। তাদের দাবি, এই দুই উপদেষ্টা ‘ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং’-এর মাধ্যমে বিএনপিকে সুবিধা দিয়েছেন। এর পুরস্কার হিসেবেই খলিলুর রহমানকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী করা হয়েছে বলে অভিযোগ তুলে তাদের বিচার ও জিজ্ঞাসাবাদের দাবি জানিয়েছে দলটি।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচনের এই বিতর্কগুলোকে সক্রিয় রেখে সংসদের ভেতরে ও বাইরে বিএনপি সরকারকে নৈতিক চাপে রাখতে চায় জামায়াত, যাতে বিরোধী দল হিসেবে নিজেদের অবস্থান আরও শক্তিশালী করা যায়।