সংসদীয় গণতন্ত্রে স্পিকারের সাংবিধানিক ক্ষমতা ও ত্রয়োদশ সংসদের নতুন নেতৃত্ব
বাংলাদেশের সংসদীয় ব্যবস্থায় স্পিকার হলেন জাতীয় সংসদের অভিভাবক এবং সভার শৃঙ্খলা রক্ষার প্রধান কাণ্ডারি। সংবিধানের ৭৪(১) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, সাধারণ নির্বাচনের পর সংসদের প্রথম বৈঠকেই সদস্যদের মধ্য থেকে একজন স্পিকার ও একজন ডেপুটি স্পিকার নির্বাচিত করা হয়।
যোগ্যতা ও সীমাবদ্ধতা: স্পিকার বা ডেপুটি স্পিকার হতে হলে তাকে অবশ্যই সংসদ সদস্য (MP) হতে হবে। তবে তিনি একই সাথে ‘মন্ত্রী’ থাকতে পারবেন না। সংবিধানের ১৪৭(৩) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, স্পিকারের পদটি একটি স্বাধীন সাংবিধানিক পদ, যা নির্বাহী বিভাগের (মন্ত্রিত্ব) সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। যদি কোনো মন্ত্রী স্পিকার হিসেবে নির্বাচিত হন, তবে দায়িত্ব গ্রহণের সাথে সাথেই তার মন্ত্রিত্ব পদটি শূন্য হয়ে যায়।
ক্ষমতা ও দায়িত্ব: স্পিকার সংসদ অধিবেশন পরিচালনা করেন এবং বিতর্ক ও শৃঙ্খলা বজায় রাখেন। সাধারণত তিনি কোনো পক্ষে ভোট দেন না। তবে কোনো প্রস্তাবের পক্ষে-বিপক্ষে ভোট সমান হয়ে গেলে, তিনি জয়-পরাজয় নির্ধারণী ভোট বা ‘কাস্টিং ভোট’ দিতে পারেন। সংসদের মেয়াদ শেষ হলেও নতুন স্পিকার দায়িত্ব না নেওয়া পর্যন্ত তিনি পদে বহাল থাকেন।
ত্রয়োদশ সংসদের নতুন অভিভাবক: সম্প্রতি ভোলা-৩ আসনের সংসদ সদস্য ও বীর বিক্রম মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের স্পিকার এবং নেত্রকোনা-১ আসনের ব্যারিস্টার কায়সার কামাল ডেপুটি স্পিকার নির্বাচিত হয়েছেন। স্পিকার নির্বাচিত হওয়ার আগে মেজর হাফিজ মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী এবং কায়সার কামাল ভূমি প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। সাংবিধানিক নিয়ম মেনে স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার পদে আসীন হওয়ায় এখন তারা আর মন্ত্রী থাকতে পারবেন না। বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক ও সামরিক জীবনের অধিকারী মেজর হাফিজ ইতিপূর্বে ছয়বার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন।