শালীর স্বামীকে কেন খুন করল দুলাভাই? ফটিকছড়ি হত্যাকাণ্ডের ভয়ংকর রহস্য। - Trend Bd

শালীর স্বামীকে কেন খুন করল দুলাভাই? ফটিকছড়ি হত্যাকাণ্ডের ভয়ংকর রহস্য।

শালীর সাথে প্রেম, পরে বিয়ে করায় ক্ষোভ: স্বামীকে ডেকে নৃশংসভাবে খুন করল দুলাভাই!

চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে ঘটে যাওয়া এক চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ডের রহস্য উন্মোচন করেছে পুলিশ। শালীর সাথে প্রেমের সম্পর্ক থাকলেও শেষ পর্যন্ত শালী বিয়ে করেন অন্য একজনকে। আর এই ক্ষোভ থেকেই পরিকল্পিতভাবে শালীর স্বামীকে নির্জন স্থানে ডেকে নিয়ে গলা কেটে হত্যা করেন দুলাভাই ফিরোজ আহাম্মদ। এই ঘটনায় ফিরোজ ও তার শাশুড়ি ফাতেমা বেগমকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

গত ২১ জানুয়ারি থেকে নিখোঁজ ছিলেন ১৯ বছর বয়সী যুবক রাজু মিঞা। ২৬ জানুয়ারি তার অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধারের পর এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। পুলিশি তদন্তে বেরিয়ে আসে ত্রিকোণ প্রেম আর পারিবারিক আক্রোশের এক ভয়াবহ চিত্র। বর্তমানে মূল অভিযুক্ত আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

নিখোঁজ থেকে মরদেহ উদ্ধার: ঘটনার শুরু যেভাবে

ফটিকছড়ি উপজেলার ধর্মপুর গ্রামের বাসিন্দা রাজু মিঞা গত ২১ জানুয়ারি রাতে তার ভাঙারির দোকানে যাওয়ার কথা বলে বাড়ি থেকে বের হয়েছিলেন। এরপর থেকেই তার মোবাইল ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়। পরিবারের সদস্যরা চারদিকে খোঁজাখুঁজি করেও তার কোনো হদিস পাননি।

অবশেষে ২৬ জানুয়ারি সকালে স্থানীয় ধর্মপুর ইউনিয়নের খনখাইয়া খালের ঢালে তার ক্ষতবিক্ষত মরদেহ পাওয়া যায়। মরদেহের অবস্থা দেখে বোঝা যাচ্ছিল, অত্যন্ত নৃশংসভাবে তাকে হত্যা করা হয়েছে। এই ঘটনায় রাজুর বাবা ফটিকছড়ি থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

ত্রিকোণ প্রেম ও বিবাদের নেপথ্য কাহিনী

তদন্তে নেমে পুলিশ জানতে পারে, মামলার প্রধান আসামি ফিরোজ আহাম্মদের বাড়ি রাউজান এলাকায় হলেও তার স্ত্রী ফটিকছড়িতে বাবার বাড়িতে থাকতেন। সেই সুবাদে ফিরোজ তার শ্যালিকার প্রেমে পড়ে যান। দীর্ঘ সময় তাদের মধ্যে এই গোপন সম্পর্ক বজায় ছিল।

তবে পরবর্তীতে ওই শ্যালিকা প্রতিবেশী রাজু মিঞার প্রেমে পড়েন। বিষয়টি জানাজানি হলে এলাকায় সামাজিক মীমাংসার মাধ্যমে রাজুর সাথেই শ্যালিকার বিয়ে সম্পন্ন হয়। নিজের প্রেমিকাকে অন্য কেউ বিয়ে করায় মনে মনে প্রতিশোধের আগুন জ্বলছিল দুলাভাই ফিরোজের মনে।

শাশুড়ির সাথে মিলে খুনের নীল নকশা

শ্যালিকার বিয়ে মেনে নিতে পারেননি ফিরোজ এবং তার শাশুড়ি ফাতেমা বেগম। রাজু যাতে সুখে সংসার করতে না পারে, সেজন্য তারা তাকে পৃথিবী থেকে সরিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা করেন। পুলিশের দাবি, শাশুড়ি ও জামাই মিলে রাজুকে হত্যার চূড়ান্ত ছক তৈরি করেন।

গত ২১ জানুয়ারি রাতে ফিরোজ কৌশলে রাজুকে ফোন করেন। তিনি জানান, তার স্ত্রীর জন্য একটি থ্রি-পিস উপহার পাঠিয়েছেন এবং সেটি খনখাইয়া খালের পাড় থেকে সংগ্রহ করতে হবে। সরল বিশ্বাসে রাজু সেখানে পৌঁছালে ওত পেতে থাকা ফিরোজ তার ওপর হামলা চালান।

আরো পড়ুন:-বন্ধ হচ্ছে ৬ আর্থিক প্রতিষ্ঠান: টাকা ফেরত পাবেন আমানতকারীরা

যেভাবে চালানো হয় নৃশংস হত্যাকাণ্ড

নির্জন স্থানে রাজুকে পাওয়ার পর ফিরোজ ধারালো ছুরি দিয়ে তার পেট, গলা ও পিঠে উপুর্যুপরি আঘাত করেন। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে ঘটনাস্থলেই রাজুর মৃত্যু নিশ্চিত হয়। এরপর প্রমাণ লোপাট করতে মরদেহটি খালের ঢালে বালিচাপা দেওয়া হয়।

হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ছুরিটি ফিরোজ পাশের খালে ফেলে দেন এবং উপহারের সেই থ্রি-পিসটি সেগুন বাগানে ছুড়ে ফেলে আত্মগোপনে চলে যান। তিনি প্রথমে ঢাকা এবং পরে কুমিল্লায় পালিয়ে গেলেও আধুনিক প্রযুক্তির সহায়তায় পুলিশ তাকে শনাক্ত করতে সক্ষম হয়।

পুলিশের অভিযান ও আসামি গ্রেপ্তার

চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের অতিরিক্ত সুপার মো. রাসেলের নেতৃত্বে একটি বিশেষ দল গত মঙ্গলবার কুমিল্লার কোতোয়ালী এলাকা থেকে ফিরোজকে গ্রেপ্তার করে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদেই তিনি রাজুকে খুনের কথা স্বীকার করেন। পরবর্তীতে তার দেওয়া তথ্যে শাশুড়ি ফাতেমা বেগমকেও গ্রেপ্তার করা হয়।

পুলিশ তল্লাশি চালিয়ে খাল থেকে রক্তমাখা ছুরি এবং বাগান থেকে সেই থ্রি-পিস উদ্ধার করেছে। বুধবার (২৮ জানুয়ারি) চট্টগ্রামের চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করা হলে ফিরোজ বিচারকের কাছে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়ে নিজের অপরাধের কথা কবুল করেন।

আরো পড়ুন:- প্রকাশিত হলো ভোকেশনাল নবম শ্রেণির রেজাল্ট: দেখার নিয়ম জানুন

এলাকায় চাঞ্চল্য ও বিচার দাবি

এই নারকীয় হত্যাকাণ্ডের খবর ছড়িয়ে পড়লে ফটিকছড়িজুড়ে তীব্র উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। সাধারণ মানুষ এই পৈশাচিক ঘটনার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। পুলিশের দ্রুত পদক্ষেপ এবং মামলার রহস্য উদ্ঘাটনে সন্তোষ প্রকাশ করেছে নিহতের পরিবার।

প্রেমের জেরে আপন শ্যালিকার স্বামীকে খুন করার এমন ঘটনা সামাজিক অবক্ষয়ের চরম বহিঃপ্রকাশ বলে মনে করছেন সমাজবিজ্ঞানীরা। বর্তমানে গ্রেপ্তারকৃত আসামিদের কারাগারে পাঠানো হয়েছে এবং মামলার পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। আরো জানতে ভিজিট করুন।

Leave a Comment