পশ্চিমবঙ্গে নিপাহ ভাইরাসের হানা: জানুন বাঁচার উপায় - Trend Bd

পশ্চিমবঙ্গে নিপাহ ভাইরাসের হানা: জানুন বাঁচার উপায়

পশ্চিমবঙ্গে নিপাহ ভাইরাসের আতঙ্ক: কতটা ঝুঁকিতে আমরা?

ভারতে আবারও মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে প্রাণঘাতী নিপাহ ভাইরাস। সম্প্রতি পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যে দুইজনের শরীরে এই ভাইরাসের উপস্থিতি নিশ্চিত করেছে দেশটির কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। তবে আশার কথা হলো, কর্তৃপক্ষ দাবি করেছে যে পরিস্থিতি বর্তমানে সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

নিপাহ ভাইরাস নিয়ে কেন এত ভয়?

নিপাহ একটি জুনোটিক ভাইরাস, যা মূলত প্রাণী (যেমন বাদুড় বা শূকর) থেকে মানুষের শরীরে ছড়ায়। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (WHO) মতে, এই ভাইরাসে আক্রান্তদের মৃত্যুর হার ৪০ থেকে ৭৫ শতাংশ পর্যন্ত হতে পারে। সবচেয়ে ভয়ের ব্যাপার হলো, এখন পর্যন্ত এই ভাইরাসের কোনো নির্দিষ্ট ভ্যাকসিন বা টিকা আবিষ্কৃত হয়নি।

পশ্চিমবঙ্গ সরকারের পদক্ষেপ ও বর্তমান অবস্থা

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে যে, আক্রান্তদের শনাক্ত করার পরপরই কড়া নজরদারি ও ল্যাবরেটরি পরীক্ষা চালানো হয়েছে। আক্রান্ত ব্যক্তিদের সংস্পর্শে আসা ১৯৬ জনকে দ্রুত চিহ্নিত করা হয়। সৌভাগ্যবশত, তাদের প্রত্যেকের পরীক্ষার ফলাফল নেগেটিভ এসেছে। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।

নিপাহ ভাইরাসের লক্ষণগুলো কী কী?

নিপাহ ভাইরাসে আক্রান্ত হলে শুরুতে প্রচণ্ড জ্বর, মাথাব্যথা এবং বমি বমি ভাব হতে পারে। অনেক ক্ষেত্রে শ্বাসকষ্টও দেখা দেয়। পরিস্থিতি জটিল হলে রোগী খিঁচুনি বা মস্তিষ্কের প্রদাহের (Encephalitis) শিকার হতে পারেন, যা রোগীকে কোমায় নিয়ে যেতে পারে।

আরো পড়ুন:-নতুন বেতন স্কেল নিয়ে দুঃসংবাদ! আপাতত বাড়ছে না সরকারি বেতন

যেভাবে ছড়ায় এই রোগ

প্রকৃতিতে ফলখেকো বাদুড় হলো এই ভাইরাসের প্রধান বাহক। সাধারণত বাদুড়ের কামড়ানো ফল খেলে বা আক্রান্ত প্রাণীর সংস্পর্শে এলে মানুষ এই ভাইরাসে সংক্রমিত হয়। ভারতে ২০০১ সালে প্রথম পশ্চিমবঙ্গে এই ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছিল। পরবর্তীতে কেরালাতেও কয়েকবার এর প্রকোপ দেখা যায়।

সতর্ক থাকাই এখন প্রধান কাজ

যেহেতু এই রোগের কোনো চিকিৎসা নেই, তাই সচেতনতাই একমাত্র পথ। বিশেষ করে খোলা জায়গায় থাকা বা পাখির খাওয়া ফল খাওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে। এছাড়া নিয়মিত সাবান দিয়ে হাত ধোয়ার অভ্যাস করা এবং অসুস্থ ব্যক্তির সংস্পর্শে আসার সময় মাস্ক ও গ্লাভস ব্যবহার করা জরুরি। আরো জানতে ভিজিট করুন।

Leave a Comment