বিশ্বকাপের মহারণের আগে নিজেদের চেনা মাঠে অস্ট্রেলিয়াকে রীতিমতো শাসন করল পাকিস্তান। লাহোরের গাদ্দাফি স্টেডিয়ামে সিরিজের প্রথম টি-টোয়েন্টি ম্যাচে অজিদের ২২ রানে হারিয়েছে স্বাগতিকরা। পাকিস্তানের এই জয়ের নায়ক তরুণ তুর্কি সাইম আইয়ুব। ব্যাট হাতে ঝোড়ো ইনিংস খেলার পর বল হাতেও অজি টপ অর্ডার গুঁড়িয়ে দিয়েছেন এই অলরাউন্ডার।
মন্থর উইকেটে টস জিতে আগে ব্যাট করতে নেমে পাকিস্তান নির্ধারিত ২০ ওভারে ৮ উইকেটে ১৬৮ রান সংগ্রহ করে। জবাবে ব্যাট করতে নেমে পাকিস্তানি স্পিনারদের বিষাক্ত ঘূর্ণিতে দিশেহারা হয়ে পড়ে অস্ট্রেলিয়া। শেষ পর্যন্ত ১৪৬ রানেই থমকে যায় অজিদের ইনিংস। এই জয়ের ফলে তিন ম্যাচের সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেল পাকিস্তান।
সাইমের ঝোড়ো শুরু ও পাকিস্তানের চ্যালেঞ্জিং পুঁজি
লাহোরের উইকেটে ব্যাটিং করা মোটেও সহজ ছিল না। ইনিংসের প্রথম বলেই শাহিবজাদা ফারহানকে হারিয়ে চাপে পড়েছিল পাকিস্তান। তবে সেই চাপকে তুড়ি মেরে উড়িয়ে দেন সাইম আইয়ুব। অধিনায়ক সালমান আলি আঘাকে সাথে নিয়ে মাত্র ২২ বলে ৪০ রানের এক টর্নেডো ইনিংস খেলেন তিনি। ৩টি চার ও ২টি ছক্কায় সাজানো এই ইনিংসটিই পাকিস্তানকে বড় সংগ্রহের ভিত গড়ে দেয়।
সাইম আউট হওয়ার পর সালমান আলি আঘা খেলেন ৩৯ রানের ধৈর্যশীল ইনিংস। এরপর বাবর আজমের ২০ বলে ২৪ রান এবং শেষ দিকে মোহাম্মদ নেওয়াজ ও উসমান খানের ছোট ছোট অবদানে ১৬৮ রানের লড়াকু পুঁজি পায় পাকিস্তান। অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে অ্যাডাম জাম্পা দুর্দান্ত বোলিং করলেও স্বাগতিকদের দেড়শ পার হওয়া আটকাতে পারেননি।
স্পিন জালে কুপোকাত অস্ট্রেলিয়া
১৬৯ রানের লক্ষ্যে ব্যাটিং করতে নেমে শুরুতেই সাইম আইয়ুবের স্পিন ভেলকির মুখে পড়ে অস্ট্রেলিয়া। দ্বিতীয় ওভারেই ম্যাথু শর্টকে বোল্ড করে সাজঘরে পাঠান সাইম। এরপর ভয়ঙ্কর হয়ে ওঠা ট্রেভিস হেডকেও নিজের শিকারে পরিণত করেন তিনি। ১৩ বলে ২৩ রান করে হেড যখন সাজঘরে ফেরেন, তখনই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেয় পাকিস্তান।
মাঝপথে ক্যামেরন গ্রিন ৩১ বলে ৩৬ রান করে লড়াই করার চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু আবরার আহমেদ, শাদাব খান ও মোহাম্মদ নেওয়াজদের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ের সামনে অজি ব্যাটাররা ডানা মেলতে পারেননি। নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারিয়ে এক পর্যায়ে ১১২ রানেই ৮ উইকেট হারিয়ে ফেলে অস্ট্রেলিয়া। শেষ দিকে জ্যাভিয়ের বার্টলেটের ৩৪ রান হারের ব্যবধান কমালেও জয়ের জন্য তা যথেষ্ট ছিল না।
আরো পড়ুন:-জোকোভিচ কি পারবেন সিনারকে থামাতে? বরিস বেকারের বড় পূর্বাভাস!
বিশ্বকাপের আগে পাকিস্তানের ‘শ্রীলঙ্কা’ মাস্টারপ্ল্যান
আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সবগুলো ম্যাচ শ্রীলঙ্কায় খেলবে পাকিস্তান। দ্বীপরাষ্ট্রের মন্থর ও স্পিন বান্ধব উইকেটের কথা মাথায় রেখেই লাহোরে এমন উইকেট তৈরি করেছিল পিসিবি। পাকিস্তানের এই পরিকল্পনা শতভাগ সফল হয়েছে বলা যায়। অজি ব্যাটারদের স্পিন দুর্বলতা কাজে লাগিয়ে বিশ্বকাপের আগে নিজেদের শক্তির জানান দিল বাবর আজমের দল।
উইকেট মন্থর হওয়ায় পাকিস্তানি স্পিনাররা দারুণ সুবিধা পেয়েছেন। বিশেষ করে সাইম আইয়ুব যেভাবে বল হাতে নতুন বলে ব্রেক-থ্রু এনে দিয়েছেন, তা দলের জন্য বড় স্বস্তির খবর। বিশ্বকাপের প্রস্তুতির সিরিজে এমন দাপুটে জয় নিশ্চিতভাবেই পাকিস্তানের আত্মবিশ্বাস বহুগুণ বাড়িয়ে দেবে। আরো জানতে ভিজিট করুন।