মক্কা-মদিনায় এবারও ১০ রাকাত তারাবি: সৌদি আরবের বড় ঘোষণা! - Trend Bd

মক্কা-মদিনায় এবারও ১০ রাকাত তারাবি: সৌদি আরবের বড় ঘোষণা!

আসন্ন রমজানকে সামনে রেখে মক্কার মসজিদুল হারাম এবং মদিনার মসজিদে নববিতে তারাবিহ নামাজ নিয়ে বড় ঘোষণা দিয়েছে সৌদি আরব কর্তৃপক্ষ। পবিত্র দুই মসজিদের রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে থাকা জেনারেল প্রেসিডেন্সি বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।

নতুন এই সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, এ বছরও দুই পবিত্র মসজিদে তারাবিহ নামাজ ১০ রাকাতই বহাল থাকছে। এরপর বরাবরের মতো ৩ রাকাত বিতর নামাজ আদায় করা হবে। ফলে দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর যারা এবার উমরাহ বা ইবাদতের জন্য মক্কা-মদিনায় যাওয়ার পরিকল্পনা করছেন, তাদের জন্য বিষয়টি বেশ গুরুত্বপূর্ণ।

তারাবিহ নামাজের নতুন কাঠামো ও পদ্ধতি

সৌদি আরবের জেনারেল প্রেসিডেন্সি ফর দ্য অ্যাফেয়ার্স অব দ্য টু হোলি মস্কস জানিয়েছে, আসন্ন পবিত্র রমজান মাসে হারামাইন শরিফাইনে তারাবিহ নামাজের কাঠামো আগের কয়েক বছরের মতোই রাখা হচ্ছে। এর ফলে মক্কা ও মদিনার উভয় মসজিদে প্রতিরাতে ১০ রাকাত তারাবিহ আদায় করা হবে।

প্রতি দুই রাকাত অন্তর অন্তর সালাম ফিরানো হবে। অর্থাৎ ৫ বারে ১০ রাকাত তারাবিহ সম্পন্ন হবে। এরপর ৩ রাকাত বিতর নামাজ অনুষ্ঠিত হবে। বিতরের মাধ্যমে শেষ সালামটি ফিরানো হবে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সুন্নি মুসলমানদের মধ্যে প্রচলিত এই পদ্ধতিটি বেশ কয়েক বছর ধরেই এখানে সফলভাবে অনুসরণ করা হচ্ছে।

কেন ১০ রাকাত তারাবিহ?

অনেকেই হয়তো মনে করতে পারেন, পূর্বে তো হারামাইন শরিফাইনে ২০ রাকাত তারাবিহ নামাজ পড়ার দীর্ঘ ঐতিহ্য ছিল। তবে সেই নিয়মে বড় পরিবর্তন আসে ২০২০ সালে। বিশ্বব্যাপী করোনা মহামারির ভয়াবহতার সময় ভিড় কমানো এবং স্বাস্থ্যঝুঁকি এড়াতে রাকাত সংখ্যা কমিয়ে ১০ করা হয়েছিল।

মহামারি শেষ হয়ে গেলেও সৌদি কর্তৃপক্ষ ১০ রাকাতের এই পদ্ধতিটিকেই স্থায়ী হিসেবে গ্রহণ করার পথে এগোচ্ছে। এর প্রধান কারণ হলো রমজানে উপচে পড়া ভিড় সামলানো এবং বয়স্ক ও দুর্বল মুসল্লিদের জন্য ইবাদত সহজ করা। রাকাত সংখ্যা কম হওয়ায় মুসল্লিরা দ্রুত নামাজ শেষ করে অন্য আমলের সুযোগ পান এবং ভিড় ব্যবস্থাপনায় সুবিধা হয়।

আরো পড়ুন:-শবে বরাতে বিশেষ নামাজ ও রোজার বিধান: সহিহ হাদিস কী বলে?

মক্কা ও মদিনায় উপচে পড়া ভিড় সামলানোর প্রস্তুতি

রমজান মাসে মক্কা ও মদিনায় প্রতিদিন লাখো মানুষের সমাগম ঘটে। বিশেষ করে শেষ ১০ দিনে ভিড় কয়েক গুণ বেড়ে যায়। এই বিশাল জনসমুদ্র সামলানো সৌদি কর্তৃপক্ষের জন্য অনেক বড় চ্যালেঞ্জ। তারাবিহ নামাজের রাকাত সংখ্যা নির্দিষ্ট রাখা এই শৃঙ্খলা বজায় রাখতে বড় ভূমিকা রাখে।

কর্তৃপক্ষ মনে করছে, নামাজের সময় কমিয়ে আনলে মসজিদের ভেতরের বাতাস এবং তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ সহজ হয়। এছাড়া নামাজের পর কাবার চারপাশে তাওয়াফ এবং মসজিদে নববিতে জিয়ারতের জন্য বেশি সময় পাওয়া যায়। এতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা বজায় রাখাও অনেক সহজ হয়ে যায়।

ইমামদের তালিকা ও সময়সূচি

সাধারণত রমজান শুরু হওয়ার কয়েকদিন আগে তারাবিহ এবং তাহাজ্জুদ নামাজের ইমামদের তালিকা প্রকাশ করা হয়। এবারও রমজান শুরুর ঠিক আগ মুহূর্তে ইমামদের সুনির্দিষ্ট তালিকা এবং নামাজের সঠিক সময়সূচি ঘোষণা করা হবে।

বিশ্বের সেরা কারিদের সুমধুর কণ্ঠে কুরআন তেলাওয়াত শোনার জন্য কোটি কোটি মানুষ অপেক্ষায় থাকেন। মসজিদুল হারামের বর্তমান প্রধান শায়খ ড. আব্দুর রহমান আল সুদাইসের তত্ত্বাবধানে এই পুরো প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন হবে। ইমামরা নির্ধারিত পারায় তেলাওয়াত শেষ করবেন যাতে পুরো রমজানে খতম সম্পন্ন হয়।

আরো পড়ুন:-বেতন বন্ধ ও আদালত অবমাননা: ফেঁসে যাচ্ছেন আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার

বিশ্বব্যাপী সরাসরি সম্প্রচার

হারামাইন শরিফাইনের তারাবিহ নামাজ কেবল সেখানে উপস্থিত মুসল্লিদের জন্যই নয়, বরং সারা বিশ্বের মুসলমানদের জন্য আবেগের বিষয়। প্রতি বছরের মতো এবারও এই নামাজ বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে সরাসরি স্যাটেলাইট টেলিভিশন এবং ইন্টারনেটের মাধ্যমে সম্প্রচার করা হবে।

এর ফলে ঘরে বসেই বিশ্বের যেকোনো প্রান্ত থেকে মক্কা-মদিনার ইবাদতের দৃশ্য দেখা যাবে। প্রযুক্তির কল্যাণে উচ্চমানের ভিডিও এবং অডিওর মাধ্যমে মুসল্লিরা দূর-দূরান্ত থেকেও আধ্যাত্মিক অংশগ্রহণের অনুভূতি লাভ করবেন। মক্কা ও মদিনার ইউটিউব চ্যানেলেও এই দৃশ্য সরাসরি দেখার সুযোগ থাকবে।

উমরাহ ও ইবাদতকারীদের জন্য পরামর্শ

যারা এবার সশরীরে মক্কা বা মদিনায় উপস্থিত থাকবেন, তাদের জন্য কর্তৃপক্ষ কিছু নির্দেশনা দিয়েছে। মসজিদে প্রবেশের জন্য নির্দিষ্ট অ্যাপ ব্যবহার এবং ভিড় এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া ১০ রাকাত তারাবিহ নামাজের পর যাতে দ্রুত বের হওয়া বা জায়গা ছেড়ে দেওয়ার প্রয়োজন হয়, সেদিকেও খেয়াল রাখতে বলা হয়েছে।

বিশেষ করে রমজানের শেষ দশকে ‘এতেকাফ’ করতে আসা মুসল্লিদের জন্য আলাদা ব্যবস্থার কথা ভাবছে কর্তৃপক্ষ। তারাবিহ নামাজের এই সংক্ষিপ্ত রূপ এতেকাফকারীদের দীর্ঘ সময় ব্যক্তিগত ইবাদতে মগ্ন থাকতে সাহায্য করবে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করেন।

আরো পড়ুন:-বন্ধ হচ্ছে ৬ আর্থিক প্রতিষ্ঠান: টাকা ফেরত পাবেন আমানতকারীরা

ধর্মীয় ঐতিহ্য বনাম আধুনিক ব্যবস্থাপনা

মসজিদুল হারাম ও মসজিদে নববিতে এক সময় ২০ রাকাত তারাবিহ পড়ার যে রীতি ছিল, তার প্রতি অনেকের আবেগ জড়িয়ে আছে। তবে সময়ের চাহিদায় এবং ব্যবস্থাপনা সহজ করতে এই পরিবর্তনকে অধিকাংশ আলেম ও মুসল্লি ইতিবাচকভাবে দেখছেন।

ইসলামিক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নামাজের গুণগত মান বজায় রাখা এবং মানুষের দুর্ভোগ কমানোই শরীয়তের অন্যতম উদ্দেশ্য। ১০ রাকাত তারাবিহতে দীর্ঘ তেলাওয়াতের মাধ্যমে কোরআন খতমের গুরুত্ব বজায় রাখা হচ্ছে। ফলে এটি ধর্মীয় এবং প্রশাসনিক—উভয় দিক থেকেই একটি ভারসাম্যপূর্ণ সিদ্ধান্ত। আরো জানতে ভিজিট করুন।

Leave a Comment