রাজধানীর ফিলিং স্টেশন: লম্বা লাইন কমলেও কাটেনি তেলের দুশ্চিন্তা
রাজধানীর ফিলিং স্টেশনগুলোতে আগের সেই অসহনীয় দীর্ঘ সারির দৃশ্য এখন অনেকটা কম। তবে দীর্ঘ লাইন কমলেও সাধারণ মানুষের মন থেকে অস্বস্তি পুরোপুরি কাটেনি। বুধবার রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, বেশিরভাগ পাম্পে ভিড় আগের তুলনায় সহনীয় পর্যায়ে রয়েছে। কিন্তু বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে তেলের প্রাপ্যতা—অনেক পাম্পে তেল আসার কিছুক্ষণের মধ্যেই তা দ্রুত শেষ হয়ে যাচ্ছে।
পাম্প মালিকদের দেওয়া তথ্যমতে, বর্তমানে তেলের সরবরাহ আগের চেয়ে কিছুটা বৃদ্ধি পেয়েছে। কিন্তু বাজারের প্রকৃত চাহিদার সাথে এই সরবরাহের এখনো বড় ধরনের ফারাক রয়ে গেছে। সরকার তেল বিক্রির ক্ষেত্রে রেশনিং বা নির্দিষ্ট সীমা তুলে নেওয়ায় গ্রাহকরা এখন নিজের প্রয়োজনমতো তেল কিনতে পারছেন। এই সুযোগে ভবিষ্যতে আবার সংকটের আশঙ্কায় অনেকেই একসাথে অনেক বেশি তেল কিনে ঘরে মজুত করার চেষ্টা করছেন। গ্রাহকদের এই অতিরিক্ত তেল সংগ্রহের প্রবণতাই মূলত বাজারের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করছে।
ভোক্তাদের একটি অংশ রেশনিং ব্যবস্থা না থাকায় স্বস্তি প্রকাশ করেছেন। এখন আর দীর্ঘক্ষণ লাইনে দাঁড়িয়ে থেকে অল্প তেল নিয়ে ফিরতে হচ্ছে না, বরং অনেকেই চাহিদামতো ‘ফুল ট্যাংক’ তেল নিতে পারছেন। তবে এই স্বস্তির মাঝেও এক ধরনের আতঙ্ক বিরাজ করছে। পাম্পগুলোতে তেলের মজুত দ্রুত ফুরিয়ে যাওয়ায় সাধারণ মানুষ এখনো শঙ্কিত যে, সরবরাহ ব্যবস্থা কি সত্যিই স্বাভাবিক হবে নাকি আবার সংকটের মুখে পড়বে। অর্থাৎ, পাম্পের সামনে দৃশ্যমান সারি কমলেও নিরবচ্ছিন্ন তেলের নিশ্চয়তা না পাওয়া পর্যন্ত জনমনে পুরোপুরি স্বস্তি ফিরছে না।