আইফোনের আয়ের বিশ্ব রেকর্ড! ৮৫ বিলিয়ন ডলার ছাড়াল আয় - Trend Bd

আইফোনের আয়ের বিশ্ব রেকর্ড! ৮৫ বিলিয়ন ডলার ছাড়াল আয়

আইফোনের অবিশ্বাস্য রেকর্ড! ১ প্রান্তিকে আয় ৮৫ বিলিয়ন ডলার, অ্যাপলের পরবর্তী লক্ষ্য কী?

প্রযুক্তি বিশ্বে অ্যাপল মানেই নতুন চমক। এবার সেই চমক আয়ের অংকেও প্রতিফলিত হয়েছে। ২০২৬ অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে আইফোন বিক্রি করে আয়ের সব রেকর্ড ভেঙে দিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। মাত্র তিন মাসে আইফোন থেকে আয় হয়েছে ৮৫ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলারের বেশি। যা আইফোনের ইতিহাসে এক প্রান্তিকে সর্বোচ্চ আয়ের নতুন মাইলফলক।

বিশ্বজুড়ে আইফোনের আকাশচুম্বী চাহিদার কারণে এই সাফল্য এসেছে বলে জানিয়েছেন অ্যাপলের সিইও টিম কুক। তিনি বিনিয়োগকারীদের জানান, বর্তমানের আইফোন লাইনআপটি তাদের ইতিহাসের সবচেয়ে শক্তিশালী। আইফোন ১৭ সিরিজের প্রতি মানুষের বাড়তি আগ্রহ কোম্পানিটিকে এই অভাবনীয় উচ্চতায় নিয়ে গেছে।

রেকর্ড আয়ের নেপথ্যে আইফোন ১৭ সিরিজ

আইফোনের এবারের সাফল্যের প্রধান কারিগর হলো আইফোন ১৭ সিরিজ। অ্যাপল এবার তাদের কৌশল কিছুটা বদলেছে। আগে যেসব ফিচার কেবল ‘প্রো’ মডেলগুলোতে থাকতো, সেগুলো এবার বেস মডেলেই দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে অলওয়েজ-অন ডিসপ্লে এবং হাই রিফ্রেশ রেটের স্ক্রিন।

সাধারণ ব্যবহারকারীরা সাশ্রয়ী মূল্যে প্রিমিয়াম ফিচার পাওয়ায় আইফোন ১৭-এর বিক্রি ব্যাপকভাবে বেড়েছে। তবে এই বিশাল চাহিদার কারণে সরবরাহে কিছুটা টান পড়েছে। টিম কুক স্বীকার করেছেন যে, চিপ তৈরির উন্নত প্রযুক্তির অভাবে আইফোন ১৭-এর জোগান দিতে হিমশিম খাচ্ছে অ্যাপল।

আরো পড়ুন:- নিষিদ্ধ হচ্ছে না টিকটক! যুক্তরাষ্ট্রে নতুন মালিকানায় বাজিমাত।

মোট আয়েও বিশাল উল্লম্ফন

কেবল আইফোন নয়, অ্যাপলের সামগ্রিক ব্যবসায়িক চিত্রও বেশ আশাব্যঞ্জক। সব মিলিয়ে এই প্রান্তিকে কোম্পানির মোট আয় দাঁড়িয়েছে ১৪৩ দশমিক ৮ বিলিয়ন ডলার। যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ১৬ শতাংশ বেশি। বিশ্ববাজারের অস্থিরতার মধ্যেও এই প্রবৃদ্ধি বিনিয়োগকারীদের আশ্বস্ত করেছে।

আইফোনের পাশাপাশি অ্যাপলের সেবাখাত বা ‘সার্ভিস রেভিনিউ’ ব্যাপকভাবে বেড়েছে। অ্যাপল মিউজিক, আইক্লাউড এবং অ্যাপল টিভি প্লাসের মতো সাবস্ক্রিপশন সেবা থেকে আয় বেড়েছে ১৪ শতাংশ। তবে ম্যাক কম্পিউটার এবং ঘড়ি বা ইয়ারবাডসের মতো ওয়্যারেবল পণ্যের আয়ে কিছুটা ভাটা লক্ষ্য করা গেছে।

সিরি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার নতুন যুগ

অ্যাপল এখন তাদের পরবর্তী বড় যুদ্ধ লড়ছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা AI নিয়ে। সিরিকে আরও স্মার্ট করতে কাজ করছে তারা। এই লক্ষ্যে গুগল এবং অ্যাপলের মধ্যে এক ঐতিহাসিক অংশীদারিত্ব হয়েছে। গুগলের ‘জেমিনি এআই’ মডেলের বিশেষ সংস্করণ ব্যবহার করা হবে আইফোনের সিরিতে।

আগামী মাসগুলোতে সিরির একটি উন্নত সংস্করণ গ্রাহকদের হাতে পৌঁছাবে। এটি কেবল প্রশ্ন উত্তর নয়, বরং একজন স্মার্ট সহকারীর মতো জটিল সব কাজ সম্পন্ন করতে পারবে। এই এআই ইন্টিগ্রেশন অ্যাপলের জন্য নতুন আয়ের পথ খুলে দেবে বলে মনে করছেন বাজার বিশ্লেষকরা।

আরো পড়ুন:-বাণিজ্য মেলায় ৩৯৩ কোটির রেকর্ড বিক্রি: পর্দা নামল আসরের

২ বিলিয়ন ডলারে ব্রিটিশ স্টার্টআপ অধিগ্রহণ

প্রযুক্তি বাজারে আধিপত্য বজায় রাখতে অ্যাপল সম্প্রতি ‘কিউ.এআই’ (Q.ai) নামক একটি ব্রিটিশ স্টার্টআপ কেনার ঘোষণা দিয়েছে। ফিন্যান্সিয়াল টাইমসের তথ্যমতে, প্রায় ২ বিলিয়ন ডলারের বিনিময়ে এই চুক্তি হতে যাচ্ছে। এই স্টার্টআপটি মূলত এমন প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করে যা সেন্সরের মাধ্যমে মানুষের মুখের সূক্ষ্ম নড়াচড়া বুঝতে পারে।

ভবিষ্যতের আইফোন, অ্যাপল ওয়াচ বা স্মার্ট চশমায় এই প্রযুক্তি ব্যবহার করা হতে পারে। তখন ব্যবহারকারীকে আর কথা বলতে বা টাচ করতে হবে না, কেবল মুখভঙ্গির মাধ্যমে ডিভাইসকে নির্দেশ দেওয়া যাবে। এটি অ্যাপলের ভবিষ্যৎ ডিভাইসে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনবে।

সিরি হতে যাচ্ছে এআই চ্যাটবট

অ্যাপলের দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা হলো সিরিকে পুরোপুরি একটি এআই চ্যাটবটে রূপান্তর করা। এটি আইফোন এবং ম্যাক ডিভাইসের গভীরে এমনভাবে যুক্ত থাকবে যেন ব্যবহারকারীর ব্যক্তিগত ডাটা সুরক্ষিত রেখেই তাকে সেরা সেবা দিতে পারে। শোনা যাচ্ছে, সিরির জন্য আলাদা এআই সার্চ টুলও তৈরি হচ্ছে।

যদি এটি সফল হয়, তবে সার্চ ইঞ্জিনের বাজারে গুগলকে বড় চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলতে পারে অ্যাপল। যদিও আইফোন ‘এয়ার’ মডেলের বিক্রি প্রত্যাশার চেয়ে কিছুটা কম হয়েছে, তবুও এআই-ভিত্তিক নতুন প্রযুক্তির আগমনে অ্যাপলের শেয়ার বাজার আরও ঊর্ধ্বমুখী হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

আরো পড়ুন:-ইনস্টাগ্রামে বড় চমক: অন্যের ক্লোজ ফ্রেন্ডস লিস্ট থেকে বের হবেন যেভাবে!

সরবরাহ শৃঙ্খলে নতুন চ্যালেঞ্জ

বিশাল আয়ের মাঝেও টিম কুকের কপালে কিছুটা চিন্তার ভাঁজ রয়েছে সরবরাহ নিয়ে। আইফোন ১৭-এর উচ্চ চাহিদা মেটাতে চিপ তৈরির কাঁচামাল এবং উন্নত সেমিকন্ডাক্টরের সংকট দেখা দিয়েছে। টিএসএমসি-র মতো প্রতিষ্ঠানের সাথে কাজ করেও চাহিদা অনুযায়ী পণ্য পাঠানো কঠিন হয়ে পড়ছে।

টিম কুক জানান, তারা সরবরাহ ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করতে কাজ করছেন। তবে আপাতত উচ্চ চাহিদার কারণে ডেলিভারিতে কিছুটা দেরি হতে পারে। গ্রাহকদের এই ধৈর্য ধরার অনুরোধ জানিয়েছে অ্যাপল কর্তৃপক্ষ। আরো জানতে ভিজিট করুন।

Leave a Comment