নিষিদ্ধ হচ্ছে না টিকটক! যুক্তরাষ্ট্রে নতুন মালিকানায় বাজিমাত। - Trend Bd

নিষিদ্ধ হচ্ছে না টিকটক! যুক্তরাষ্ট্রে নতুন মালিকানায় বাজিমাত।

আপনার দেওয়া তথ্যের ওপর ভিত্তি করে আমি বিস্তারিত এবং অপ্টিমাইজড নিউজ আর্টিকেলটি তৈরি করে দিচ্ছি।

যুক্তরাষ্ট্রে নিষিদ্ধ হচ্ছে না টিকটক: শেষ মুহূর্তে হলো ঐতিহাসিক চুক্তি, নতুন মালিকানায় কারা?

যুক্তরাষ্ট্রে টিকটকের ভবিষ্যৎ নিয়ে গত কয়েক বছরের টানটান উত্তেজনার অবসান ঘটলো। বন্ধ হয়ে যাওয়ার ঠিক আগমুহূর্তে এক নাটকীয় চুক্তির মাধ্যমে রক্ষা পেল জনপ্রিয় এই সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মটি। এখন থেকে যুক্তরাষ্ট্রে টিকটকের সমস্ত কার্যক্রম পরিচালিত হবে একটি সম্পূর্ণ নতুন আমেরিকান যৌথ উদ্যোগের মাধ্যমে।

চীনা কোম্পানি বাইটড্যান্সের মালিকানা থেকে আলাদা হয়ে এই নতুন কাঠামোটি তৈরি করা হয়েছে। মূলত মার্কিন ব্যবহারকারীদের ডেটা সুরক্ষা এবং জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই এই কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। হোয়াইট হাউস এবং বাইটড্যান্সের মধ্যে দীর্ঘ আলোচনার পর এই সমাধান এলো।

ট্রাম্পের ডেডলাইন ও সমঝোতা

সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প টিকটককে যুক্তরাষ্ট্রে ব্যবসা চালিয়ে যাওয়ার জন্য ২৩ জানুয়ারি পর্যন্ত সময় বেঁধে দিয়েছিলেন। তার স্পষ্ট শর্ত ছিল—হয় মালিকানা পরিবর্তন করতে হবে, না হয় নিষিদ্ধ হতে হবে। সেই সময়সীমা শেষ হওয়ার মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগে এই চুক্তি চূড়ান্ত হয়।

চুক্তি সম্পন্ন হওয়ার পর ট্রাম্প তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সন্তোষ প্রকাশ করেন। তিনি এই প্রক্রিয়ায় সহযোগিতার জন্য চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংকেও ধন্যবাদ জানিয়েছেন। ট্রাম্পের মতে, এই চুক্তিটি না হলে যুক্তরাষ্ট্রে টিকটক চিরতরে বন্ধ হয়ে যেত।

আরো পড়ুন:- মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকে নিয়োগ ২০২৬: এআই বিভাগে বড় সুযোগ!

কারা থাকছেন নতুন নেতৃত্বে?

নতুন এই যৌথ উদ্যোগের নাম এখনো ব্র্যান্ড হিসেবে টিকটকই থাকছে, তবে এর অভ্যন্তরীণ কাঠামো বদলে গেছে। প্রতিষ্ঠানের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (CEO) হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন অ্যাডাম প্রেসার। তিনি এর আগে যুক্তরাষ্ট্রে টিকটকের ডেটা সুরক্ষা কার্যক্রমের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।

নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করতে প্রধান নিরাপত্তা কর্মকর্তা (CSO) হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ উইল ফ্যারেলকে। এছাড়া পরিচালনা পর্ষদে থাকছেন ওরাকলের জ্যেষ্ঠ নির্বাহী কেনেথ গ্লুক এবং টিকটকের বর্তমান গ্লোবাল সিইও শৌ চিউ।

মালিকানার ভাগাভাগি ও নিয়ন্ত্রণ

নতুন এই প্রতিষ্ঠানের সিংহভাগ মালিকানা এখন মার্কিন কোম্পানিগুলোর হাতে। প্রায় ৫০ শতাংশ শেয়ারের মালিক ওরাকল, সিলভার লেক এবং এমজিএক্স-এর মতো মার্কিন বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান। বাকি অংশের মধ্যে ১৯.৯ শতাংশ থাকছে বাইটড্যান্সের কাছে এবং ৩০ শতাংশ থাকছে বাইটড্যান্স সংশ্লিষ্ট কিছু বিদেশি বিনিয়োগকারীর হাতে।

এই চুক্তির ফলে টিকটকের অ্যালগরিদমের নিয়ন্ত্রণও এখন নতুন বোর্ডের হাতে চলে যাবে। তবে অ্যালগরিদমটি প্রাথমিকভাবে বাইটড্যান্সের কাছ থেকে লাইসেন্স হিসেবে নেওয়া হবে এবং পরবর্তীতে মার্কিন প্রকৌশলীরা এটি পর্যালোচনা ও পুনরায় প্রশিক্ষণ দেবেন।

ব্যবহারকারীদের ওপর প্রভাব কী?

যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় ২০ কোটি টিকটক ব্যবহারকারীর জন্য এটি বড় স্বস্তির খবর। ব্যবহারকারীরা আগের মতোই অ্যাপটি ব্যবহার করতে পারবেন। তাদের ভিডিও দেখা, আপলোড করা বা আয়ের উৎসে কোনো নেতিবাচক প্রভাব পড়বে না। তবে মূল পরিবর্তনটি আসবে পর্দার আড়ালে।

এখন থেকে মার্কিন ব্যবহারকারীদের সমস্ত তথ্য ওরাকলের ক্লাউড সার্ভারে জমা থাকবে। ফলে চীনা সরকারের কাছে ডেটা চলে যাওয়ার যে আশঙ্কা ছিল, তা পুরোপুরি দূর হবে বলে দাবি করছে কর্তৃপক্ষ। কন্টেন্ট মডারেশন বা ভিডিও নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রেও এখন আমেরিকান নীতিমালা অনুসরণ করা হবে।

আরো পড়ুন:- সৌদি আরবের দিরিয়াহ: রিয়াদ থেকে কাছেই এক অনন্য গন্তব্য

বিতর্ক কি আসলেই শেষ?

চুক্তি হলেও সমালোচনা থেমে নেই। ডেমোক্র্যাট সিনেটর এড মার্কি এবং আরও কয়েকজন নীতিনির্ধারক প্রশ্ন তুলেছেন অ্যালগরিদমের স্বাধীনতা নিয়ে। তাদের মতে, যেহেতু মূল কোডটি এখনো চীনা উৎসের ওপর নির্ভরশীল, তাই জাতীয় নিরাপত্তা পুরোপুরি নিশ্চিত হয়েছে কিনা তা নিয়ে সন্দেহ থেকেই যায়।

বাইটড্যান্স অবশ্য বৈশ্বিক পর্যায়ে তাদের বিজ্ঞাপন এবং ই-কমার্স ব্যবসা আগের মতোই চালিয়ে যাবে। যুক্তরাষ্ট্র ছাড়া বিশ্বের অন্যান্য দেশে টিকটকের মালিকানায় কোনো পরিবর্তন আসছে না। আপাতত কূটনৈতিক এবং বাণিজ্যিক লড়াইয়ের পর টিকটক একটি বড় জয় পেল বলা যায়। আরো জানতে ভিজিট করুন।

Leave a Comment