ইউরোপে কড়াকড়ি! এক দেশে ফিঙ্গারপ্রিন্ট দিলে অন্য দেশে আবেদন বাতিল - Trend Bd

ইউরোপে কড়াকড়ি! এক দেশে ফিঙ্গারপ্রিন্ট দিলে অন্য দেশে আবেদন বাতিল

ইউরোপ যাওয়ার স্বপ্ন কি শেষ? এক দেশে আঙুলের ছাপ দিলেই কপাল পুড়বে অভিবাসীদের!

ইউরোপের দরজা বন্ধ হচ্ছে। ইইউ নেতারা তাদের অভিবাসন ও আশ্রয়নীতিতে এমন এক কড়াকড়ি এনেছেন যা পুরো বিশ্বের নজর কেড়েছে। এখন থেকে ডাবলিন রেগুলেশনের নতুন নিয়ম অনুযায়ী, এক দেশে নিবন্ধন করলে অন্য দেশে আবেদন করার আর কোনো সুযোগ থাকবে না। এটি মূলত অবৈধভাবে এক দেশ থেকে অন্য দেশে ছড়িয়ে পড়া ঠেকাতে করা হয়েছে। সাধারণ মানুষের জন্য এটি একটি বিনা মেঘে বজ্রপাতের মতো সংবাদ।

নিবন্ধনের ফাঁদে পড়ার ভয়। আপনি যদি ইইউভুক্ত যেকোনো দেশে একবার আঙুলের ছাপ বা ফিঙ্গারপ্রিন্ট দিয়ে দেন, তবে আপনার ভাগ্য সেখানেই নির্ধারিত হয়ে যাবে। সেন্ট্রাল ডাটাবেজ বা ইউরোড্যাক-এ তথ্য একবার উঠে গেলে অন্য কোনো দেশে আশ্রয়ের পথ চিরতরে বন্ধ। যদি কেউ লুকিয়ে অন্য দেশে আবেদন করতে যায়, তবে তাকে ঘাড় ধরে আগের দেশেই ফেরত পাঠানো হবে। এটি যেন এক বিশাল অদৃশ্য দেয়াল যা টপকানো প্রায় অসম্ভব।

সেকেন্ডারি মুভমেন্ট ঠেকানোর কঠোর দাওয়াই

চাপ কমাতে এই সিদ্ধান্ত। ইইউ নেতাদের দাবি, তথাকথিত ‘সেকেন্ডারি মুভমেন্ট’ বা এক দেশ থেকে অন্য দেশে অবৈধ স্থানান্তর বন্ধ করাই তাদের মূল লক্ষ্য। তারা মনে করেন, একই ব্যক্তি একাধিক দেশে আবেদন করায় পুরো সিস্টেমের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হচ্ছে। এতে করে সত্যিকারের আশ্রয়প্রার্থীরা অনেক সময় সুযোগ সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। দায়িত্ব বণ্টন আরও পরিষ্কার করতেই এই নতুন আইনের অবতারণা।

আশ্রয় ব্যবস্থায় ফিরবে কি স্বচ্ছতা? ইইউ কমিশনের কর্মকর্তারা বলছেন, এই সংস্কারের ফলে আশ্রয়প্রার্থীদের গতিবিধি নিয়ন্ত্রণ করা অনেক সহজ হয়ে যাবে। তবে বিশ্লেষকরা বলছেন এর উল্টো কথা, বিশেষ করে গ্রিস বা ইতালির মতো সীমান্ত দেশগুলোর অবস্থা শোচনীয় হবে। কারণ অধিকাংশ মানুষ সমুদ্রপথে প্রথমে এসব দেশেই প্রবেশ করে এবং সেখানেই ফিঙ্গারপ্রিন্ট দিতে বাধ্য হয়। ফলে সীমান্ত দেশগুলোর ওপর চাপ বাড়বে বহুগুণ।

আরো পড়ুন:-লন্ডনে সুনামগঞ্জ জেলা সমিতির স্মরণসভা: আবেগে ভাসল প্রবাসী

সীমান্তবর্তী দেশ ও মানবিক বিপর্যয়ের শঙ্কা

সীমান্তে তৈরি হবে বড় জট। ইতালি, গ্রিস, স্পেন কিংবা মাল্টার মতো দেশগুলো এই নতুন নিয়মের কারণে সবচেয়ে বেশি লজিস্টিক ও আর্থিক সংকটে পড়বে। যেহেতু প্রথম প্রবেশকারী দেশেই থাকতে হবে, তাই এসব দেশের ওপর জনস্রোত সামলানোর দায় চাপবে। যদিও ইইউ নেতারা লজিস্টিক সাপোর্ট বাড়ানোর আশ্বাস দিয়েছেন, বাস্তবে তা কতটা কার্যকর হবে তা নিয়ে সন্দেহ আছে। এটি একটি জটিল প্রশাসনিক মারপ্যাঁচ ছাড়া আর কিছুই নয়।

বিপন্ন হচ্ছে কি মানবাধিকার? আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনগুলো এই কঠোর বিধিনিষেধের খবরে অত্যন্ত উদ্বেগ প্রকাশ করেছে এবং তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে। তাদের মতে, জোরপূর্বক প্রথম দেশে ফেরত পাঠানো অনেক ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন হতে পারে। অনেক প্রথম প্রবেশকারী দেশে আশ্রয়প্রার্থীদের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করার পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নেই। মানবিকতার চেয়ে এখানে নিয়ন্ত্রণকে বেশি প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে বলে তারা মনে করছেন।

আরো পড়ুন:- লিবিয়ায় বাংলাদেশের নতুন রাষ্ট্রদূত হাবীব উল্লাহর যোগদান

অভিবাসীদের মনে এখন চরম আতঙ্ক

ভবিষ্যৎ নিয়ে বাড়ছে দুশ্চিন্তা। ইউরোপজুড়ে থাকা নতুন আশ্রয়প্রার্থীদের মধ্যে এখন শুধুই হাহাকার আর অজানা ভবিষ্যতের চরম ভয়। অনেকেই না বুঝে বা পরিস্থিতির চাপে পড়ে কোনো এক দেশে ফিঙ্গারপ্রিন্ট দিয়ে ফেলেছেন। এখন তারা বুঝতে পারছেন, তাদের স্বপ্নের দেশ জার্মানি বা ফ্রান্সে যাওয়ার পথ চিরতরে রুদ্ধ। ভুলবশত দেওয়া একটি আঙুলের ছাপই এখন কাল হয়ে দাঁড়িয়েছে।

সময় থাকতে সাবধান হওয়া জরুরি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ইউরোপে আশ্রয় প্রক্রিয়ার এই জটিলতা দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব ফেলবে এবং পাচারকারীদের দৌরাত্ম্য বাড়াতে পারে। সদস্য রাষ্ট্রগুলো এখন ধাপে ধাপে এই নিয়ম কার্যকর করার প্রশাসনিক প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছে। যারা ইউরোপ যাওয়ার স্বপ্ন দেখছেন, তাদের জন্য প্রতিটি পদক্ষেপ এখন অনেক বেশি ঝুঁকিপূর্ণ। এই আইনি গোলকধাঁধায় পড়ে নিঃস্ব হওয়ার আশঙ্কা দিন দিন বাড়ছে। আরো জানতে ভিজিট করুন।

Leave a Comment